৫/১. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৪৪৯ - পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের মর্যাদা
সলাত ফার্য হওয়া এবং আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-এর বর্ণনাকারীদের সানাদের মতভেদ প্রসঙ্গে এবং এ ব্যাপারে তাঁদের শব্দাবলীর ভিন্নতার আলোচনা
পাঁচ ওয়াক্ত সালাত পঞ্চাশের সমান প্রতিদান
সুনানে আন-নাসায়ী : ৪৪৯
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৪৪৯
أَخْبَرَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ وَابْنُ حَزْمٍ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فَرَضَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى أُمَّتِي خَمْسِينَ صَلَاةً فَرَجَعْتُ بِذَلِكَ حَتَّى أَمُرَّ بِمُوسَى عَلَيْهِ السَّلَامُ فَقَالَ: مَا فَرَضَ رَبُّكَ عَلَى أُمَّتِكَ؟ قُلْتُ: فَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسِينَ صَلَاةً. قَالَ لِي مُوسَى: فَرَاجِعْ رَبَّكَ عَزَّ وَجَلَّ؛ فَإِنَّ أُمَّتَكَ لَا تُطِيقُ ذَلِكَ. فَرَاجَعْتُ رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ فَوَضَعَ شَطْرَهَا، فَرَجَعْتُ إِلَى مُوسَى فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ: رَاجِعْ رَبَّكَ؛ فَإِنَّ أُمَّتَكَ لَا تُطِيقُ ذَلِكَ. فَرَاجَعْتُ رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ فَقَالَ: هِيَ خَمْسٌ وَهِيَ خَمْسُونَ لَا يُبَدَّلُ الْقَوْلُ لَدَيَّ. فَرَجَعْتُ إِلَى مُوسَى فَقَالَ: رَاجِعْ رَبَّكَ. فَقُلْتُ: قَدِ اسْتَحْيَيْتُ مِنْ رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ "
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) এবং ইবনু হাযম (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: আল্লাহ তা'আলা আমার উম্মাতের ওপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফার্য করলেন। আমি ঐ পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত নিয়ে মূসা (আঃ)-এর নিকট ফিরে এলাম। তখন মূসা (আঃ) আমাকে প্রশ্ন করলেন যে, আপনার প্রতিপালক আপনার উম্মাতের ওপর কি ফার্য করেছেন? তখন আমি বললাম, পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফার্য করেছেন। মূসা (আঃ) আমাকে বললেন যে, আপনি পুনরায় আপনার প্রতিপালকের নিকট যান। কারণ, আপনার উম্মাত পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতে পারবে না।তারপর আমি আমার প্রতিপালকের নিকট গেলাম। আল্লাহ তা'আলা পঞ্চাশ ওয়াক্ত হতে কিছু কমিয়ে দিলেন। আমি মূসা (আঃ)-এর নিকট এসে তাঁকে এ বিষয়ে জানালাম। তিনি বললেন, আপনি আবার যান। কেননা আপনার উম্মাত তা আদায় করতে পারবে না। পরে আমি আবার আমার প্রতিপালকের নিকট গেলাম। তখন আল্লাহ তা'আলা বললেন, সালাত পাঁচ ওয়াক্ত (গণনা হিসেবে)। কিন্তু এ পাঁচ ওয়াক্ত সালাতই পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাতের সমান (প্রতিদান হিসেবে)। এটাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, আমার সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হয় না।তারপর আমি মূসা (আঃ)-এর কাছে ফিরে যাই। মূসা (আঃ) বললেন, আবার আপনার প্রতিপালকের কাছে যান। তখন আমি বললাম, আমি আমার মহান প্রতিপালকের নিকট এ বিষয় নিয়ে আবার উপস্থিত হতে লজ্জাবোধ করছি।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৪৪৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মি‘রাজের সময় সালাত ফরজ হওয়ার বিষয়টি সংক্ষিপ্তভাবে এসেছে। আল্লাহ প্রথমে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর উম্মতের ওপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) মূসা (আঃ)-এর কাছে গেলে তিনি উম্মতের অক্ষমতার কথা বলে আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) ফিরে গিয়ে সহজ করার আবেদন করেন। শেষে আল্লাহ বলেন, সালাত পাঁচ ওয়াক্ত, কিন্তু প্রতিদানে তা পঞ্চাশ ওয়াক্তের সমান। এই হাদিসে সালাতের মর্যাদা যেমন বোঝা যায়, তেমনি আল্লাহর রহমত ও সহজ করার দিকও স্পষ্ট হয়। পাঁচ ওয়াক্ত সালাত তাই মুসলিম জীবনের মূল ইবাদতগুলোর একটি, যা অবহেলা না করে যত্নের সঙ্গে আদায় করা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে।
- প্রতিদানে পাঁচ ওয়াক্ত পঞ্চাশ ওয়াক্তের সমান বলা হয়েছে।
- আল্লাহ বান্দাদের জন্য সহজতা দান করেছেন।
- সালাত মুসলিম জীবনের নিয়মিত ইবাদত।
