২৪/৫৮. অধ্যায়ঃ

সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৭৬৩ - হায়জ অবস্থায় হজ্জ ও উমরাহ

‘উমরার তালবিয়াহ্ পাঠ [করে ইহ্রাম]-কারিণী যদি ঋতুমতী হয় এবং হাজ্জ অনাদায়ী হওয়ার আশঙ্কা করে

হায়জ অবস্থায় হজ্জ: আয়িশা (রাঃ)-এর ঘটনার সহজ ব্যাখ্যা

সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২৭৬৩

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: أَقْبَلْنَا مُهِلِّينَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِحَجٍّ مُفْرَدٍ، وَأَقْبَلَتْ عَائِشَةُ مُهِلَّةً بِعُمْرَةٍ حَتَّى إِذَا كُنَّا بِسَرِفَ، عَرَكَتْ حَتَّى إِذَا قَدِمْنَا طُفْنَا بِالْكَعْبَةِ، وَبِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ، فَأَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَنْ يَحِلَّ مِنَّا مَنْ لَمْ يَكُنْ مَعَهُ هَدْيٌ، قَالَ: فَقُلْنَا حِلُّ مَاذَا؟ قَالَ: «الْحِلُّ كُلُّهُ» فَوَاقَعْنَا النِّسَاءَ، وَتَطَيَّبْنَا بِالطِّيبِ، وَلَبِسْنَا ثِيَابَنَا وَلَيْسَ بَيْنَنَا وَبَيْنَ عَرَفَةَ إِلَّا أَرْبَعُ لَيَالٍ، ثُمَّ أَهْلَلْنَا يَوْمَ التَّرْوِيَةِ، ثُمَّ دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى عَائِشَةَ فَوَجَدَهَا تَبْكِي، فَقَالَ: «مَا شَأْنُكِ؟» فَقَالَتْ: شَأْنِي أَنِّي قَدْ حِضْتُ، وَقَدْ حَلَّ النَّاسُ، وَلَمْ أُحْلِلْ، وَلَمْ أَطُفْ بِالْبَيْتِ، وَالنَّاسُ يَذْهَبُونَ إِلَى الْحَجِّ الْآنَ، فَقَالَ: «إِنَّ هَذَا أَمْرٌ كَتَبَهُ اللَّهُ عَلَى بَنَاتِ آدَمَ، فَاغْتَسِلِي، ثُمَّ أَهِلِّي بِالْحَجِّ» فَفَعَلَتْ، وَوَقَفَتِ الْمَوَاقِفَ حَتَّى إِذَا طَهُرَتْ طَافَتْ بِالْكَعْبَةِ، وَبِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ، ثُمَّ قَالَ: «قَدْ حَلَلْتِ مِنْ حَجَّتِكِ، وَعُمْرَتِكِ جَمِيعًا» فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَجِدُ فِي نَفْسِي أَنِّي لَمْ أَطُفْ بِالْبَيْتِ حَتَّى حَجَجْتُ، قَالَ: «فَاذْهَبْ بِهَا يَا عَبْدَ الرَّحْمَنِ فَأَعْمِرْهَا مِنَ التَّنْعِيمِ» وَذَلِكَ لَيْلَةَ الْحَصْبَةِ

