৩/১. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৩৪৮ - হায়জ অবস্থায় হজ্জের কাজ
হায়য শুরু হওয়া এবং হায়যকে নিফাস বলা যায় কি?
হায়জ অবস্থায় হজ্জে কী করা যাবে
সুনানে আন-নাসায়ী : ৩৪৮
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৩৪৮
أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا نُرَى إِلَّا الْحَجَّ، فَلَمَّا كُنَّا بِسَرِفَ حِضْتُ، فَدَخَلَ عَلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا أَبْكِي فَقَالَ: «مَا لَكِ أَنَفِسْتِ؟» قُلْتُ: نَعَمْ. قَالَ: «هَذَا أَمْرٌ كَتَبَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى بَنَاتِ آدَمَ، فَاقْضِي مَا يَقْضِي الْحَاجُّ غَيْرَ أَنْ لَا تَطُوفِي بِالْبَيْتِ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে বের হলাম হজ্জ করা ব্যতীত আমাদের আর কোন উদ্দেশ্য ছিল না। যখন আমরা সারিফ নামক স্থানে পৌঁছলাম তখন আমি ঋতুবতী হলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার কাছে আসলেন তখন আমি কাঁদছিলাম। তিনি বলেন, তোমার কি হলো? তোমার কি নিফাস (হায়য) আরম্ভ হয়েছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, এ এমন একটি বিষয় যা আল্লাহ তা'আলা আদাম কন্যাদের জন্যে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। অতএব, বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ব্যতীত হাজীগণ যে সব কাজ করে থাকেন, তুমিও তা কর।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৩৪৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) বলেন, তারা রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সাথে হজ্জের উদ্দেশ্যে বের হন। সারিফ নামক স্থানে পৌঁছার পর তিনি হায়জ অবস্থায় পড়েন এবং কাঁদতে থাকেন। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাকে জিজ্ঞেস করেন, হায়জ শুরু হয়েছে কি না। তিনি হ্যাঁ বললে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেন, এটি আদম কন্যাদের জন্য আল্লাহ নির্ধারণ করেছেন। এরপর তিনি নির্দেশ দেন, বায়তুল্লাহর তওয়াফ ছাড়া হাজীগণ যে কাজ করে, তিনিও তা করবেন। হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো, হায়জ নারীকে হজ্জের সব কাজ থেকে আলাদা করে দেয় না; তবে তাওয়াফের বিষয়ে এখানে স্পষ্ট ব্যতিক্রম এসেছে। এই বর্ণনা হায়জ অবস্থায় হজ্জ, তাওয়াফ এবং নারীর ইবাদত বিষয়ে খুব গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাখ্যা করার সময় শুধু হাদিসে বলা কাজগুলোর মধ্যেই থাকা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হায়জ আদম কন্যাদের জন্য নির্ধারিত একটি স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে বলা হয়েছে।
- হায়জ অবস্থায় বায়তুল্লাহর তাওয়াফ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ এসেছে।
- তাওয়াফ ছাড়া হাজীদের কাজ করার অনুমতি এই বর্ণনায় আছে।
- দুশ্চিন্তার সময় রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সান্ত্বনাময় আচরণ দেখা যায়।
