২০/২৪. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৬৬৩ - প্রকাশ্য ও গোপন কুরআন তিলাওয়াত
উচ্চৈঃস্বরে কুরআন তিলাওয়াত করার চাইতে নিম্নস্বরে কুরআন তিলাওয়াত করার ফাযীলাত
উচ্চস্বরে ও গোপনে কুরআন তিলাওয়াতের হাদিস
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৬৬৩
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১৬৬৩
أَخْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بَكَّارِ بْنِ بِلَالٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ يَعْنِي ابْنَ سُمَيْعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا زَيْدٌ يَعْنِي ابْنَ وَاقِدٍ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ مُرَّةَ، أَنَّ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ حَدَّثَهُمْ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ الَّذِي يَجْهَرُ بِالْقُرْآنِ كَالَّذِي يَجْهَرُ بِالصَّدَقَةِ، وَالَّذِي يُسِرُّ بِالْقُرْآنِ كَالَّذِي يُسِرُّ بِالصَّدَقَةِ»
‘উক্ববাহ্ ইবনু ‘আমির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি (স্থান-কালভেদে) উচ্চৈঃস্বরে কোরআন পাঠ করে, সে ঐ ব্যক্তির মতো, যে প্রকাশ্যে দান খয়রাত করে। আর যে ব্যক্তি নিম্নস্বরে কোরআন পাঠ করে সে ঐ ব্যক্তির ন্যায়, যে গোপনে দান খয়রাত করে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৬৬৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কুরআন তিলাওয়াতের দুই ধরনের প্রকাশভঙ্গিকে দানের দুই ধরনের পদ্ধতির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। যে ব্যক্তি উচ্চস্বরে কুরআন পড়ে, তাকে প্রকাশ্যে দানকারীর মতো বলা হয়েছে। আর যে ব্যক্তি নিম্নস্বরে কুরআন পড়ে, তাকে গোপনে দানকারীর মতো বলা হয়েছে। এখানে সরাসরি বলা হয়নি যে একটি পদ্ধতি সব অবস্থায় ভালো এবং অন্যটি সব অবস্থায় খারাপ। বরং তুলনার মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, কুরআন পাঠ প্রকাশ্যও হতে পারে, গোপনও হতে পারে—যেমন দান প্রকাশ্যে বা গোপনে করা হয়। তাই উচ্চস্বরে কুরআন পড়া এবং নিম্নস্বরে কুরআন তিলাওয়াত বিষয়ে অতিরঞ্জিত সিদ্ধান্ত না নিয়ে হাদিসের ভাষার মধ্যেই থাকা উচিত। পাঠকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের তিলাওয়াতের ধরন সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং হাদিসে দেওয়া প্রকাশ্য ও গোপন দানের উপমাটি ঠিকভাবে বোঝা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- উচ্চস্বরে কুরআন পাঠকে প্রকাশ্য দানের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
- নিম্নস্বরে কুরআন পাঠকে গোপন দানের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
- হাদিসটি কোনো এক পদ্ধতিকে সব অবস্থায় বাধ্যতামূলক বলেনি।
- কুরআন তিলাওয়াতে প্রকাশের ধরন সম্পর্কে সচেতন থাকা দরকার।