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে 'মুফরাদ' হজ্জের তালবিয়াহ্ পাঠ করতে করতে আর 'আয়িশাহ্ (রাঃ) গেলেন 'উমরার তালবিয়াহ্ পড়তে পড়তে। আমরা যখন সারিফ নামক স্থানে পৌঁছলাম, তখন 'আয়িশাহ্ (রাঃ) ঋতুগ্রস্ত হলেন। আমরা মাক্কায় পৌঁছে তখন কা'বাহ্ ত্বওয়াফ এবং সফা এবং মারওয়ার সা'ঈ করলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে আদেশ করলেন, যার সাথে 'হাদিয়' নেই, সে যেন হালাল হয়ে যায়। রাবী বলেন- আমরা বললাম: কোন্ ধরনের হালাল? তিনি (ﷺ) বললেন: সকল কিছুই হালাল হবে। পরে আমরা স্ত্রী সহবাস করলাম, সুগন্ধি ব্যবহার করলাম এবং আমাদের কাপড় পরিধান করলাম। অথচ এ সময় আমাদের ও 'আরাফার মধ্যে মাত্র চার রাতের ব্যবধান ছিল।তারপর আমরা ৮ই যিলহজ্জের দিন [হজ্জের] তালবিয়াহ্ পাঠ করলাম এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) 'আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর নিকট গিয়ে দেখলেন, তিনি কাঁদছেন। তিনি বললেন: তোমার কি হয়েছে? তিনি ('আয়িশাহ্ (রাঃ)) বললেন: আমার ঋতু শুরু হয়েছে। লোকজন তো হালাল হয়েছে [ইহ্রাম ভঙ্গ করেছে। অথচ আমি হালাল হতে পারিনি, আমি বায়তুল্লাহ্র ত্বওয়াফও করিনি। এখন লোকজন তো হজ্জ আদায়ের জন্য যাচ্ছে। তিনি (ﷺ) বললেন: এটা এমন এক বিষয়, যা আল্লাহ তা'আলা আদাম (আঃ)-এর কন্যাদের জন্য নির্ধারিত করেছেন। অতএব তুমি গোসল কর এবং হজ্জের ইহ্রাম [নিয়্যাত কর।তারপর তিনি তা-ই করলেন এবং বিভিন্ন অবস্থানস্থলে অবস্থান করলেন। এরপর যখন তিনি পবিত্র হলেন। তখন বায়তুল্লাহ্ ত্বওয়াফ করলেন এবং সফা ও মারওয়ায় সা'ঈ করলেন। তিনি (ﷺ) বললেন: এখন তুমি তোমার হজ্জ ও 'উমরাহ্ থেকে হালাল হয়ে গেলে। 'আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন : হে আল্লাহর রাসূল! আমার মনে দুঃখ এই যে, আমি বায়তুল্লাহ্ ত্বওয়াফ করিনি, অথচ হজ্জ করেছি। তিনি (ﷺ) বললেন: হে 'আবদুর রহমান! তাঁকে নিয়ে যাও এবং তান্'ঈম হতে 'উমরাহ্ করাও। সেটা ছিল মুহাস্সবের [পূর্বে 'উমরার জন্য] রাত।

সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৭৬৩-এর সারসংক্ষেপ

মূল বিষয়: হায়জে হজ্জ। এই হাদিসে হজ্জের সফরে আয়িশা (রাঃ)-এর একটি দীর্ঘ ঘটনা এসেছে। সাহাবীরা রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গে হজ্জের তালবিয়া পাঠ করতে করতে যান, আর আয়িশা (রাঃ) উমরার তালবিয়া পাঠ করছিলেন। সারিফ নামক স্থানে তিনি ঋতুগ্রস্ত হন। মক্কায় পৌঁছে অন্যরা কাবা তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সাঈ করে, কিন্তু তিনি তা করতে পারেননি। তিনি কাঁদছিলেন, কারণ মানুষ হালাল হয়ে যাচ্ছিল আর তিনি তাওয়াফ করতে পারেননি। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে বলেন, এটি আদম সন্তানের নারীদের জন্য নির্ধারিত বিষয়; তিনি গোসল করে হজ্জের ইহরাম করবেন। পরে পবিত্র হলে তিনি কাবা তাওয়াফ ও সাঈ করেন। এরপর তাঁর মনে দুঃখ থাকায় আবদুর রহমান (রাঃ)-এর সঙ্গে তানঈম থেকে উমরাহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। হাদিসটি ধৈর্য, নিয়ম মেনে চলা এবং হজ্জের কাজে সময় অনুযায়ী করণীয় বুঝিয়ে দেয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • হায়জ নারীদের স্বাভাবিক বিষয়; এ কারণে অযথা হতাশ না হয়ে নির্দেশ মেনে চলা দরকার।
  • তাওয়াফ ও সাঈ করার সময়ের ক্ষেত্রে পবিত্রতার বিষয়টি এই বর্ণনায় গুরুত্বপূর্ণ।
  • হাদয়ী না থাকলে হালাল হওয়ার নির্দেশ এই হাদিসে স্পষ্টভাবে এসেছে।
  • আয়িশা (রাঃ)-এর দুঃখের জবাবে নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁর জন্য তানঈম থেকে উমরার ব্যবস্থা করেন।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন