২০/২৫. অধ্যায়ঃ

সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৬৬৫ - রমজানের দীর্ঘ রাতের সালাত

তাহাজ্জুদের সলাতে ক্বিয়াম, রুকূ‘, রুকূ‘র পরে দাঁড়ানো সাজদাহ্ এবং উভয় সাজদার মধ্যে বসায় সমতা রক্ষা করা

রমজানের দীর্ঘ রাতের সালাত ও রব্বিগফিরলী দোয়া

সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১৬৬৫

أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَنْبَأَنَا النَّضْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَرْوَزِيُّ ثِقَةٌ قَالَ: حَدَّثَنَا الْعَلَاءُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ يَزِيدَ الْأَنْصَارِيِّ، عَنْ حُذَيْفَةَ، أَنَّهُ صَلَّى مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي رَمَضَانَ فَرَكَعَ فَقَالَ فِي رُكُوعِهِ: «سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ» مِثْلَ مَا كَانَ قَائِمًا، ثُمَّ جَلَسَ يَقُولُ: «رَبِّ اغْفِرْ لِي، رَبِّ اغْفِرْ لِي» مِثْلَ مَا كَانَ قَائِمًا، ثُمَّ سَجَدَ فَقَالَ: «سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى» مِثْلَ مَا كَانَ قَائِمًا، فَمَا صَلَّى إِلَّا أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ، حَتَّى جَاءَ بِلَالٌ إِلَى الْغَدَاةِ، قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ: «هَذَا الْحَدِيثُ عِنْدِي مُرْسَلٌ، وَطَلْحَةُ بْنُ يَزِيدَ لَا أَعْلَمُهُ سَمِعَ مِنْ حُذَيْفَةَ شَيْئًا، وَغَيْرُ الْعَلَاءِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، قَالَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ، عَنْ طَلْحَةَ، عَنْ رَجُلٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ»

হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে এক রমযানে সালাত আদায় করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রুকূ' করলেন এবং রুকূ'তে বললেন “সুবহা-না রব্বিয়াল 'আযীম'; তাঁর রুকূ' প্রায় তাঁর দাঁড়ানো থাকার সমান ছিল। অতঃপর উভয় সিজদার মধ্যে বসে বললেন, "রব্বিগফিরলী, রব্বিগফিরলী" তাঁর বসে থাকা তাঁর ক্বিয়ামের সমপরিমাণ ছিল। অতঃপর সিজদা করলেন এবং বললেন, "সুবহা-না রব্বিয়াল আ'লা-" তাঁর সিজদাও তাঁর ক্বিয়ামের সমপরিমাণ ছিল। মাত্র চার রাক্'আত সালাত আদায় করলে বিলাল (রাঃ) এসে ফজর সালাতের খবর দিলেন।

আবু 'আবদুর রহমান (নাসায়ী) বলেন, আমার কাছে এ হাদীসটি মুরসাল। আমার জানা মতে ত্বলহাহ ইবনু ইয়াযীদ হুযায়ফাহ্ (রাঃ) হতে হাদীস শুনেননি। 'আলা ইবনুল মুসাইয়্যাব ব্যতীত অন্যরা এ হাদীস বর্ণনায় বলেছেন, ত্বলহাহ্ সূত্রে এক ব্যক্তির বরাতে হুযায়ফাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত।

সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৬৬৫-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রমজানের এক রাতের দীর্ঘ সালাতের বর্ণনা আছে। হুযাইফা (রাঃ)-এর সূত্রে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم রুকুতে “সুবহানা রব্বিয়াল আযীম” বলতেন এবং রুকু তাঁর কিয়ামের মতো দীর্ঘ হতো। দুই সিজদার মাঝের বৈঠকে তিনি “রব্বিগফিরলী, রব্বিগফিরলী” বলতেন। সেই বসাও দীর্ঘ ছিল। সিজদায় তিনি “সুবহানা রব্বিয়াল আ'লা” বলতেন এবং সিজদাও কিয়ামের কাছাকাছি দীর্ঘ হতো। এত দীর্ঘভাবে চার রাকাত আদায় করতে করতে বিলাল (রাঃ) ফজরের সময়ের খবর দিতে আসেন। তবে হাদিসটির শেষে ইমাম নাসায়ী সনদের সংযোগ নিয়ে আপত্তি করেছেন এবং এটিকে তাঁর কাছে মুরসাল বলেছেন। তাই রমজানের রাতের নামাজ, দীর্ঘ রুকু-সিজদা ও দুই সিজদার মাঝের দোয়া ব্যাখ্যা করার সময় এই সনদসংক্রান্ত মন্তব্য বাদ দেওয়া ঠিক হবে না।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • রুকুতে “সুবহানা রব্বিয়াল আযীম” পাঠের বর্ণনা এসেছে।
  • দুই সিজদার মাঝে “রব্বিগফিরলী” বলা হয়েছে।
  • রুকু, বৈঠক ও সিজদা দীর্ঘ হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
  • ইমাম নাসায়ী হাদিসটির সনদকে মুরসাল মনে করেছেন।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন