২২/৪২. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২২১৬ - রোজার আদব, ঝগড়া থেকে বিরত থাকা ও দুই আনন্দ
এ হাদীসের বর্ণনায় আবু সালিহ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনাকারীদের বর্ণনায় মতভেদ উল্লেখ
রোজার আদব: অশ্লীলতা ও ঝগড়া এড়িয়ে সিয়াম রক্ষা
সুনানে আন-নাসায়ী : ২২১৬
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২২১৬
أَخْبَرَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَسَنِ، عَنْ حَجَّاجٍ، قَالَ: قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ: أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ الزَّيَّاتِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ إِلَّا الصِّيَامَ هُوَ لِي، وَأَنَا أَجْزِي بِهِ، وَالصِّيَامُ جُنَّةٌ، إِذَا كَانَ يَوْمُ صِيَامِ أَحَدِكُمْ فَلَا يَرْفُثْ وَلَا يَصْخَبْ، فَإِنْ شَاتَمَهُ أَحَدٌ أَوْ قَاتَلَهُ، فَلْيَقُلْ: إِنِّي صَائِمٌ. وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ. لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ يَفْرَحُهُمَا إِذَا أَفْطَرَ فَرِحَ بِفِطْرِهِ، وَإِذَا لَقِيَ رَبَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فَرِحَ بِصَوْمِهِ»
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ সালিহ আয যাইয়্যাত (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: বানী আদামের প্রত্যেক নেক কাজ তার নিজের জন্য [কেননা সব কাজের প্রতিদান তাকে দেয়া হয়]। কিন্তু সাওম আমারই জন্য [আল্লাহর জন্য] এবং আমি নিজেই তার প্রতিদান দিব। সাওম ঢাল স্বরূপ। তোমাদের মধ্যে কেউ যখন সাওম পালন করে, তখন সে যেন অশ্লীল বাক্য ব্যবহার না করে এবং উচ্চৈঃস্বরে কথা না বলে এবং কারো ওপর ক্রোধান্বিত না হয়। যদি কেউ তাকে গালি দেয় বা গায়ে পড়ে ঝগড়া করতে আসে তখন সে যেন বলে, আমি সাওম পালন করছি।ঐ সত্তার কসম যাঁর পবিত্র হাতে মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর প্রাণ। সাওম পালনকারীর [ক্ষুধাজনিত কারণে। মুখের দুর্গন্ধ মহান ও মহীয়ান আল্লাহর কাছে কস্তুরীর সুগন্ধি থেকেও পছন্দনীয়। সাওম পালনকারীর জন্য দু'টি আনন্দ রয়েছে- যার দ্বারা সে আনন্দিত হবে। স্বীয় ইফতারের সময় সে আনন্দিত হবে এবং তার রবের সাথে সাক্ষাৎ করার সময় আনন্দিত হবে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২২১৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিস রোজার ফজিলতের পাশাপাশি রোজার আদবও স্পষ্ট করে। আল্লাহ বলেন, সিয়াম তাঁর জন্য এবং তিনিই এর প্রতিদান দেবেন। রোজাকে ঢাল বলা হয়েছে। তাই রোজার দিনে শুধু খাবার ও পানীয় থেকে বিরত থাকাই নয়, অশ্লীল কথা, উচ্চস্বরে ঝগড়া এবং রাগের আচরণ থেকেও দূরে থাকতে হবে। কেউ গালি দিলে বা লড়াই করতে এলে রোজাদার বলবে, ‘আমি রোজা পালন করছি।’ এই কথা নিজের মনকে থামায় এবং অন্যজনকেও সীমা মনে করিয়ে দেয়। হাদিসে রোজাদারের মুখের গন্ধের মর্যাদা ও দুটি আনন্দের কথাও আছে—ইফতারের আনন্দ এবং রবের সঙ্গে সাক্ষাতের আনন্দ। ফলে রোজার আদব হলো সংযম, শান্ত আচরণ ও আল্লাহর প্রতিদানের আশা একসঙ্গে ধরে রাখা। এই দিকটি আমলকে আরও সচেতন ও অর্থপূর্ণ করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রোজার দিনে অশ্লীল কথা ও চিৎকার এড়িয়ে চলতে হবে।
- গালি বা ঝগড়ার জবাবে ‘আমি রোজাদার’ বলে নিজেকে থামানো উচিত।
- রোজা ঢাল স্বরূপ এবং আচরণকে সংযত করে।
- রোজাদারের ইফতার ও রবের সাক্ষাতে দুটি আনন্দ রয়েছে।
