২১/১০. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৮৩৪ - আল্লাহর সাক্ষাৎ পছন্দ করার সঠিক অর্থ
যে ব্যক্তি আল্লাহ তা‘আলার সাথে সাক্ষাৎ পছন্দ করে
আল্লাহর সাক্ষাৎ পছন্দ করা মানে কী? আয়িশা (রাঃ)-এর ব্যাখ্যা
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৮৩৪
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১৮৩৪
أَخْبَرَنَا هَنَّادٌ، عَنْ أَبِي زُبَيْدٍ وَهُوَ عَبْثَرُ بْنُ الْقَاسِمِ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ عَامِرٍ، عَنْ شُرَيْحِ بْنِ هَانِئٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ أَحَبَّ لِقَاءَ اللَّهِ أَحَبَّ اللَّهُ لِقَاءَهُ، وَمَنْ كَرِهَ لِقَاءَ اللَّهِ كَرِهَ اللَّهُ لِقَاءَهُ»، قَالَ شُرَيْحٌ: فَأَتَيْتُ عَائِشَةَ، فَقُلْتُ: يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ، سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَذْكُرُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدِيثًا إِنْ كَانَ كَذَلِكَ فَقَدْ هَلَكْنَا، قَالَتْ: وَمَا ذَاكَ؟ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ أَحَبَّ لِقَاءَ اللَّهِ أَحَبَّ اللَّهُ لِقَاءَهُ، وَمَنْ كَرِهَ لِقَاءَ اللَّهِ كَرِهَ اللَّهُ لِقَاءَهُ»، وَلَكِنْ لَيْسَ مِنَّا أَحَدٌ إِلَّا وَهُوَ يَكْرَهُ الْمَوْتَ، قَالَتْ: «قَدْ قَالَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَيْسَ بِالَّذِي تَذْهَبُ إِلَيْهِ، وَلَكِنْ إِذَا طَمَحَ الْبَصَرُ، وَحَشْرَجَ الصَّدْرُ، وَاقْشَعَرَّ الْجِلْدُ فَعِنْدَ ذَلِكَ مَنْ أَحَبَّ لِقَاءَ اللَّهِ أَحَبَّ اللَّهُ لِقَاءَهُ، وَمَنْ كَرِهَ لِقَاءَ اللَّهِ كَرِهَ اللَّهُ لِقَاءَهُ»
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার সাক্ষাৎ পছন্দ করে আল্লাহ তা'আলাও তার সাক্ষাৎ পছন্দ করেন, আর যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার সাক্ষাৎ পছন্দ করে না আল্লাহ তা'আলাও তার সাক্ষাৎ পছন্দ করেন না। রাবী সুরায়হ্ (রহঃ) বলেন, আমি 'আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর কাছে এসে তাঁকে বললাম, “হে উম্মুল মু'মিনীন! আমি আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে একটি হাদীস উল্লেখ করতে শুনেছি, উক্ত হাদীসের বর্ণনা যদি সঠিক হয় তবে তো আমরা নিশ্চিতরূপে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে যাব।'আয়িশাহ্ (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, সেটা কি? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার সাক্ষাৎ পছন্দ করে আল্লাহ তা'আলাও তার সাক্ষাৎ পছন্দ করেন, আর যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার সাক্ষাৎ অপছন্দ করে আল্লাহ তা'আলাও তার সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন।” অথচ আমাদের মাঝে এমন কেউ নেই যে, মৃত্যুকে অপছন্দ করে থাকে না।'আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অবশ্যই এ কথা বলেছেন, কিন্তু তুমি যা বুঝেছো তার অর্থ তা নয়, বরং যখন দৃষ্টি ঊর্ধ্বমুখী হয়ে যায়, হৃদয়ে স্পন্দন বেড়ে যায় এবং পশমসমূহ দাঁড়িয়ে যায় [শরীর রোমাঞ্চিত হয়ে ওঠে। ওই সংকটময় মুহূর্তে যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার সাক্ষাৎ পছন্দ করে আল্লাহ তা'আলাও তার সাক্ষাৎ পছন্দ করেন, আর যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার সাক্ষাৎ অপছন্দ করে আল্লাহ তা'আলাও তার সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৮৩৪-এর সারসংক্ষেপ
রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যে আল্লাহর সাক্ষাৎ পছন্দ করে, আল্লাহও তার সাক্ষাৎ পছন্দ করেন; আর যে অপছন্দ করে, আল্লাহও তার সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন। শুরাইহ (রহঃ) এই হাদিস শুনে ভয় পেয়েছিলেন, কারণ সাধারণভাবে মানুষ মৃত্যুকে অপছন্দ করে। আয়িশা (রাঃ) ভুল বোঝাবুঝি দূর করে বলেন, বিষয়টি সাধারণ মৃত্যুভয়ের কথা নয়। বরং মৃত্যুর সংকটময় শেষ মুহূর্তের কথা, যখন দৃষ্টি ঊর্ধ্বমুখী হয়, বুকে শব্দ ওঠে এবং শরীর রোমাঞ্চিত হয়। তখন আল্লাহর সাক্ষাৎ গ্রহণ বা অপছন্দের বিষয়টি প্রযোজ্য। এই ব্যাখ্যা খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ হাদিসটি পড়ে সাধারণ মৃত্যুভয়কে ঈমানহীনতার লক্ষণ ভাবা ঠিক নয়। সঠিক অর্থ বুঝতে বর্ণনার পূর্ণ অংশ পড়া দরকার। ফলে হাদিসটির ব্যাখ্যা না জেনে শুধু প্রথম বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া বিভ্রান্তির কারণ হতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাধারণভাবে মৃত্যুকে অপছন্দ করা আর আল্লাহর সাক্ষাৎ অপছন্দ করা এক নয়।
- হাদিসটি মৃত্যুর শেষ সংকটময় মুহূর্তের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- আয়িশা (রাঃ) ভুল বোঝাবুঝি সরাসরি দূর করেছেন।
- একটি হাদিসের পূর্ণ ব্যাখ্যা না জেনে ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
