২০/২৫. অধ্যায়ঃ

সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৬৬৪ - দীর্ঘ তাহাজ্জুদ ও ধীর তিলাওয়াত

তাহাজ্জুদের সলাতে ক্বিয়াম, রুকূ‘, রুকূ‘র পরে দাঁড়ানো সাজদাহ্ এবং উভয় সাজদার মধ্যে বসায় সমতা রক্ষা করা

দীর্ঘ তাহাজ্জুদে ধীর কুরআন তিলাওয়াত ও দোয়া

সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১৬৬৪

أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنْ الْمُسْتَوْرِدِ بْنِ الْأَحْنَفِ، عَنْ صِلَةَ بْنِ زُفَرَ، عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ: صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْلَةً فَافْتَتَحَ الْبَقَرَةَ، فَقُلْتُ: يَرْكَعُ عِنْدَ الْمِائَةِ، فَمَضَى، فَقُلْتُ: يَرْكَعُ عِنْدَ الْمِائَتَيْنِ، فَمَضَى، فَقُلْتُ: يُصَلِّي بِهَا فِي رَكْعَةٍ، فَمَضَى، فَافْتَتَحَ النِّسَاءَ، فَقَرَأَهَا، ثُمَّ افْتَتَحَ آلَ عِمْرَانَ فَقَرَأَهَا، يَقْرَأُ مُتَرَسِّلًا إِذَا مَرَّ بِآيَةٍ فِيهَا تَسْبِيحٌ سَبَّحَ، وَإِذَا مَرَّ بِسُؤَالٍ سَأَلَ، وَإِذَا مَرَّ بِتَعَوُّذٍ تَعَوَّذَ، ثُمَّ رَكَعَ، فَقَالَ: «سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ»، فَكَانَ رُكُوعُهُ نَحْوًا مِنْ قِيَامِهِ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ، فَقَالَ: «سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ» فَكَانَ قِيَامُهُ قَرِيبًا مِنْ رُكُوعِهِ، ثُمَّ سَجَدَ فَجَعَلَ يَقُولُ: «سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى»، فَكَانَ سُجُودُهُ قَرِيبًا مِنْ رُكُوعِهِ

হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি একরাতে নবী (ﷺ)-এর সাথে সালাত আদায় করলাম। তিনি সূরা বাক্বারাহ্ শুরু করলেন, আমি মনে মনে বললাম যে, হয়তো তিনি একশত আয়াত পরিমাণ পাঠ করে রুকূ'তে যাবেন। কিন্তু তিনি তিলাওয়াত চালিয়ে যেতে থাকলেন, আমি মনে মনে বললাম, হয়তো তিনি দু' শত আয়াত পরিমাণ পাঠ করে রুকূ'তে যাবেন, কিন্তু তিনি পাঠ চালিয়ে যেতে থাকলেন। আমি মনে মনে বললাম, হয়তো তিনি পূর্ণ সূরা এক রাক্'আতেই পাঠ করে ফেলবেন। কিন্তু তিনি তিলাওয়াত চালিয়েই যেতে থাকলেন এবং সূরা আন্ নিসা শুরু করে তাও পাঠ করে ফেললেন। তারপর আ-লি 'ইমরান শুরু করে তাও তিলাওয়াত করে ফেললেন।তিনি ধীরে ধীরে পাঠ করতেন। যদি তিনি এমন কোন আয়াত পাঠ করতেন যাতে কোন তাসবীহ রয়েছে তবে তাসবীহ পড়তেন, যদি কোন যাচঞা করার আয়াত পাঠ করতেন তবে যাচঞা করতেন। যদি বিতাড়িত শয়তান হতে আশ্রয় প্রার্থনার কোন আয়াত পাঠ করতেন, তবে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন।অতঃপর রুকূ' করলেন এবং বললেন, "সুবহা-না রব্বিয়াল 'আযীম' তাঁর রুকূ' প্রায় তাঁর ক্বিয়ামের সমান হতো। পরে তাঁর মাথা উঠালেন এবং বললেন “সামি'আল্ল-হু লিমান হামিদাহ"। তাঁর দাঁড়ানো প্রায় তাঁর রুকূ'র সমান হতো। অতঃপর সিজদা করলেন এবং বললেন, "সুবহা-না রব্বিয়াল আ'লা-"। তাঁর সিজদা প্রায় তাঁর রুকূ'র সমান ছিল।

সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৬৬৪-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم-এর দীর্ঘ রাতের সালাতের একটি জীবন্ত বর্ণনা এসেছে। হুযাইফা (রাঃ) তাঁর সঙ্গে এক রাতে নামাজ পড়েন। নবী صلى الله عليه وسلم সূরা বাকারা শুরু করে তা শেষ করেন, এরপর সূরা নিসা এবং আলে ইমরানও পড়েন। তাঁর তিলাওয়াত ছিল ধীর ও স্পষ্ট গতির। তাসবীহের আয়াত এলে তিনি আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করতেন, প্রার্থনার আয়াত এলে চাইতেন, আর আশ্রয় চাওয়ার আয়াত এলে আল্লাহর আশ্রয় চাইতেন। এরপর রুকুতে “সুবহানা রব্বিয়াল আযীম”, রুকু থেকে উঠে “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ” এবং সিজদায় “সুবহানা রব্বিয়াল আ'লা” বলতেন। কিয়াম, রুকু, দাঁড়ানো ও সিজদা ছিল দীর্ঘ এবং কাছাকাছি সময়ের। হাদিসটি তাহাজ্জুদ, ধীর কুরআন তিলাওয়াত, আয়াত বুঝে সাড়া দেওয়া এবং সালাতের অঙ্গগুলোতে ধীরস্থিরতার স্পষ্ট ছবি তুলে ধরে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • নবী صلى الله عليه وسلم রাতের সালাতে দীর্ঘ কুরআন তিলাওয়াত করেছেন।
  • তিনি ধীরে ধীরে কুরআন পড়তেন এবং আয়াতের অর্থ অনুযায়ী সাড়া দিতেন।
  • রুকু, রুকুর পর দাঁড়ানো ও সিজদা দীর্ঘ ছিল।
  • রুকু ও সিজদায় নির্দিষ্ট তাসবীহ পাঠের বর্ণনা এসেছে।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন