২২/৪২. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২২১৭ - রোজা ঢাল ও ঝগড়া এড়ানোর শিক্ষা
এ হাদীসের বর্ণনায় আবু সালিহ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনাকারীদের বর্ণনায় মতভেদ উল্লেখ
রোজা রেখে ঝগড়া নয়: সিয়ামকে ঢাল বানানোর উপায়
সুনানে আন-নাসায়ী : ২২১৭
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২২১৭
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، قَالَ: أَنْبَأَنَا سُوَيْدٌ، قَالَ: أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ الزَّيَّاتُ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ إِلَّا الصِّيَامَ هُوَ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ، الصِّيَامُ جُنَّةٌ، فَإِذَا كَانَ يَوْمُ صَوْمِ أَحَدِكُمْ فَلَا يَرْفُثْ، وَلَا يَصْخَبْ، فَإِنْ شَاتَمَهُ أَحَدٌ أَوْ قَاتَلَهُ، فَلْيَقُلْ: إِنِّي امْرُؤٌ صَائِمٌ. وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ، لَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ«وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَسَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ»
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
'আত্বা আয যাইয়্যাত (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহ তা'আলা বলেন : বানী আদামের প্রত্যেক নেক কাজ তারই। [কেননা নেক কাজের প্রতিদান তাকে দিয়ে দেয়া হয়] কিন্তু সাওম একমাত্র আমারই জন্য এবং আমি নিজেই তার প্রতিদান দিব।সাওম ঢাল স্বরূপ। তোমাদের মাঝে কেউ যখন সাওম পালন করে, তখন সে যেন অশ্লীল বাক্য ব্যবহার না করে, উচ্চৈঃস্বরে কথা না বলে, কারো ওপর ক্রোধান্বিত না হয়। যদি কেউ তাকে গালি দেয় বা গায়ে পড়ে ঝগড়া করতে আসে তখন সে যেন বলে, আমি সাওম পালন করছি। ঐ সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর প্রাণ, আল্লাহ তা'আলার নিকট সাওম পালনকারীর [ক্ষুধাজনিত কারণে নির্গত] মুখের দুর্গন্ধ কস্তুরীর সুগন্ধি থেকেও বেশি পছন্দনীয়।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২২১৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সাওমের বিশেষ মর্যাদা ও রোজাদারের আচরণ একসঙ্গে শেখানো হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, মানুষের অন্য নেক কাজের প্রতিদান তাকে দেওয়া হয়, কিন্তু সাওম তাঁর জন্য এবং তিনিই এর প্রতিদান দেবেন। এরপর রোজাকে ঢাল বলা হয়েছে। এই ঢাল রক্ষা করতে রোজার দিনে অশ্লীল কথা, চেঁচামেচি ও রাগের আচরণ ছেড়ে দিতে হবে। কেউ গালি দিলে বা ঝগড়ায় টানলে রোজাদার বলবে, ‘আমি রোজা পালন করছি।’ এতে প্রতিশোধের বদলে আত্মসংযম বেছে নেওয়া হয়। হাদিসে রোজাদারের মুখের গন্ধকেও আল্লাহর কাছে কস্তুরীর সুগন্ধির চেয়ে বেশি পছন্দনীয় বলা হয়েছে। তাই রোজা শুধু শরীরের বিরতি নয়; মুখ, কণ্ঠ ও রাগ নিয়ন্ত্রণেরও ইবাদত। এই দিকটি আমলকে আরও সচেতন ও অর্থপূর্ণ করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাওম আল্লাহর জন্য বিশেষ আমল।
- রোজাকে ঢাল হিসেবে রক্ষা করতে আচরণ সংযত রাখা দরকার।
- অশ্লীল কথা, চিৎকার ও ঝগড়া এড়িয়ে চলতে হবে।
- উসকানির সময় ‘আমি রোজাদার’ বলা আত্মসংযমের স্মরণ করায়।
