২৩/১০. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৪৫৫ - পশুর যাকাত ও রূপার হার বিস্তারিত
ছাগলের যাকাত
পশুর যাকাতের চার্ট: উট, ছাগল ও রূপার নির্ধারিত হার
সুনানে আন-নাসায়ী : ২৪৫৫
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২৪৫৫
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ فَضَالَةَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ النَّسَائِيُّ، قَالَ: أَنْبَأَنَا سُرَيْجُ بْنُ النُّعْمَانِ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثُمَامَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ: أَنَّ أَبَا بَكْرٍ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ كَتَبَ لَهُ أَنَّ هَذِهِ فَرَائِضُ الصَّدَقَةِ الَّتِي فَرَضَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ الَّتِي أَمَرَ اللَّهُ بِهَا رَسُولَهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَمَنْ سُئِلَهَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ عَلَى وَجْهِهَا فَلْيُعْطِهَا، وَمَنْ سُئِلَ فَوْقَهَا فَلَا يُعْطِهِ «فِيمَا دُونَ خَمْسٍ وَعِشْرِينَ مِنَ الْإِبِلِ فِي خَمْسِ ذَوْدٍ شَاةٌ، فَإِذَا بَلَغَتْ خَمْسًا وَعِشْرِينَ فَفِيهَا بِنْتُ مَخَاضٍ إِلَى خَمْسٍ وَثَلَاثِينَ، فَإِنْ لَمْ تَكُنِ ابْنَةُ مَخَاضٍ فَابْنُ لَبُونٍ ذَكَرٌ، فَإِذَا بَلَغَتْ سِتَّةً وَثَلَاثِينَ فَفِيهَا بِنْتُ لَبُونٍ إِلَى خَمْسٍ وَأَرْبَعِينَ، فَإِذَا بَلَغَتْ سِتَّةً وَأَرْبَعِينَ فَفِيهَا حِقَّةٌ طَرُوقَةُ الْفَحْلِ إِلَى سِتِّينَ، فَإِذَا بَلَغَتْ إِحْدَى وَسِتِّينَ فَفِيهَا جَذَعَةٌ إِلَى خَمْسَةٍ وَسَبْعِينَ، فَإِذَا بَلَغَتْ سِتَّةً وَسَبْعِينَ فَفِيهَا ابْنَتَا لَبُونٍ إِلَى تِسْعِينَ، فَإِذَا بَلَغَتْ إِحْدَى وَتِسْعِينَ فَفِيهَا حِقَّتَانِ طَرُوقَتَا الْفَحْلِ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ، فَإِذَا زَادَتْ عَلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَفِي كُلِّ أَرْبَعِينَ ابْنَةُ لَبُونٍ وَفِي كُلِّ خَمْسِينَ حِقَّةٌ، فَإِذَا تَبَايَنَ أَسْنَانُ الْإِبِلِ فِي فَرَائِضِ الصَّدَقَاتِ فَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ الْجَذَعَةِ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ جَذَعَةٌ وَعِنْدَهُ حِقَّةٌ، فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ الْحِقَّةُ وَيَجْعَلُ مَعَهَا شَاتَيْنِ إِنْ اسْتَيْسَرَتَا لَهُ أَوْ عِشْرِينَ دِرْهَمًا، وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ الْحِقَّةِ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ إِلَّا جَذَعَةٌ، فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ وَيُعْطِيهِ الْمُصَّدِّقُ عِشْرِينَ دِرْهَمًا أَوْ شَاتَيْنِ، وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ الْحِقَّةِ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ وَعِنْدَهُ ابْنَةُ لَبُونٍ، فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ وَيَجْعَلُ مَعَهَا شَاتَيْنِ إِنْ اسْتَيْسَرَتَا لَهُ أَوْ عِشْرِينَ دِرْهَمًا، وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ بِنْتِ لَبُونٍ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ إِلَّا حِقَّةٌ، فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ وَيُعْطِيهِ الْمُصَّدِّقُ عِشْرِينَ دِرْهَمًا أَوْ شَاتَيْنِ، وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ بِنْتِ لَبُونٍ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ بِنْتُ لَبُونٍ وَعِنْدَهُ بِنْتُ مَخَاضٍ، فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ وَيَجْعَلُ مَعَهَا شَاتَيْنِ إِنْ اسْتَيْسَرَتَا لَهُ أَوْ عِشْرِينَ دِرْهَمًا، وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ ابْنَةِ مَخَاضٍ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ إِلَّا ابْنُ لَبُونٍ ذَكَرٌ فَإِنَّهُ يُقْبَلُ مِنْهُ وَلَيْسَ مَعَهُ شَيْءٌ، وَمَنْ لَمْ يَكُنْ عِنْدَهُ إِلَّا أَرْبَعَةٌ مِنَ الْإِبِلِ فَلَيْسَ فِيهَا شَيْءٌ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ رَبُّهَا، وَفِي صَدَقَةِ الْغَنَمِ فِي سَائِمَتِهَا إِذَا كَانَتْ أَرْبَعِينَ فَفِيهَا شَاةٌ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ، فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةً فَفِيهَا شَاتَانِ إِلَى مِائَتَيْنِ، فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةً فَفِيهَا ثَلَاثُ شِيَاهٍ إِلَى ثَلَاثِ مِائَةٍ، فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةً فَفِي كُلِّ مِائَةٍ شَاةٌ، وَلَا تُؤْخَذُ فِي الصَّدَقَةِ هَرِمَةٌ وَلَا ذَاتُ عَوَارٍ وَلَا تَيْسُ الْغَنَمِ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ الْمُصَّدِّقُ، وَلَا يُجْمَعُ بَيْنَ مُتَفَرِّقٍ، وَلَا يُفَرَّقُ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ خَشْيَةَ الصَّدَقَةِ، وَمَا كَانَ مِنْ خَلِيطَيْنِ فَإِنَّهُمَا يَتَرَاجَعَانِ بَيْنَهُمَا بِالسَّوِيَّةِ، وَإِذَا كَانَتْ سَائِمَةُ الرَّجُلِ نَاقِصَةً مِنْ أَرْبَعِينَ شَاةً وَاحِدَةً فَلَيْسَ فِيهَا شَيْءٌ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ رَبُّهَا، وَفِي الرِّقَةِ رُبْعُ الْعُشْرِ، فَإِنْ لَمْ يَكُنِ الْمَالُ إِلَّا تِسْعِينَ وَمِائَةً فَلَيْسَ فِيهِ شَيْءٌ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ رَبُّهَا»
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। আবূ বাক্র (রাঃ) তাদেরকে লিখলেন যে, মহান ও মহীয়ান আল্লাহর নির্দেশক্রমে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মুসলিমদের ওপর এ যাকাত ফার্য করেছেন। অতএব, যে মুসলিমদের থেকে যথা নিয়ম যাকাত চাওয়া হয় সে যেন তা আদায় করে। আর যার থেকে নিয়ম বর্হিভূতভাবে চাওয়া হবে সে যেন অতিরিক্ত আদায় না করে।পঁচিশটির কম উট হলে প্রতি পাঁচ উটে একটি বকরী দিতে হবে। পঁচিশ হতে পঁয়ত্রিশ পর্যন্ত বিনতু মাখায [দুই বছরী উট] দেবে। বিনতু মাখায না থাকলে একটি ইবনু লাবুন [তিন বছরী পুরুষ উট] দিবে। ছত্রিশ হতে পঁয়তাল্লিশ পর্যন্ত একটি তিন বছরী উট, ছেচল্লিশ হতে ষাট পর্যন্ত একটি আরোহণের উপযোগী [চার বছরী মাদী উট], একষট্টি হতে পঁচাত্তর পর্যন্ত একটি জাযা'আহ্ [পাঁচ বছরী মাদী উট], ছিয়াত্তর হতে নব্বই পর্যন্ত দু'টি তিন বছরী উট দিতে হবে। একানব্বই হতে একশত বিশ পর্যন্ত আরোহণের উপযোগী দু'টি চার বছরী উট দিতে হবে। যখন একশত বিশটির বেশি হবে তখন প্রত্যেক চল্লিশে একটি তিন বছরী উট এবং প্রত্যেক পঞ্চাশে একটি চার বছরী উট ওয়াজিব হবে।যদি যাকাত আদায়কালীন সময় উটের বয়সের ভিন্নতা দেখা দেয়, যেমন কারো ওপর একটি পাঁচ বছরী মাদী উট ওয়াজিব হয়েছে কিন্তু তার কাছে কোনো পাঁচ বছরী মাদী উট নেই বরং তার কাছে চার বছরী উট আছে তখন তার কাছ থেকে চার বছরী উট আদায় করে আরো দু'টি ছাগল ধার্য করে [আদায় করা] হবে- যদি তা সহজ হয়। অন্যথা বিশ দিরহাম আদায় করবে।