২২/৪৩. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২২৩৪ - রোজায় ঝগড়া-গালি এড়িয়ে চলার শিক্ষা
সওম পালনকারীর ফাযীলাত সম্পর্কে আবু উমামাহ্ (রাঃ)-এর হাদীসে মুহাম্মাদ ইবনু আবূ ইয়া‘কূব (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনাকারীদের বর্ণনা পার্থক্য
রোজায় ঝগড়া ও গালি নয়: সাওমের আদব
সুনানে আন-নাসায়ী : ২২৩৪
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২২৩৪
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الْآدَمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَعْنٌ، عَنْ خَارِجَةَ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ رُومَانَ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «الصِّيَامُ جُنَّةٌ مِنَ النَّارِ، فَمَنْ أَصْبَحَ صَائِمًا، فَلَا يَجْهَلْ يَوْمَئِذٍ، وَإِنِ امْرُؤٌ جَهِلَ عَلَيْهِ فَلَا يَشْتُمْهُ وَلَا يَسُبَّهُ، وَلْيَقُلْ إِنِّي صَائِمٌ، وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ، لَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ»
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে নাবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (ﷺ) বলেছেন: সাওম জাহান্নামের আগুনে ঢালস্বরূপ। তাই-যে ব্যক্তির সাওম পালনরত অবস্থায় সকাল করে সে যেন অজ্ঞ ব্যক্তির মতো আচরণ না করে। অন্য কেউ যদি তার সাথে অজ্ঞ ব্যক্তির মতো আচরণ করে তবে সে যেন তার সাথে অশ্লীল বাক্য ব্যবহার না করে এবং গালি না দেয়। বরং সে যেন বলে, আমি সাওম পালন করছি। ঐ সত্তার শপথ যার হাতে মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর প্রাণ, সাওম পালনকারীর মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহ তা'আলার নিকট কস্তুরির সুগন্ধি থেকে বেশি পছন্দনীয়।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২২৩৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সাওমকে জাহান্নামের আগুনের ঢাল বলা হয়েছে এবং রোজাদারের আচরণ কেমন হবে, তা পরিষ্কারভাবে শেখানো হয়েছে। সাওম অবস্থায় কেউ অজ্ঞের মতো আচরণ করবে না। অন্য ব্যক্তি খারাপ ব্যবহার করলে রোজাদার অশ্লীল কথা বা গালি দিয়ে জবাব দেবে না; বরং বলবে, “আমি সাওম পালন করছি।” তাই এখানে রোজার আদব, রাগ নিয়ন্ত্রণ এবং কথার সংযম—সবই মূল বিষয়ের অংশ। হাদিসের শেষে রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মিশকের ঘ্রাণের চেয়ে বেশি পছন্দনীয় বলে এসেছে। এই বক্তব্য রোজাদারের কষ্ট ও ইবাদতের মর্যাদা তুলে ধরে। বর্ণনাটি দেখায়, সাওম শুধু পানাহার বর্জন নয়; দিনের আচরণেও তার প্রভাব থাকা দরকার। ঝগড়ার মুহূর্তে সাওম স্মরণ করা শান্ত থাকার বাস্তব উপায় হিসেবে শেখানো হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রোজাদার অজ্ঞের মতো আচরণ করবে না।
- গালি বা অশ্লীল কথার জবাবে একই ভাষা ব্যবহার করা যাবে না।
- বিরোধের সময় ‘আমি সাওম পালন করছি’ বলে নিজেকে সংযত রাখতে হবে।
- রোজাদারের মুখের গন্ধের বিশেষ মর্যাদা হাদিসে উল্লেখ হয়েছে।
