২৪/৫৮. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৭৬৪ - বিদায় হজ্জে হায়জ ও উমরাহ
‘উমরার তালবিয়াহ্ পাঠ [করে ইহ্রাম]-কারিণী যদি ঋতুমতী হয় এবং হাজ্জ অনাদায়ী হওয়ার আশঙ্কা করে
বিদায় হজ্জে হায়জ: উমরাহ ছেড়ে হজ্জের ইহরামের শিক্ষা
সুনানে আন-নাসায়ী : ২৭৬৪
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২৭৬৪
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ وَاللَّفْظُ لَهُ عَنْ ابْنِ الْقَاسِمِ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ، فَأَهْلَلْنَا بِعُمْرَةٍ، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ كَانَ مَعَهُ هَدْيٌ، فَلْيُهْلِلْ بِالْحَجِّ مَعَ الْعُمْرَةِ» ثُمَّ لَا يَحِلَّ، حَتَّى يَحِلَّ مِنْهُمَا جَمِيعًا، فَقَدِمْتُ مَكَّةَ، وَأَنَا حَائِضٌ، فَلَمْ أَطُفْ بِالْبَيْتِ، وَلَا بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ، فَشَكَوْتُ ذَلِكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «انْقُضِي رَأْسَكِ، وَامْتَشِطِي، وَأَهِلِّي بِالْحَجِّ، وَدَعِي الْعُمْرَةَ» فَفَعَلْتُ، فَلَمَّا قَضَيْتُ الْحَجَّ، أَرْسَلَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، مَعَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ إِلَى التَّنْعِيمِ، فَاعْتَمَرْتُ، قَالَ: هَذِهِ مَكَانُ عُمْرَتِكِ، فَطَافَ الَّذِينَ أَهَلُّوا بِالْعُمْرَةِ بِالْبَيْتِ، وَبَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ، ثُمَّ حَلُّوا، ثُمَّ طَافُوا طَوَافًا آخَرَ بَعْدَ أَنْ رَجَعُوا مِنْ مِنًى لِحَجِّهِمْ، وَأَمَّا الَّذِينَ جَمَعُوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ، فَإِنَّمَا طَافُوا طَوَافًا وَاحِدًا "
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে রওনা হলাম। 'উমরার ইহরাম বাঁধলাম [তালবিয়াহ্ পড়লাম]। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: যার সাথে 'হাদিয়' [কুরবানীর জন্ত রয়েছে, সে যেন 'উমরার সাথে হজ্জেরও ইহরাম [নিয়্যাত] করে এবং এ দুয়ের কাজ সমাধা করার পূর্বে যেন হালাল না হয় ইহরাম ভঙ্গ না করে], তারপর আমি হায়য অবস্থায় মাক্কায় পৌঁছলাম। ফলে বায়তুল্লাহ্ ত্বওয়াফ করতে পারলাম না। সফা ও মারওয়ার সা'ঈও না। আমি এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সমীপে অনুরোধ করলাম। তিনি (ﷺ) বললেন : তুমি তোমার মাথার চুলের বেণী খুলে ফেল, মাথার চুল আঁচড়াও এবং হজ্জের ইহরাম [নিয়্যাত] কর। 'উমরাহ্ ছেড়ে দাও। তখন আমি তাই করলাম।যখন হজ্জ শেষ করলাম, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে 'আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাক্র (রাঃ)-এর সাথে তান্'ঈমে পাঠিয়ে দিলেন। তখন আমি 'উমরাহ্ করলাম। তিনি (ﷺ) বললেন: এটা তোমার [ছেড়ে দেয়া) 'উমরার স্থানে। অতএব যারা 'উমরার ইহরাম [নিয়্যাত] করেছিলেন, তাঁরা কা'বার ত্বওয়াফ এবং সফা ও মারওয়ার সা'ঈ করলেন। পরে তাঁরা হালাল হলেন। তাঁরা মিনা থেকে প্রত্যাবর্তনের পর হজ্জের জন্য আর একটি ত্বওয়াফ করলেন। কিন্তু যারা হজ্জ ও 'উমরার একত্রে নিয়্যাত করেছিলেন তাঁরা [ফার হিসেবে] একটিই ত্বওয়াফ করলেন।
[১] মিনা থেকে প্রত্যাবর্তনের পর মুহাসসাব নামক স্থানে অবস্থানের রাত্রি।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৭৬৪-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: হায়জে উমরাহ। এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) বিদায় হজ্জের সময় নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। তাঁরা রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গে বের হয়ে উমরার ইহরাম করেছিলেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) জানান, যার সঙ্গে হাদয়ী আছে সে উমরার সঙ্গে হজ্জেরও নিয়ত করবে এবং দুই কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হালাল হবে না। আয়িশা (রাঃ) মক্কায় পৌঁছান হায়জ অবস্থায়, তাই তিনি বায়তুল্লাহ তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সাঈ করতে পারেননি। তিনি বিষয়টি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে বললে তিনি মাথার বেণী খুলতে, চুল আঁচড়াতে, হজ্জের ইহরাম করতে এবং উমরাহ ছেড়ে দিতে বলেন। হজ্জ শেষ হলে তাঁকে আবদুর রহমান ইবন আবু বকর (রাঃ)-এর সঙ্গে তানঈমে পাঠানো হয়, সেখান থেকে তিনি উমরাহ করেন। এই হাদিস হজ্জ, উমরাহ, হাদয়ী এবং হায়জ অবস্থায় করণীয়কে সহজভাবে তুলে ধরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হাদয়ী সঙ্গে থাকলে হজ্জ ও উমরার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হালাল না হওয়ার নির্দেশ এসেছে।
- হায়জের কারণে তাওয়াফ ও সাঈ করতে না পারলে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশ অনুযায়ী করণীয় বদলানো হয়।
- হজ্জ শেষ করার পর আয়িশা (রাঃ)-কে তানঈম থেকে উমরাহ করার সুযোগ দেওয়া হয়।
- একত্রে হজ্জ ও উমরার নিয়তকারীদের তাওয়াফ সম্পর্কে এই বর্ণনায় আলাদা নির্দেশ এসেছে।
