১৮/১. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৫৪১ - ভয়কালীন সালাতের পদ্ধতি
ভয়কালীন সালাতের পদ্ধতি: দুই দলের সালাতের শিক্ষা
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৫৪১
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১৫৪১
أَخْبَرَنِي عِمْرَانُ بْنُ بَكَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُبَارَكِ، قَالَ: أَنْبَأَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنْ الْعَلَاءِ، وَأَبِي أَيُّوبَ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ: «صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاةَ الْخَوْفِ قَامَ فَكَبَّرَ، فَصَلَّى خَلْفَهُ طَائِفَةٌ مِنَّا وَطَائِفَةٌ مُوَاجِهَةَ الْعَدُوِّ، فَرَكَعَ بِهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكْعَةً وَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ، ثُمَّ انْصَرَفُوا وَلَمْ يُسَلِّمُوا وَأَقْبَلُوا عَلَى الْعَدُوِّ، فَصَفُّوا مَكَانَهُمْ، وَجَاءَتِ الطَّائِفَةُ الْأُخْرَى فَصَفُّوا خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَصَلَّى بِهِمْ رَكْعَةً وَسَجْدَتَيْنِ، ثُمَّ سَلَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَدْ أَتَمَّ رَكْعَتَيْنِ وَأَرْبَعَ سَجَدَاتٍ»، ثُمَّ قَامَتِ الطَّائِفَتَانِ فَصَلَّى كُلُّ إِنْسَانٍ مِنْهُمْ لِنَفْسِهِ رَكْعَةً وَسَجْدَتَيْنِ قَالَ أَبُو بَكْرِ بْنُ السُّنِّيِّ: «الزُّهْرِيُّ سَمِعَ مِنْ ابْنِ عُمَرَ حَدِيثَيْنِ وَلَمْ يَسْمَعْ هَذَا مِنْهُ»---[حكم الألباني] صحيح لغيره
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (একবার) ভয়কালীন সালাত আদায় করলেন। তিনি দাঁড়ালেন ও তাকবির বললেন। তখন তাঁর পিছনে আমাদের একদল সালাত আদায় করল। আর অন্যদল শত্রুর মুখোমুখি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের নিয়ে একটি রুকূ' ও দু'টি সিজদাহ্ করলেন। তারপর তারা ফিরে গেল কিন্তু সালাম ফিরাল না ও শত্রুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গেল। আর তাদের স্থানে কাতারবন্দী হয়ে গেল। আর দ্বিতীয় দল এসে গেল এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পিছনে কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়িয়ে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের নিয়ে একটি রুকূ' এবং দু'টি সিজদাহ্ করলেন।অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাম ফিরালেন। ইত্যবসরে তিনি দু'টি রুকূ' এবং চারটি সিজদাহ্ পূর্ণ করে ফেললেন। তারপর উভয় দল দাঁড়িয়ে গেল এবং তাদের প্রত্যেকে নিজেদের একটি একটি রুকূ' এবং দু'টি সিজদাহ্ আদায় করে নিল।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৫৪১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ভয়কালীন সালাতের একটি পদ্ধতি এসেছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم সালাত শুরু করলেন, একদল সাহাবী তাঁর পেছনে দাঁড়ালেন, আর অন্যদল শত্রুর দিকে মুখ করে সতর্ক থাকলেন। প্রথম দল নবী صلى الله عليه وسلم-এর সাথে এক রুকু ও দুই সিজদা করল, তারপর সালাম না ফিরিয়ে শত্রুর মুখোমুখি গেল। এরপর দ্বিতীয় দল এসে নবী صلى الله عليه وسلم-এর পেছনে দাঁড়াল এবং তাঁর সাথে এক রুকু ও দুই সিজদা করল। নবী صلى الله عليه وسلم সালাম ফিরালেন, আর পরে উভয় দল নিজেদের বাকি অংশ আদায় করল। মূল শিক্ষা হলো, বিপদের সময়ও নামাজ ছাড়া হয় না; বরং সতর্কতা রেখে সালাত আদায় করা হয়। এখানে জামাত, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা—তিনটি বিষয়ই স্পষ্ট।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ভয়ের সময়ও সালাতের গুরুত্ব বজায় থাকে।
- জামাতে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা একসাথে রাখা যায়।
- শত্রুর মুখোমুখি অবস্থাতেও ইবাদতের প্রতি যত্ন রাখা হয়েছে।
- ইমামের অনুসরণ ভয়কালীন সালাতেও গুরুত্বপূর্ণ।
