২২/৭৬. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৩৯৩ - সোম ও বৃহস্পতিবারের রোজা থেকে দাউদী সাওম
একদিন সওম রাখা এবং একদিন সওম না রাখা, আর এ প্রসঙ্গে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্র (রাঃ)-এর হাদীস বর্ণনায় রাবীদের শব্দ বর্ণনায় পার্থক্য উল্লেখ
সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোজা এবং দাউদ (আ.)-এর সাওম
সুনানে আন-নাসায়ী : ২৩৯৩
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২৩৯৩
أَخْبَرَنِي أَحْمَدُ بْنُ بَكَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ وَهُوَ ابْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ابْنِ إِسْحَقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قُلْتُ: أَيْ عَمِّ حَدِّثْنِي عَمَّا قَالَ لَكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: يَا ابْنَ أَخِي، إِنِّي قَدْ كُنْتُ أَجْمَعْتُ عَلَى أَنْ أَجْتَهِدَ اجْتِهَادًا شَدِيدًا حَتَّى قُلْتُ: لَأَصُومَنَّ الدَّهْرَ، وَلَأَقْرَأَنَّ الْقُرْآنَ فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ، فَسَمِعَ بِذَلِكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَتَانِي حَتَّى دَخَلَ عَلَيَّ فِي دَارِي، فَقَالَ: «بَلَغَنِي أَنَّكَ قُلْتَ لَأَصُومَنَّ الدَّهْرَ، وَلَأَقْرَأَنَّ الْقُرْآنَ»، فَقُلْتُ: قَدْ قُلْتُ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «فَلَا تَفْعَلْ، صُمْ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ»، قُلْتُ: إِنِّي أَقْوَى عَلَى أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ، قَالَ: «فَصُمْ مِنَ الْجُمُعَةِ يَوْمَيْنِ الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسَ»، قُلْتُ: فَإِنِّي أَقْوَى عَلَى أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكِ، قَالَ: «فَصُمْ صِيَامَ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلَامُ، فَإِنَّهُ أَعْدَلُ الصِّيَامِ عِنْدَ اللَّهِ، يَوْمًا صَائِمًا وَيَوْمًا مُفْطِرًا، وَإِنَّهُ كَانَ إِذَا وَعَدَ لَمْ يُخْلِفْ، وَإِذَا لَاقَى لَمْ يَفِرَّ»---[حكم الألباني] منكر بزيادة الموعد
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ সালামাহ্ ইবনু 'আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন, আমি 'আবদুল্লাহ ইবনু 'আম্র (রাঃ)-এর কাছে গিয়ে বললাম, হে চাচা! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আপনাকে যা বলেছিলেন তা আমাকে বলুন। তিনি বললেন, হে আমার ভাতিজা! আমি দৃঢ় সংকল্প করেছিলাম যে, আমি অত্যধিক পরিশ্রম করব, এমনকি স্থির করেছিলাম যে, আমি অবশ্যই সারা জীবন সাওম পালন করব এবং প্রত্যেক দিন ও রাতে একবার কোরআন খতম করব।এ খবর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শুনে আমার কাছে এলেন এবং আমার ঘরে প্রবেশ করে বললেন, আমি শুনেছি তুমি নাকি বলেছ যে, আমি অবশ্যই সারা জীবন সাওম পালন করব এবং সারাক্ষণ কোরআন তিলাওয়াত করব? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমি অবশ্যই বলেছি। তিনি (ﷺ) বললেন, তুমি এরূপ করো না বরং তুমি প্রত্যেক মাসে তিনদিন সাওম পালন করবে। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক সামর্থ্য রাখি।তিনি (ﷺ) বললেন, তাহলে তুমি প্রত্যেক সপ্তাহে দু'দিন পালন করবে, সোমবার এবং বৃহস্পতিবার। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক সামর্থ্য রাখি। তিনি (ﷺ) বললেন, তাহলে তুমি দাউদ (আঃ)-এর মত সাওম পালন কর। কেননা সেটাই আল্লাহ তা'আলার নিকট সর্বোত্তম সাওম। একদিন সাওম পালন কর আর একদিন সাওম ভঙ্গ কর। আর দাউদ (আঃ) যখন ওয়াদা করতেন তা ভঙ্গ করতেন না আর যখন শত্রুর সম্মুখীন হতেন পলায়ন করতেন না।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৩৯৩-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) সারা জীবন রোজা রাখা এবং প্রতিদিন-রাতে কুরআন খতম করার কঠোর সংকল্পের কথা বলেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাকে তা না করতে বলেন। প্রথমে প্রতি মাসে তিন দিন সাওমের নির্দেশ দেন। বেশি সামর্থ্যের কথা বললে প্রতি সপ্তাহে সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজার কথা বলেন। আরও বেশি করতে চাইলে দাউদ (আ.)-এর সাওমের নির্দেশ দেন—এক দিন রোজা ও এক দিন বিরতি। বর্ণনায় দাউদ (আ.)-এর ওয়াদা রক্ষা ও শত্রুর সামনে না পালানোর কথাও এসেছে। তবে হাদিসটির শেষে দেওয়া মান যাচাইয়ে ‘ওয়াদা’ সংক্রান্ত বাড়তি অংশকে আপত্তিকর বলা হয়েছে। তাই মূল সাওমের নির্দেশই সবচেয়ে স্পষ্ট অংশ। এভাবে ইবাদতের আগ্রহকে ধীরে ধীরে একটি স্থায়ী ও সহনীয় পথে আনা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অতি কঠোর ইবাদতের সংকল্প থেকে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বিরত করেছেন।
- প্রতি মাসে তিন দিন এবং সোম-বৃহস্পতিবার রোজার কথা এসেছে।
- দাউদ (আ.)-এর সাওম এক দিন রোজা ও এক দিন বিরতি।
- বর্ণনার বাড়তি অংশের মান সম্পর্কে সতর্কতা উল্লেখ আছে।
