২৬/৮. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৩২২৪ - পালক সন্তানের আসল পরিচয়
আযাদকৃত গোলামের সঙ্গে গ্রাম্য (স্বাধীন) নারীর বিবাহ
পালক সন্তানের পরিচয়: জন্মদাতা পিতার নামেই সম্পর্ক
সুনানে আন-নাসায়ী : ৩২২৪
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৩২২৪
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلَالٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلَالٍ، قَالَ: قَالَ يَحْيَى يَعْنِي ابْنَ سَعِيدٍ، وَأَخْبَرَنِي ابْنُ شِهَابٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، وَابْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأُمِّ سَلَمَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَنَّ أَبَا حُذَيْفَةَ بْنَ عُتْبَةَ بْنِ رَبِيعَةَ بْنِ عَبْدِ شَمْسٍ، وَكَانَ مِمَّنْ شَهِدَ بَدْرًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، تَبَنَّى سَالِمًا وَهُوَ مَوْلًى لِامْرَأَةٍ مِنَ الْأَنْصَارِ، كَمَا «تَبَنَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَيْدَ بْنَ حَارِثَةَ» وَأَنْكَحَ أَبُو حُذَيْفَةَ بْنُ عُتْبَةَ سَالِمًا ابْنَةَ أَخِيهِ هِنْدَ ابْنَةَ الْوَلِيدِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ رَبِيعَةَ، وَكَانَتْ هِنْدُ بِنْتُ الْوَلِيدِ بْنِ عُتْبَةَ مِنَ الْمُهَاجِرَاتِ الْأُوَلِ، وَهِيَ يَوْمَئِذٍ مِنْ أَفْضَلِ أَيَامَى قُرَيْشٍ، فَلَمَّا أَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فِي زَيْدِ بْنِ حَارِثَةَ {ادْعُوهُمْ لِآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ} [الأحزاب: 5] رُدَّ كُلُّ أَحَدٍ يَنْتَمِي مِنْ أُولَئِكَ إِلَى أَبِيهِ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ يُعْلَمُ أَبُوهُ، رُدَّ إِلَى مَوَالِيهِ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) এবং উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নাবী (ﷺ)-এর স্ত্রী 'আয়িশাহ্ (রাঃ) এবং উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আবূ হুযায়ফাহ্ ইবনু 'উতবাহ্ ইবনু রবী'আহ্ ইবনু 'আব্দ শামস্ ছিলেন ঐ লোকেদের একজন, যাঁরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে বাদ্র যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি সালিম (রাঃ) নামক এক ব্যক্তিকে পালকপুত্র বানিয়ে নেন। সালিম ছিলেন এক আনসারী মহিলার ক্রীতদাস। যেমন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যায়দ ইবনু হারিসাকে পোষ্যপুত্র হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। আবূ হুযায়ফাহ্ ইবনু 'উতবাহ্ তার ভাতিজি হিন্দ বিনতু ওয়ালীদ ইবনু রবী'আহ্-কে তার সাথে বিবাহ দিলেন। হিন্দ বিনতু ওয়ালীদ ইবনু 'উতবাহ্ ছিলেন প্রথম পর্যায়ে [প্রবীণ] হিজরতকারিণীদের একজন এবং কুরায়শের বিধবাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।এরপর মহান ও মহীয়ান আল্লাহ যায়দ ইবনু হারিসাহ্ (রাঃ) সম্পর্কে আয়াত নাযিল করলেন: ادْعُوهُمْ لِآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ “তাদের [পালক পুত্রদের] তোমরা ডাকবে [জন্মদাতা] পিতার প্রতি সম্বন্ধিত করে। এটিই আল্লাহর কাছে অধিক ন্যায়সঙ্গত।”তখন প্রত্যেককে [পোষ্যপুত্রকে] এদের [পালক-পিতা] থেকে তার জন্মদাতা পিতার দিকে সম্পৃক্ত করা হল। যদি তার পিতার সম্পর্কে জানা না থাকতো, তাহলে তাকে মুক্তিদানকারী মালিকের সাথে সম্পৃক্ত করা হত।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৩২২৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবু হুযাইফা (রাঃ), সালিম এবং যায়দ ইবন হারিসা (রাঃ)-এর প্রসঙ্গ এসেছে। আবু হুযাইফা (রাঃ) সালিমকে পালকপুত্র করেছিলেন এবং তাঁর ভাতিজি হিন্দ বিনতে ওয়ালিদের সাথে তার বিবাহ দেন। পরে আল্লাহ তা’আলা আয়াত নাযিল করেন যে, পালকপুত্রদের জন্মদাতা পিতার দিকে সম্পৃক্ত করে ডাকতে হবে। তখন যারা পালকপিতার নামে পরিচিত ছিল, তাদের নিজ নিজ পিতার দিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। আর যার পিতা জানা ছিল না, তাকে তার মাওলার দিকে সম্পৃক্ত করা হতো। এই বর্ণনা আমাদের শেখায়, ইসলামে দয়া, লালন-পালন ও সম্পর্কের মর্যাদা আছে; কিন্তু বংশ পরিচয় বদলানোর অনুমতি নেই। পরিচয় সত্য রাখা ন্যায় ও আমানতের অংশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পালক সম্পর্ক থাকলেও জন্মদাতা পিতার পরিচয় অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।
- যার পিতা জানা নেই, তাকে মাওলার সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
- বিবাহ ও সামাজিক সম্পর্কে আসল পরিচয় জানা গুরুত্বপূর্ণ।
- ইসলাম ভালোবাসার সম্পর্ককে মানে, কিন্তু পরিচয়ে সত্যকে আগে রাখে।
