২৩/৬. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৪৪৮ - যাকাত না দিলে সম্পদই হবে শাস্তির কারণ
উটের যাকাত প্রদান অস্বীকারকারী প্রসঙ্গে
যাকাত না দেওয়ার পরিণতি: পশু ও সম্পদের কঠিন জবাবদিহি
সুনানে আন-নাসায়ী : ২৪৪৮
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২৪৪৮
أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ بَكَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَيَّاشٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعَيْبٌ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو الزِّنَادِ، مِمَّا حَدَّثَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ الْأَعْرَجُ، مِمَّا ذَكَرَ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يُحَدِّثُ بِهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تَأْتِي الْإِبِلُ عَلَى رَبِّهَا عَلَى خَيْرِ مَا كَانَتْ إِذَا هِيَ لَمْ يُعْطِ فِيهَا حَقَّهَا تَطَؤُهُ بِأَخْفَافِهَا، وَتَأْتِي الْغَنَمُ عَلَى رَبِّهَا عَلَى خَيْرِ مَا كَانَتْ إِذَا لَمْ يُعْطِ فِيهَا حَقَّهَا تَطَؤُهُ بِأَظْلَافِهَا وَتَنْطَحُهُ بِقُرُونِهَا»، قَالَ: " وَمِنْ حَقِّهَا أَنْ تُحْلَبَ عَلَى الْمَاءِ، أَلَا لَا يَأْتِيَنَّ أَحَدُكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِبَعِيرٍ يَحْمِلُهُ عَلَى رَقَبَتِهِ لَهُ رُغَاءٌ، فَيَقُولُ: يَا مُحَمَّدُ، فَأَقُولُ: لَا أَمْلِكُ لَكَ شَيْئًا قَدْ بَلَّغْتُ، أَلَا لَا يَأْتِيَنَّ أَحَدُكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِشَاةٍ يَحْمِلُهَا عَلَى رَقَبَتِهِ لَهَا يُعَارٌ، فَيَقُولُ: يَا مُحَمَّدُ، فَأَقُولُ لَا أَمْلِكُ لَكَ شَيْئًا قَدْ بَلَّغْتُ ". قَالَ: «وَيَكُونُ كَنْزُ أَحَدِهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ شُجَاعًا أَقْرَعَ يَفِرُّ مِنْهُ صَاحِبُهُ وَيَطْلُبُهُ أَنَا كَنْزُكَ، فَلَا يَزَالُ حَتَّى يُلْقِمَهُ أُصْبُعَهُ»
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: উটের মালিক উটের যাকাত আদায় না করলে তারা তার কাছে পূর্বাপেক্ষা অধিক হৃষ্টপুষ্ট করে হাযির করা হবে। তাকে তাদের ক্ষুর দ্বারা পদদলিত করবে। আর ছাগলের মালিকও তার 'হাক্ব' [যাকাত] আদায় না করলে তা তার সামনে পূর্বাপেক্ষা হৃষ্টপুষ্ট হয়ে হাযির হবে; তাকে ক্ষুর দ্বারা দলন করবে এবং তাদের শিং দ্বারা আঘাত করবে।তিনি (ﷺ) আরো বলেছেন, জীব-জন্তুতে প্রাপ্য 'হাক্ব'-এর অন্যতম হল পানির কাছে তার দুধ দোহন করা। সাবধান, কেউ যেন কেয়ামাতের দিন তার কাঁধে কোনো উট নিয়ে হাযির না হয়, যা চিৎকার করতে থাকবে। আর ঐ ব্যক্তি বলতে থাকবে: হে মুহাম্মাদ! আমি বলব: আমি তোমার জন্য কিছুই করতে পারব না। আমি তো আগেই [আল্লাহর বিধান] পৌঁছিয়ে দিয়েছিলাম। সাবধান, তোমাদের কেউ যেন কেয়ামাতের দিন তার কাঁধে কোনো ছাগল নিয়ে হাযির না হয়, যা চিৎকার করতে থাকবে। আর ঐ ব্যক্তি বলতে থাকবে, হে মুহাম্মাদ! তখন আমি বলব: আমি তোমাদের জন্য কিছুই করতে পারব না। আমি তো আগেই [আল্লাহর বিধান তোমার কাছে] পৌঁছিয়ে দিয়েছিলাম।তিনি (ﷺ) আরো বলেছেন: তাদের কারো কারো সম্পদ কেয়ামাতের দিন বিষাক্ত সাপের আকার ধারণ করবে। তার মালিক তা থেকে পলায়ন করবে। কিন্তু সে তার পিছনে ধাওয়া করবে [এবং বলতে থাকবে :] আমি তো তোমারই সম্পদ। [এরূপ পিছু নিতে নিতে] অবশেষে সে বাধ্য হয়ে তার আঙ্গুল এর [সাপের] মুখের মধ্যে ঢুকিয়ে দিবে
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৪৪৮-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: যাকাতের শাস্তি। হাদিসে উট ও ছাগলের হক আদায় না করার ভয়াবহ ফল বলা হয়েছে। কেয়ামতের দিন পশুগুলো আগের চেয়ে মোটা ও শক্তিশালী হয়ে মালিককে ক্ষুর দিয়ে পদদলিত করবে এবং শিং দিয়ে আঘাত করবে। পশুর একটি হক হিসেবে পানির কাছে দুধ দোহনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর সতর্ক করা হয়েছে, কেউ যেন কেয়ামতের দিন কাঁধে চিৎকাররত উট বা ছাগল নিয়ে না আসে এবং রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সাহায্য চায়; কারণ তিনি বিধান পৌঁছে দিয়েছেন। হাদিসের শেষ অংশে বলা হয়েছে, জমা সম্পদ বিষাক্ত সাপের রূপ নিয়ে মালিকের পিছু নেবে এবং বলবে, ‘আমি তোমার সম্পদ।’ এই বর্ণনা স্পষ্ট করে যে, যাকাত ও সম্পদের হক অবহেলা করলে সেই সম্পদই জবাবদিহি ও শাস্তির কারণ হতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পশুর যাকাত ও অন্যান্য প্রাপ্য হক অবহেলা করা উচিত নয়।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বিধান পৌঁছে দিয়েছেন; তাই দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
- যাকাত না দেওয়া জমা সম্পদ কেয়ামতে শাস্তির কারণ হতে পারে।