যার ওপর একটি চার বছর বয়সী মাদী উট ওয়াজিব হয়েছে অথচ তার কাছে পাঁচ বয়সী মাদী উটই আছে তখন তার কাছ থেকে তাই আদায় করে নেবে এবং যাকাত আদায়কারী তাকে বিশটি দিরহাম অথবা দু'টি ছাগলের মধ্যে যা সহজ হয় ফিরিয়ে দেবে। যার ওপর চার বছরী মাদী উট ওয়াজিব হয়েছে কিন্তু তার কাছে চার বছর বয়সী মাদী উট নেই বরং তিন বছর বয়সী উট আছে, তার কাছ থেকে তাই আদায় করা হবে এবং দু'টি ছাগল যদি তা সহজ হয়। অন্যথা বিশটি দিরহাম তার থেকে আদায় করে নেবে।যার ওপর তিন বছর বয়সী মাদী উট ওয়াজিব হয়েছে কিন্তু তার কাছে শুধুমাত্র চার বছর বয়সী উট রয়েছে, তাহলে তার কাছ থেকে তাই আদায় করবে এবং যাকাত উসূলকারী তাকে বিশটি দিরহাম বা দু'টি ছাগল ফিরিয়ে দেবে। আর যার ওপর তিন বছর বয়সী মাদী উট ওয়াজিব হয়েছে কিন্তু তার কাছে তিন বছর বয়সী উট নেই বরং তার কাছে দুই বছর বয়সী উট আছে তাহলে তার কাছ থেকে তাই উসূল করে নেবে এবং তার সাথে দু'টি ছাগল নেবে যদি তা সহজ হয়। অন্যথায় বিশটি দিরহাম নেবে।যার ওপর দুই বছরী মাদী উট ওয়াজিব হয়েছে অথচ তার কাছে শুধুমাত্র তিন বছর বয়সী পুরুষ উট আছে তাহলে তার কাছ থেকে তাই গ্রহণ করা হবে এবং তার সাথে অন্য কোনো কিছু নেবে না এবং দিবে না। আর যার কাছে শুধুমাত্র চারটি উট আছে তার উপর যাকাত দিতে হবে না। তবে হ্যাঁ, তার মালিক যদি কিছু প্রদান করতে চায় তবে দিতে পারে। আর চল্লিশটি হতে একশত বিশটি পর্যন্ত স্বাধীনভাবে বিচরণকারী ছাগলে যাকাত হিসেবে একটি ছাগল ওয়াজিব হবে। একশত একুশ হতে দুইশত পর্যন্ত ছাগলে দু'টি ছাগল ওয়াজিব হবে। দুইশত এক হতে তিনশত পর্যন্ত ছাগলে তিনটি ছাগল ওয়াজিব হবে। যখন এরও অধিক হবে তখন প্রত্যেক একশত ছাগলে একটি ছাগল ওয়াজিব হবে। আর অতি বৃদ্ধ [খুঁত বিশিষ্ট] ছাগল এবং পাঠা ছাগলও আদায় করবে না। তবে হ্যাঁ, যাকাতদাতা যদি স্বেচ্ছায় দেয় তবে ভিন্ন কথা।যাকাতের [নেয়া ও দেয়ার] ভয়ে বিচ্ছিন্ন পশু কখনো একত্রিত করবে না এবং একত্রিত পশুও কখনো বিচ্ছিন্ন করবে না। আর শারিকী মালে যাকাত উভয়ের ওপর সমভাবে প্রযোজ্য হবে। কারো বিচরণকারী ছাগল যদি চল্লিশটি থেকে একটিও কম হয়, তবে তাতে যাকাত দিতে হবে না। অবশ্য মালিক যদি যাকাত দিতে ইচ্ছে করে [তবে সেটা ভিন্ন কথা]। রূপায় চল্লিশ ভাগের এক ভাগ যাকাত দিতে হবে। কারো কাছে যদি শুধু একশত নব্বই দিরহাম থাকে তবে তাতে যাকাত দিতে হবে না, অবশ্য মালিক যদি যাকাত দিতে ইচ্ছা করে তবে দিতে পারে।
১. প্রশ্নকারিগণ মুস্তাহাব ‘প্রাপ্য’ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তাই মানবিক কারণে যা করণীয় তাই বলেছেন। ফরয ‘প্রাপ্য’ তারা অবগত ছিলেন।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৪৫৫-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: যাকাতের বিধান। এই দীর্ঘ হাদিসে উট, ছাগল ও রূপার যাকাতের ধাপভিত্তিক নিয়ম বলা হয়েছে। কম সংখ্যক উটে প্রতি পাঁচটির জন্য একটি বকরী, আর সংখ্যা বাড়লে নির্দিষ্ট বয়সের মাদি উট দিতে হবে। প্রয়োজনীয় বয়সের পশু না থাকলে কাছাকাছি বয়সের পশু নেওয়া এবং দুই ছাগল বা বিশ দিরহাম দিয়ে পার্থক্য পূরণের নিয়মও রয়েছে। ছাগলের ক্ষেত্রে চল্লিশ থেকে একশ বিশ পর্যন্ত একটি, এরপর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে যাকাতও বাড়ে। খুঁতযুক্ত, অতি বৃদ্ধ বা পাঠা ছাগল সাধারণভাবে নেওয়া হবে না। যাকাত কমানোর জন্য আলাদা পশু একত্র করা বা একত্র পশু আলাদা করা যাবে না। শরিকি মালের হিসাব সমভাবে হবে। রূপার ক্ষেত্রে চল্লিশ ভাগের এক ভাগ নির্ধারিত, আর একশ নব্বই দিরহামে যাকাত নেই।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পশুর যাকাত সংখ্যা ও বয়সের নির্দিষ্ট ধাপ অনুযায়ী দিতে হয়।
- যাকাত এড়াতে পশুর দল কৃত্রিমভাবে একত্র বা বিচ্ছিন্ন করা নিষেধ।
- রূপার যাকাত চল্লিশ ভাগের এক ভাগ।
- নির্ধারিত বয়সের পশু না থাকলে হাদিসে উল্লেখিত সমন্বয় করতে হবে।
