২৪/৫০. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৭৩৮ - হাদী না থাকলে তওয়াফ-সাঈ করে হালাল
হাজ্জে তামাতু‘
হাদী না থাকলে কী করবেন: তওয়াফ, সাঈ ও হালাল হওয়ার শিক্ষা
সুনানে আন-নাসায়ী : ২৭৩৮
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২৭৩৮
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ قَيْسٍ وَهُوَ ابْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ: قَدِمْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ بِالْبَطْحَاءِ فَقَالَ: «بِمَا أَهْلَلْتَ؟» قُلْتُ: أَهْلَلْتُ بِإِهْلَالِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «هَلْ سُقْتَ مِنْ هَدْيٍ؟» قُلْتُ: لَا، قَالَ: «فَطُفْ بِالْبَيْتِ وَبِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ، ثُمَّ حِلَّ»فَطُفْتُ بِالْبَيْتِ وَبِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ، ثُمَّ أَتَيْتُ امْرَأَةً مِنْ قَوْمِي فَمَشَطَتْنِي، وَغَسَلَتْ رَأْسِي، فَكُنْتُ أُفْتِي النَّاسَ بِذَلِكَ فِي إِمَارَةِ أَبِي بَكْرٍ، وَإِمَارَةِ عُمَرَ، وَإِنِّي لَقَائِمٌ بِالْمَوْسِمِ إِذْ جَاءَنِي رَجُلٌ فَقَالَ: إِنَّكَ لَا تَدْرِي مَا أَحْدَثَ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ فِي شَأْنِ النُّسُكِ، قُلْتُ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ مَنْ كُنَّا أَفْتَيْنَاهُ بِشَيْءٍ فَلْيَتَّئِدْ، فَإِنَّ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ قَادِمٌ عَلَيْكُمْ، فَأْتَمُّوا بِهِ فَلَمَّا قَدِمَ قُلْتُ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ مَا هَذَا الَّذِي أَحْدَثْتَ فِي شَأْنِ النُّسُكِ؟قَالَ: إِنْ نَأْخُذْ بِكِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ، فَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَالَ: {وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلَّهِ} [البقرة: 196] وَإِنْ نَأْخُذْ بِسُنَّةِ نَبِيِّنَا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَإِنَّ نَبِيَّنَا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَحِلَّ حَتَّى نَحَرَ الْهَدْيَ
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি [ইয়ামান থেকে] রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট এলাম। তখন তিনি বাত্নহা'য় ছিলেন। তিনি বললেন: কিসের তালবিয়াহ্ পাঠ করেছ? আমি বললাম: নবী (সাঃ) যে তালবিয়াহ্ পাঠ করেছেন, আমিও সেই তালবিয়াহ্ পাঠ করেছি। তিনি বললেন: তুমি কি 'হাদিয়' সাথে নিয়ে এসেছ? আমি বললাম না। তিনি বললেন: তা হলে তুমি প্রথমে বায়তুল্লাহ্ ত্বওয়াফ ও সফা মারওয়ার সা'ঈ কর, তারপর হালাল হও। আমি বায়তুল্লাহ্র ত্বওয়াফ এবং সফা মারওয়ার সা'ঈ করলাম, এরপর আমার বংশের এক মহিলার নিকট গেলাম, সে আমার মাথা আঁচড়িয়ে ও মাথা ধুইয়ে দিল।আমি লোকেদেরকে আবূ বাক্র ও 'উমর-এর খিলাফাতের সময় এই ফাতাওয়াই দিতাম। আমি এক হজ্জের সময় দাঁড়িয়ে আছি, এমন সময় এক ব্যক্তি এসে বললেন : হে আমীরুল মু'মিনীন! হজ্জের ব্যাপারে যে নতুন কথা বলছেন, তা কি আপনি জানেন? আমি বললাম : হে লোকসকল! আমি যাকে কোনো ফাতাওয়া দিয়েছি সে যেন তাড়াহুড়া না করে। কেননা তোমাদের নিকট আমীরুল মু'মিনীন শীঘ্রই আসছেন, তোমরা তাঁর অনুসরণ কর।তিনি এলে আমি বললাম: হে আমীরুল মু'মিনীন! হজ্জ সম্পর্কে আপনি কি নতুন বিধান চালু করেছেন? তিনি বললেন: আমরা যদি আল্লাহর কিতাব অনুসরণ করতে চাই তাহলে মহান আল্লাহ বলেছেন: "তোমরা আল্লাহর জন্য হজ্জ এবং 'উমরাহ্ পূর্ণ কর।" আর আমরা যদি আমাদের নবী (সাঃ)-এর সুন্নাত অনুযায়ী কাজ করি তবে আমাদের নবী (সাঃ) তো কুরবানী করার পূর্বে হালাল হননি।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৭৩৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবু মূসা (রাঃ)-এর ঘটনা এসেছে। তিনি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে এসে বলেন, তিনি নবী صلى الله عليه وسلم যে তালবিয়াহ পাঠ করেছেন সেই তালবিয়াহ পাঠ করেছেন। নবী صلى الله عليه وسلم তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি হাদী সঙ্গে এনেছেন কি না। তিনি বলেন, না। তখন নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, বায়তুল্লাহ তওয়াফ করো, সাফা-মারওয়ার সাঈ করো, তারপর হালাল হও। পরে তিনি সেটাই করেন। এরপর আবু বকর ও উমর (রাঃ)-এর সময়ে তিনি এই ফাতওয়া দিতেন। হাদিসের শেষে উমর (রাঃ) কুরআনের আয়াত এবং নবী صلى الله عليه وسلم হাদী কুরবানির আগে হালাল হননি—এই দিকটি উল্লেখ করেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হাদী না থাকলে নবী صلى الله عليه وسلم আবু মূসা (রাঃ)-কে তওয়াফ ও সাঈ করে হালাল হতে বলেছেন।
- হজ্জের আমলে নিজের অবস্থা জানিয়ে নির্দেশ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
- উমর (রাঃ) কুরআন ও নবী صلى الله عليه وسلم-এর আমল—দুটো দিক তুলে ধরেছেন।
