৫/১. অধ্যায়ঃ
সলাত ফার্য হওয়া এবং আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-এর বর্ণনাকারীদের সানাদের মতভেদ প্রসঙ্গে এবং এ ব্যাপারে তাঁদের শব্দাবলীর ভিন্নতার আলোচনা
সুনানে নাসাঈ : ৪৫০
সুনানে নাসাঈহাদিস নম্বর ৪৫০
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ هِشَامٍ قَالَ: حَدَّثَنَا مَخْلَدٌ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي مَالِكٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " أُتِيتُ بِدَابَّةٍ فَوْقَ الْحِمَارِ وَدُونَ الْبَغْلِ خَطْوُهَا عِنْدَ مُنْتَهَى طَرْفِهَا، فَرَكِبْتُ وَمَعِي جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَسِرْتُ فَقَالَ: انْزِلْ فَصَلِّ فَفَعَلْتُ. فَقَالَ: أَتَدْرِي أَيْنَ صَلَّيْتَ؟ صَلَّيْتَ بِطَيْبَةَ وَإِلَيْهَا الْمُهَاجَرُ، ثُمَّ قَالَ: انْزِلْ فَصَلِّ فَصَلَّيْتُ، فَقَالَ: أَتَدْرِي أَيْنَ صَلَّيْتَ؟ صَلَّيْتَ بِطُورِ سَيْنَاءَ حَيْثُ كَلَّمَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ مُوسَى عَلَيْهِ السَّلَامُ، ثُمَّ قَالَ: انْزِلْ فَصَلِّ فَنَزَلْتُ فَصَلَّيْتُ. فَقَالَ: أَتَدْرِي أَيْنَ صَلَّيْتَ؟ صَلَّيْتَ بِبَيْتِ لَحْمٍ حَيْثُ وُلِدَ عِيسَى عَلَيْهِ السَّلَامُ. ثُمَّ دَخَلْتُ بَيْتَ الْمَقْدِسِ فَجُمِعَ لِيَ الْأَنْبِيَاءُ عَلَيْهِمُ السَّلَامُ , فَقَدَّمَنِي جِبْرِيلُ حَتَّى أَمَمْتُهُمْ، ثُمَّ صُعِدَ بِي إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا , فَإِذَا فِيهَا آدَمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ، ثُمَّ صُعِدَ بِي إِلَى السَّمَاءِ الثَّانِيَةِ , فَإِذَا فِيهَا ابْنَا الْخَالَةِ عِيسَى وَيَحْيَى عَلَيْهِمَا السَّلَامُ، ثُمَّ صُعِدَ بِي إِلَى السَّمَاءِ الثَّالِثَةِ فَإِذَا فِيهَا يُوسُفُ عَلَيْهِ السَّلَامُ، ثُمَّ صُعِدَ بِي إِلَى السَّمَاءِ الرَّابِعَةِ , فَإِذَا فِيهَا هَارُونُ عَلَيْهِ السَّلَامُ، ثُمَّ صُعِدَ بِي إِلَى السَّمَاءِ الْخَامِسَةِ فَإِذَا فِيهَا إِدْرِيسُ عَلَيْهِ السَّلَامُ، ثُمَّ صُعِدَ بِي إِلَى السَّمَاءِ السَّادِسَةِ فَإِذَا فِيهَا مُوسَى عَلَيْهِ السَّلَامُ، ثُمَّ صُعِدَ بِي إِلَى السَّمَاءِ السَّابِعَةِ , فَإِذَا فِيهَا إِبْرَاهِيمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ. ثُمَّ صُعِدَ بِي فَوْقَ سَبْعِ سَمَاوَاتٍ فَأَتَيْنَا سِدْرَةَ الْمُنْتَهَى، فَغَشِيَتْنِي ضبَابُةٌ , فَخَرَرْتُ سَاجِدًا , فَقِيلَ لِي: إِنِّي يَوْمَ خَلَقْتُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فَرَضْتُ عَلَيْكَ وَعَلَى أُمَّتِكَ خَمْسِينَ صَلَاةً، فَقُمْ بِهَا أَنْتَ وَأُمَّتُكَ، فَرَجَعْتُ إِلَى إِبْرَاهِيمَ فَلَمْ يَسْأَلْنِي عَنْ شَيْءٍ، ثُمَّ أَتَيْتُ عَلَى مُوسَى فَقَالَ: كَمْ فَرَضَ اللَّهُ عَلَيْكَ وَعَلَى أُمَّتِكَ؟ قُلْتُ: خَمْسِينَ صَلَاةً , قَالَ: فَإِنَّكَ لَا تَسْتَطِيعُ أَنْ تَقُومَ بِهَا أَنْتَ وَلَا أُمَّتُكَ , فَارْجِعْ إِلَى رَبِّكَ فَاسْأَلْهُ التَّخْفِيفَ، فَرَجَعْتُ إِلَى رَبِّي فَخَفَّفَ عَنِّي عَشْرًا، ثُمَّ أَتَيْتُ مُوسَى فَأَمَرَنِي بِالرُّجُوعِ فَرَجَعْتُ فَخَفَّفَ عَنِّي عَشْرًا، ثُمَّ رُدَّتْ إِلَى خَمْسِ صَلَوَاتٍ. قَالَ: فَارْجِعْ إِلَى رَبِّكَ , فَاسْأَلْهُ التَّخْفِيفَ؛ فَإِنَّهُ فَرَضَ عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ صَلَاتَيْنِ , فَمَا قَامُوا بِهِمَا. فَرَجَعْتُ إِلَى رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ , فَسَأَلْتُهُ التَّخْفِيفَ , فَقَالَ: إِنِّي يَوْمَ خَلَقْتُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فَرَضْتُ عَلَيْكَ وَعَلَى أُمَّتِكَ خَمْسِينَ صَلَاةً فَخَمْسٌ بِخَمْسِينَ، فَقُمْ بِهَا أَنْتَ وَأُمَّتُكَ. فَعَرَفْتُ أَنَّهَا مِنَ اللَّهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى صِرَّى، فَرَجَعْتُ إِلَى مُوسَى عَلَيْهِ السَّلَامُ فَقَالَ: ارْجِعْ فَعَرَفْتُ أَنَّهَا مِنَ اللَّهِ صِرَّى - أَيْ: حَتْمٌ - فَلَمْ أَرْجِعْ "---[حكم الألباني] منكر
আনাস ইব্ন মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আমার সামনে এমন একটি পশু নিয়ে আসা হলো যা আকারে গাধা হতে বড় এবং খচ্চর হতে ছোট এবং যার কদম রাখার দূরত্ব ছিল দৃষ্টিশক্তির শেষ সীমা পর্যন্ত। আমি তার উপর আরোহণ করলাম। জিবরাইল (আঃ) আমার সঙ্গে ছিলেন। আমরা সফর করলাম (মাদিনায় পর্যন্ত)। জিবরাইল (আঃ) বললেন, আপনি নেমে সালাত আদায় করুন। আমি সালাত আদায় করলাম। জিবরাইল (আঃ) বললেন, আপনি কোথায় সালাত আদায় করেছেন তা কি জানেন? আপনি মদিনায় সালাত আদায় করেছেন। এ শহরেই আপনি হিজরত করবেন। আবার জিবরাইল (আঃ) বললেন, আপনি নেমে সালাত আদায় করুন। আমি তখন নেমে সালাত আদায় করলাম। জিবরাইল (আঃ) বললেন, আপনি কি জানেন কোন জায়গায় সালাত আদায় করেছেন? আপনি ‘তূর সাইনা’ নামক জায়গায় সালাত আদায় করেছেন। যে পাহাড়ে আল্লাহ মূসা (আঃ)-এর সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তারপর আবার এক জায়গায় গিয়ে জিবরাইল (আঃ) বললেন, অবতরণ করে সালাত আদায় করুন। আমি তাই করলাম। জিবরাইল (আঃ) বললেন, আপনি কি জানেন, আপনি কোথায় সালাত আদায় করেছেন? আপনি ‘বাইতুল লাহম’ নামক স্থানে সালাত আদায় করেছেন। যেখানে ঈসা (আঃ) জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তারপর আমি "বাইতুল মাকদিস"-এ প্রবেশ করলাম এবং সমস্ত নবীকে আমার নিকট একত্রিত করা হলো এবং জিবরাইল (আঃ) আমাকে সামনে এগিয়ে দিলেন আমি সকলের ইমামাত করলাম।