২২/৭৬. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৩৯১ - শরীর, চোখ, স্ত্রী ও মেহমানের হক
একদিন সওম রাখা এবং একদিন সওম না রাখা, আর এ প্রসঙ্গে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্র (রাঃ)-এর হাদীস বর্ণনায় রাবীদের শব্দ বর্ণনায় পার্থক্য উল্লেখ
শরীর ও পরিবারের হক: নফল রোজা ও রাতের সালাতে ভারসাম্য
সুনানে আন-নাসায়ী : ২৩৯১
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২৩৯১
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ دُرُسْتَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو إِسْمَعِيلَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، أَنَّ أَبَا سَلَمَةَ، حَدَّثَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ، قَالَ: دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حُجْرَتِي، فَقَالَ: «أَلَمْ أُخْبَرْ أَنَّكَ تَقُومُ اللَّيْلَ وَتَصُومُ النَّهَارَ»،قَالَ: بَلَى، قَالَ: «فَلَا تَفْعَلَنَّ، نَمْ وَقُمْ، وَصُمْ وَأَفْطِرْ، فَإِنَّ لِعَيْنِكَ عَلَيْكَ حَقًّا، وَإِنَّ لِجَسَدِكَ عَلَيْكَ حَقًّا، وَإِنَّ لِزَوْجَتِكَ عَلَيْكَ حَقًّا، وَإِنَّ لِضَيْفِكَ عَلَيْكَ حَقًّا، وَإِنَّ لِصَدِيقِكَ عَلَيْكَ حَقًّا، وَإِنَّهُ عَسَى أَنْ يَطُولَ بِكَ عُمُرٌ، وَإِنَّهُ حَسْبُكَ أَنْ تَصُومَ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلَاثًا، فَذَلِكَ صِيَامُ الدَّهْرِ كُلِّهِ، وَالْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا»، قُلْتُ: إِنِّي أَجِدُ قُوَّةً، فَشَدَّدْتُ، فَشُدِّدَ عَلَيَّ، قَالَ: «صُمْ مِنْ كُلِّ جُمُعَةٍ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ»، قُلْتُ: إِنِّي أُطِيقُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ، فَشَدَّدْتُ، فَشُدِّدَ عَلَيَّ، قَالَ: «صُمْ صَوْمَ نَبِيِّ اللَّهِ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلَامُ»، قُلْتُ: وَمَا كَانَ صَوْمُ دَاوُدَ، قَالَ: «نِصْفُ الدَّهْرِ»
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার কামরায় প্রবেশ করে বললেন, নিশ্চিতভাবে আমাকে অবহিত করা হয়েছে যে, তুমি নাকি সারা রাত সালাত আদায় কর এবং সারাদিন সাওম পালন কর? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন তিনি (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)) বললেন, তুমি কখনো আর এমন করবে না বরং কিছুক্ষণ ঘুমাবে। আর কিছুক্ষণ সালাত আদায় করবে এবং কখনো কখনো সাওম পালন করবে আবার কখনো সাওম ত্যাগ করবে। কেননা তোমার ওপর তোমার চোখের হক রয়েছে, তোমার ওপর তোমার শরীরের হক রয়েছে, তোমার স্ত্রীর তোমার হক রয়েছে, তোমার ওপর তোমার মেহমানের হক রয়েছে, তোমার ওপর তোমার বন্ধুর হক রয়েছে।আশা করি, তুমি দীর্ঘজীবী হবে। তোমার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, তুমি প্রত্যেক মাসে তিনদিন সাওম পালন করবে। এটাই সারা বছর সাওম পালন করার সমান হবে। প্রত্যেক ভাল কাজের জন্য দশ দশ গুণ সাওয়াব রয়েছে। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক সামর্থ্য রাখি। আমি কঠোরতা অবলম্বন করতে চাইলে তিনি তার অনুমতি দিলেন। তিনি বললেন, তুমি সপ্তাহে তিনদিন সাওম পালন করবে। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম পালনের সামর্থ্য রাখি। আমি কঠোরতা অবলম্বন করতে চাইলে তিনি তার অনুমতি দিলেন। তিনি বললেন, তুমি আল্লাহর নবী দাউদ (আঃ)-এর ন্যায় সাওম পালন কর। আমি জিজ্ঞেস করলাম, দাউদ (আঃ)-এর সাওম কিরূপ ছিল? তিনি (ﷺ) বললেন, বছরের অর্ধেক সময়।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৩৯১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে সারা রাত সালাত ও সারাদিন রোজা চালিয়ে যেতে নিষেধ করেন। তিনি বলেন, কিছু সময় ঘুমাতে, কিছু সময় সালাত আদায় করতে, কখনো সাওম রাখতে এবং কখনো ইফতার করতে। কারণ চোখ, শরীর, স্ত্রী, মেহমান ও বন্ধুরও হক আছে। এরপর প্রতি মাসে তিন দিন রোজাকে যথেষ্ট বলা হয় এবং প্রতিটি ভালো কাজের দশ গুণ সওয়াবের কারণে তা সারা বছরের রোজার সমান বলে বোঝানো হয়। বেশি সামর্থ্যের কথা বললে ধাপে ধাপে আরও রোজার অনুমতি দেওয়া হয়, শেষে দাউদ (আ.)-এর রোজা—অর্ধেক বছর—বলা হয়। হাদিসটি ইবাদতের সঙ্গে সব হক রক্ষার স্পষ্ট শিক্ষা দেয়। এই হকগুলো একসঙ্গে রক্ষা করাই হাদিসের ভারসাম্যপূর্ণ নির্দেশনার অংশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- চোখ, শরীর, স্ত্রী, মেহমান ও বন্ধুর হক রক্ষা করতে হবে।
- সালাতের পাশাপাশি ঘুম এবং রোজার পাশাপাশি ইফতারও প্রয়োজন।
- প্রতি মাসে তিন দিন রোজা সারা বছরের সাওমের সমান বলা হয়েছে।
- দাউদ (আ.)-এর সাওম বছরে অর্ধেক সময় রোজা।
