২৫/৩৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৫৬৮ - তামাত্তু হজ্জের ধাপ ও ইহরাম
তামাত্তু‘, কিরান ও ইফরাদ হজ্জ করা এবং যার সঙ্গে কুরবানির জন্তু নেই তার জন্য হজ্জের ইহরাম পরিত্যাগ করা।
তামাত্তু হজ্জের নিয়ম: তাওয়াফ, সাঈ, হালাল হওয়া ও নতুন ইহরাম
সহীহ বুখারী : ১৫৬৮
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৫৬৮
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا أَبُو شِهَابٍ قَالَ قَدِمْتُ مُتَمَتِّعًا مَكَّةَ بِعُمْرَةٍ فَدَخَلْنَا قَبْلَ التَّرْوِيَةِ بِثَلاَثَةِ أَيَّامٍ فَقَالَ لِي أُنَاسٌ مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ تَصِيرُ الآنَ حَجَّتُكَ مَكِّيَّةً فَدَخَلْتُ عَلَى عَطَاءٍ أَسْتَفْتِيهِ فَقَالَ حَدَّثَنِي جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللهِ أَنَّهُ حَجَّ مَعَ النَّبِيِّ ﷺ يَوْمَ سَاقَ الْبُدْنَ مَعَهُ وَقَدْ أَهَلُّوا بِالْحَجِّ مُفْرَدًا فَقَالَ لَهُمْ أَحِلُّوا مِنْ إِحْرَامِكُمْ بِطَوَافِ الْبَيْتِ وَبَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ وَقَصِّرُوا ثُمَّ أَقِيمُوا حَلاَلاً حَتَّى إِذَا كَانَ يَوْمُ التَّرْوِيَةِ فَأَهِلُّوا بِالْحَجِّ وَاجْعَلُوا الَّتِي قَدِمْتُمْ بِهَا مُتْعَةً فَقَالُوا كَيْفَ نَجْعَلُهَا مُتْعَةً وَقَدْ سَمَّيْنَا الْحَجَّ فَقَالَ افْعَلُوا مَا أَمَرْتُكُمْ فَلَوْلاَ أَنِّي سُقْتُ الْهَدْيَ لَفَعَلْتُ مِثْلَ الَّذِي أَمَرْتُكُمْ وَلَكِنْ لاَ يَحِلُّ مِنِّي حَرَامٌ حَتَّى يَبْلُغَ الْهَدْيُ مَحِلَّهُ فَفَعَلُواقَالَ أَبُو عَبْد اللهِ أَبُو شِهَابٍ لَيْسَ لَهُ مُسْنَدٌ إِلاَّ هَذَا
আবূ শিহাব (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি ‘উমরাহ’র ইহ্রাম বেঁধে হজ্জে তামাত্তু’র নিয়তে তারবিয়্যাহ দিবস (আট তারিখ)-এর তিন দিন পূর্বে মক্কায় প্রবেশ করলাম, মক্কাবাসী কিছু লোক আমাকে বললেন, এখন তোমার হজ্জের কাজ মক্কা হতে শুরু হবে। আমি বিষয়টি জানার জন্য ‘আত্বা (রহঃ)-এর নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি বললেন, জাবির ইব্নু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) আমাকে বলেছেন, যখন নবী (ﷺ) কুরবানীর উট সঙ্গে নিয়ে হজ্জে আসেন তখন তিনি তাঁর সঙ্গে ছিলেন।সাহাবীগণ ইফরাদ হজ্জ-এর নিয়তে শুধু হজ্জের ইহ্রাম বাঁধেন। কিন্তু নবী (ﷺ) (মক্কায় পৌঁছে) তাঁদেরকে বললেনঃ বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সা‘ঈ সমাধা করে তোমরা ইহ্রাম ভঙ্গ করে হালাল হয়ে যাও এবং চুল ছোট কর। এরপর হালাল অবস্থায় থাক। যখন যিলহজ্জ মাসের আট তারিখ হবে তখন তোমরা হজ্জ-এর ইহ্রাম বেঁধে নিবে, আর যে ইহ্রাম বেঁধে এসেছ তা তামাত্তু‘ হজ্জের ‘উমরাহ বানিয়ে নিবে।সাহাবীগণ বললেন, এ ইহ্রামকে আমরা কিরূপে ‘উমরাহ’র ইহ্রাম বানাব? আমরা হজ্জ-এর নাম নিয়ে ইহ্রাম বেঁধেছি। তখন তিনি বললেনঃ আমি তোমাদেরকে যা আদেশ করছি তাই কর। কুরবানীর পশু সঙ্গে নিয়ে না আসলে তোমাদেরকে যা করতে বলছি, আমিও সেরূপ করতাম। কিন্তু কুরবানী করার পূর্বে (ইহরামের কারণে) নিষিদ্ধ কাজ (আমার জন্য) হালাল নয়। সাহাবীগণ সেরূপ পশু যবহ করলেন।
আবূ ‘আবদুল্লাহ্ (ইমাম বুখারী) (রহঃ) বলেন, আবূ শিহাব (রহঃ) হতে মারফূ’ বর্ণনা মাত্র এই একটিই পাওয়া যায়।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৫৬৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে তামাত্তু হজ্জের ধাপগুলো বেশ পরিষ্কারভাবে এসেছে। একজন ব্যক্তি উমরাহর ইহরাম বেঁধে মক্কায় আসেন এবং কিছু মক্কাবাসীর কথায় তাঁর মনে প্রশ্ন তৈরি হয়। তিনি আতা (রহঃ)-এর কাছে জানতে চান। আতা (রহঃ) জাবির (রাঃ)-এর বর্ণনা উল্লেখ করেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) সাহাবীদের বলেছিলেন, বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সাঈ করে ইহরাম ভেঙে হালাল হয়ে যেতে এবং চুল ছোট করতে। এরপর হালাল অবস্থায় থাকতে। যিলহজ্জের আট তারিখে আবার হজ্জের ইহরাম বাঁধতে। সাহাবীরা প্রশ্ন করলে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, আমি যা আদেশ করছি তাই কর। তিনি আরও জানান, কুরবানির পশু সঙ্গে না আনলে তিনিও তাঁদের মতো করতেন। এই হাদিসে তামাত্তু হজ্জ, উমরাহ, তাওয়াফ, সাঈ ও ইহরামের ধারাবাহিক শিক্ষা স্পষ্ট।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তামাত্তু হজ্জে উমরাহ শেষ করে হালাল অবস্থায় থাকা যায়।
- তাওয়াফ, সাঈ ও চুল ছোট করা এই বর্ণনায় উমরাহ শেষের অংশ হিসেবে এসেছে।
- যিলহজ্জের আট তারিখে নতুন করে হজ্জের ইহরাম বাঁধার নির্দেশ এসেছে।
- কুরবানির পশু সঙ্গে থাকলে হালাল হওয়ার বিধান আলাদা হতে পারে।