তারপর আমাকে নিয়ে প্রথম আসমানে উঠলেন। সেখানে আদম (আঃ)-এর সাক্ষাৎ লাভ করলাম। এরপর আমাকে নিয়ে দ্বিতীয় আসমানে উঠলেন। সেখানে পরপর দুই খালাত ভাই ঈসা (আঃ) ও ইয়াহিয়া (আঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ হলো। তারপর আমাকে নিয়ে তৃতীয় আসমানে উঠলেন, সেখানে ইউসুফ (আঃ)-এর সাথে দেখা হলো। এরপর আমাকে নিয়ে চতুর্থ আসমানে উঠলেন এবং সেখানে হারুন (আঃ)-এর সাথে দেখা হলো। তারপর আমাকে নিয়ে পঞ্চম আসমানে উঠলেন সেখানে ইদরিস (আঃ)-এর সাথে দেখা হলো। এরপর আমাকে ষষ্ঠ আকাশে উঠালেন, সেখানে মূসা (আঃ)-এর সাথে দেখা হলো। তারপর আমাকে সপ্তম আসমানে নিয়ে গেলেন এবং সেখানে ইব্রাহিম (আঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ হলো। এরপর আমাকে নিয়ে সপ্তম আসমানের উপরে উঠলেন। তখন আমরা সিদরাতুল মুনতাহায় পৌঁছলাম। সেখানে এক খণ্ড মেঘ আমাকে পরিবেষ্টন করে ফেলল- তাই আমি সিজদায় অবনত হলাম।তখন আমাকে বলা হলো- যেদিন আমি এ আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছি সেদিন আপনার ওপর ও আপনার উম্মতের ওপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছি। আপনি এবং আপনার উম্মত এ সালাত কায়েম করুন। তখন আমি ইব্রাহিম (আঃ)-এর নিকট প্রত্যাবর্তন করলাম। তিনি আমাকে কিছুই জিজ্ঞেস করলেন না। পরে মূসা (আঃ)-এর নিকট এলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেন যে, আপনার এবং আপনার উম্মতের ওপর আল্লাহ কি ফরজ করেছেন? আমি বললাম, পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছেন। তখন মূসা (আঃ) বললেন, নিশ্চয় আপনি এবং আপনার উম্মত পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত যথাযথ আদায় করতে পারবেন না। আপনি আপনার প্রতিপালকের নিকট ফিরে যান এবং কমানোর জন্যে নিবেদন করুন। আমি প্রতিপালকের নিকট গেলাম। তিনি সালাত দশ ওয়াক্ত কমিয়ে দিলেন। তারপর আবার মূসা (আঃ)-এর নিকট এলাম। তিনি আমাকে পুনরায় ফিরে যেতে বললেন, আমি আবার রবের নিকট ফিরে গেলাম। তখন তিনি আরো দশ ওয়াক্ত কমিয়ে দিলেন। তারপর মূসা (আঃ) এর নিকট ফিরে আসার পর তিনি আমাকে পুনরায় যেতে বললেন, আমি আবার গেলাম। তিনি দশ ওয়াক্ত কমিয়ে দিলেন। তারপর সর্বশেষ সালাতকে পাঁচ ওয়াক্তে পরিণত করা হলো। মূসা (আঃ) বললেন, আপনি পুনরায় প্রতিপালকের নিকট যান এবং সালাত আরো কমানোর আবেদন উপস্থাপন করুন। কেননা আল্লাহ বনি ইসরাইল-এর ওপর শুধু দুই ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছিলেন। তারা এ দুই ওয়াক্তও আদায় করেনি। তখন আমি আবার আল্লাহর নিকট ফিরে গিয়ে সালাত কমিয়ে দেয়ার জন্যে আরজ করলাম। তখন তিনি বললেন, নিশ্চয় আমি যেদিন এ আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছি সেদিন আপনার এবং আপনার উম্মতের ওপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছি। আর এ পাঁচ ওয়াক্তই পঞ্চাশ ওয়াক্তের সমান বলে গণ্য হবে। আপনি ও আপনার উম্মত তা আদায় করুন। তখন আমি বুঝতে পারলাম যে, এ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আল্লাহর পক্ষ হতে অবশ্য পালনীয়। এরপর আমি মূসা (আঃ)-এর কাছে ফিরে এলাম। এবারও তিনি আমাকে পুনরায় ফিরে যেতে বললেন। কিন্তু আমি বুঝতে পারলাম যে, পাঁচ ওয়াক্ত আল্লাহর পক্ষ হতে অবশ্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তাই আমি আর আল্লাহর কাছে পুনরায় যাইনি।
