২২/৭৮. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৩৯৯ - অতিরিক্ত রোজা ও রাতজাগায় শরীরের দুর্বলতা
মাসে দশদিন সওম পালন করা এবং এ বিষয়ে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্র (রাঃ)-এর হাদীস বর্ণনাকারীদের বর্ণনায় শব্দগত পার্থক্য
অতিরিক্ত রোজার ক্ষতি: মাসে তিন দিন ও দাউদী সাওম
সুনানে আন-নাসায়ী : ২৩৯৯
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২৩৯৯
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: أَخْبَرَنِي حَبِيبُ بْنُ أَبِي ثَابِتٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا الْعَبَّاسِ، هُوَ الشَّاعِرُ، يُحَدِّثُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو، إِنَّكَ تَصُومُ الدَّهْرَ، وَتَقُومُ اللَّيْلَ، وَإِنَّكَ إِذَا فَعَلْتَ ذَلِكَ هَجَمَتْ الْعَيْنُ، وَنَفِهَتْ لَهُ النَّفْسُ، لَا صَامَ مَنْ صَامَ الْأَبَدَ صَوْمُ الدَّهْرِ، ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ مِنَ الشَّهْرِ صَوْمُ الدَّهْرِ كُلِّهِ»، قُلْتُ: إِنِّي أُطِيقُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ، قَالَ: «صُمْ صَوْمَ دَاوُدَ، كَانَ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا، وَلَا يَفِرُّ إِذَا لَاقَى»
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : হে 'আবদুল্লাহ ইবনু 'আম্র! তুমি নাকি পুরো বছর সাওম পালন কর এবং সারা রাত সালাত আদায় কর? তুমি যদি এভাবে করতে থাক তবে তোমার চক্ষু কোটরাগত হয়ে যাবে এবং শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। যে সারা বছর সিয়াম পালন করে সে মূলত সিয়ামই পালন করে না। সারা জীবনের সাওম হল প্রতি মাসে তিনদিন সাওম পালন করা। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওমই পালন করার সামর্থ্য রাখি। তিনি (ﷺ) বললেন, তাহলে তুমি দাউদ (আঃ)-এর সাওমই পালন কর- তিনি একদিন সাওম পালন করতেন আর একদিন সাওম ত্যাগ করতেন। আর [শত্রুর] সাক্ষাতে তিনি পলায়ন করতেন না।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৩৯৯-এর সারসংক্ষেপ
রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ)-কে বলেন, সারা বছর রোজা ও সারা রাত সালাত চালিয়ে গেলে চোখ কোটরাগত হবে এবং শরীর দুর্বল হয়ে পড়বে। তিনি আরও বলেন, যে সারা বছর বিরতিহীন রোজা রাখে, সে মূলত সাওম রাখেনি। এরপর প্রতি মাসে তিন দিন রোজাকে সারা জীবনের সাওমের সমান বলা হয়। আবদুল্লাহ (রাঃ) বেশি সামর্থ্যের কথা জানালে তাকে দাউদ (আ.)-এর সাওমের নির্দেশ দেওয়া হয়—এক দিন রোজা, এক দিন বিরতি। বর্ণনায় আরও বলা হয়েছে, দাউদ (আ.) শত্রুর মুখোমুখি হলে পালাতেন না। মূল শিক্ষা হলো, ইবাদতের আগ্রহ যেন শরীরকে ভেঙে না দেয় এবং নফল রোজায় বিরতি বজায় থাকে। এতে স্বাস্থ্য রক্ষা ও ইবাদত—দুটোকেই একসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অতিরিক্ত রাতজাগা ও বিরতিহীন রোজা চোখ ও শরীর দুর্বল করতে পারে।
- প্রতি মাসে তিন দিন রোজাকে সারা বছরের সাওমের সমান বলা হয়েছে।
- দাউদ (আ.)-এর সাওম এক দিন রোজা ও এক দিন বিরতি।
- ইবাদতে শরীরের সামর্থ্য ও বিশ্রাম বিবেচনা করা দরকার।
