২২/৭৮. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৪০০ - কুরআন খতম ও দাউদ (আ.)-এর সাওম
মাসে দশদিন সওম পালন করা এবং এ বিষয়ে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্র (রাঃ)-এর হাদীস বর্ণনাকারীদের বর্ণনায় শব্দগত পার্থক্য
কুরআন খতম ও নফল রোজা: সামর্থ্য অনুযায়ী ভারসাম্য
সুনানে আন-নাসায়ী : ২৪০০
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২৪০০
خْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي الْعَبَّاسِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اقْرَأِ الْقُرْآنَ فِي شَهْرٍ»، قُلْتُ: إِنِّي أُطِيقُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ، فَلَمْ أَزَلْ أَطْلُبُ إِلَيْهِ حَتَّى قَالَ: «فِي خَمْسَةِ أَيَّامٍ»، وَقَالَ: «صُمْ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنَ الشَّهْرِ»، قُلْتُ: إِنِّي أُطِيقُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكِ، فَلَمْ أَزَلْ أَطْلُبُ إِلَيْهِ حَتَّى قَالَ: «صُمْ أَحَبَّ الصِّيَامِ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ صَوْمَ دَاوُدَ، كَانَ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا»
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন : তুমি মাসে একবার কোরআন খতম কর। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক সামর্থ্য রাখি। আমি তাঁর কাছে আরো বাড়ানোর আবেদন করতে থাকলে শেষ পর্যন্ত তিনি আমাকে পাঁচ দিনে কোরআন খতম করতে বললেন। তিনি (ﷺ) আরো বললেন, তুমি মাসে তিনদিন সাওম পালন কর। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক সামর্থ্য রাখি। আমি তাঁর কাছে আরো বাড়ানোর আবেদন করতে থাকলে শেষ পর্যন্ত তিনি আমাকে আল্লাহ তা'আলার নিকট সর্বোত্তম সাওম দাউদ (আঃ)-এর সাওম পালন করতে বললেন। তিনি একদিন সাওম পালন করতেন এবং একদিন সাওম ত্যাগ করতেন।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৪০০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কুরআন তিলাওয়াত ও নফল রোজা—দুই আমলের সময়সূচি এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) প্রথমে মাসে একবার কুরআন খতম করতে বলেন। আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) বেশি সামর্থ্যের কথা জানালে ধাপে ধাপে সময় কমিয়ে শেষ পর্যন্ত পাঁচ দিনে খতম করার কথা বলেন। একইভাবে প্রথমে প্রতি মাসে তিন দিন সাওমের নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি আরও বেশি করতে চাইলে শেষে আল্লাহর নিকট প্রিয় সাওম হিসেবে দাউদ (আ.)-এর রোজার কথা বলা হয়—এক দিন রোজা ও এক দিন বিরতি। হাদিসটি দেখায়, বেশি ইবাদতের ইচ্ছা থাকলেও একটি নির্দিষ্ট সীমা ও নিয়ম আছে। কুরআন খতম ও রোজা—দুটোতেই ধারাবাহিকতা, সামর্থ্য এবং ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন। ফলে একসঙ্গে অনেক আমল করলেও প্রতিটির জন্য সহনীয় সময় রাখা শেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরআন মাসে একবার খতম করার প্রাথমিক নির্দেশ এসেছে।
- বেশি সামর্থ্যের ক্ষেত্রে পাঁচ দিনে খতমের সীমা উল্লেখ করা হয়েছে।
- প্রতি মাসে তিন দিন নফল রোজার কথা বলা হয়েছে।
- দাউদ (আ.)-এর সাওম এক দিন রোজা ও এক দিন বিরতি।
