২৩/১১. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৪৫৬ - পশুর যাকাত না দিলে বারবার শাস্তি
ছাগলের যাকাত অস্বীকারকারী প্রসঙ্গে
উট গরু ছাগলের যাকাত না দেওয়ার কেয়ামতের শাস্তি
সুনানে আন-নাসায়ী : ২৪৫৬
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২৪৫৬
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ، قَالَ: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ الْمَعْرُورِ بْنِ سُوَيْدٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا مِنْ صَاحِبِ إِبِلٍ وَلَا بَقَرٍ وَلَا غَنَمٍ لَا يُؤَدِّي زَكَاتَهَا، إِلَّا جَاءَتْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْظَمَ مَا كَانَتْ وَأَسْمَنَهُ، تَنْطَحُهُ بِقُرُونِهَا، وَتَطَؤُهُ بِأَخْفَافِهَا، كُلَّمَا نَفِدَتْ أُخْرَاهَا أَعَادَتْ عَلَيْهِ أُولَاهَا، حَتَّى يُقْضَى بَيْنَ النَّاسِ»
আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি উট, গরু এবং ছাগলের মালিক হয়েও তার যাকাত আদায় না করবে, কিয়ামতের দিন ঐ সমস্ত পশু পূর্বাপেক্ষা বিশালদেহী এবং মোটা-তাজা হয়ে তার কাছে উপস্থিত হবে। ওগুলো তারা তাকে তাদের শিং দ্বারা আঘাত এবং ক্ষুর দ্বারা [চক্রাকারে] পদদলিত করতে থাকবে। যখনই তাদের শেষেরটি পার হয়ে যাবে তখনই প্রথমটি ফিরে আসবে। এ রকমই চলতে থাকবে যতক্ষণ না লোকজনের বিচারকার্য সম্পন্ন হয়।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৪৫৬-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: পশুর যাকাত। এই হাদিসে উট, গরু ও ছাগলের মালিকদের জন্য কঠোর সতর্কতা আছে। যে ব্যক্তি এসব পশুর যাকাত আদায় করবে না, কেয়ামতের দিন পশুগুলো আগের চেয়ে বড়, শক্তিশালী ও মোটা হয়ে তার সামনে আসবে। শিংওয়ালা পশু তাকে শিং দিয়ে আঘাত করবে এবং ক্ষুরওয়ালা পশু ক্ষুর দিয়ে পদদলিত করবে। যখন শেষ পশুটি চলে যাবে, তখন প্রথম পশুটি আবার ফিরে আসবে। এই চক্র মানুষের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলবে। বর্ণনাটি বোঝায়, গবাদি পশুর যাকাত অবহেলার বিষয় নয়। মালিকের কাছে পশু থাকা যেমন সম্পদ, তেমনি তার নির্ধারিত হক আদায় করাও দায়িত্ব। তাই উট, গরু ও ছাগলের সংখ্যা সঠিকভাবে গুনে যাকাত প্রযোজ্য হলে তা আদায় করা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- উট, গরু ও ছাগলের যাকাত প্রযোজ্য হলে তা আদায় করতে হবে।
- যাকাত না দেওয়া পশু কেয়ামতে শাস্তির মাধ্যম হতে পারে।
- পশুর সংখ্যা ও যাকাতের হিসাব গোপন না করে সঠিকভাবে রাখতে হবে।
