৬/১৬. অধ্যায়ঃ

সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৫২৫ - ফরজ সালাত আদায়ের সুন্নতি সময়

মাগরিবের সলাতের পরে ঘুমানো মাকরূহ

ফরজ সালাতের সময়: নবীজি কীভাবে আদায় করতেন

সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৫২৫

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى قَالَ: حَدَّثَنَا عَوْفٌ، قَالَ: حَدَّثَنِي سَيَّارُ بْنُ سَلَامَةَ قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى أَبِي بَرْزَةَ فَسَأَلَهُ أَبِي: كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي الْمَكْتُوبَةَ؟قَالَ: «كَانَ يُصَلِّي الْهَجِيرَ الَّتِي تَدْعُونَهَا الْأُولَى حِينَ تَدْحَضُ الشَّمْسُ، وَكَانَ يُصَلِّي الْعَصْرَ حِينَ يَرْجِعُ أَحَدُنَا إِلَى رَحْلِهِ فِي أَقْصَى الْمَدِينَةِ وَالشَّمْسُ حَيَّةٌ - وَنَسِيتُ مَا قَالَ فِي الْمَغْرِبِ - وَكَانَ يَسْتَحِبُّ أَنْ يُؤَخِّرَ الْعِشَاءَ الَّتِي تَدْعُونَهَا الْعَتَمَةَ، وَكَانَ يَكْرَهُ النَّوْمَ قَبْلَهَا وَالْحَدِيثَ بَعْدَهَا، وَكَانَ يَنْفَتِلُ مِنْ صَلَاةِ الْغَدَاةِ حِينَ يَعْرِفُ الرَّجُلُ جَلِيسَهُ، وَكَانَ يَقْرَأُ بِالسِّتِّينَ إِلَى الْمِائَةِ»

সাইয়্যার ইবনু সালামাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি (আমার পিতার সাথে) আবূ বারযাহ্ (রাঃ)-এর নিকটে গেলাম। আমার পিতা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিভাবে ফরজ সালাত আদায় করতেন, এ সম্বন্ধে তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, সূর্য ঢলে পড়লে যুহরের সালাত আদায় করতেন যাকে তোমরা প্রথম সালাত বলে থাক। তিনি এমন সময় আসরের সালাত আদায় করতেন যে, সালাত আদায় করে কেউ মাদীনার এক প্রান্তে নিজ জায়গায় আসতে পারত এবং তখনো সূর্য আলোকোজ্জ্বল থাকত।বর্ণনাকারী সাইয়্যার (রহঃ) বলেন, মাগরিব সম্বন্ধে কি বলেছিলেন তা আমি ভুলে গেছি। 'ইশার সালাত যাকে তোমরা 'আত্বামাহ্' বল, বিলম্বে আদায় করা পছন্দ করতেন। 'ইশার আগে ঘুমানো ও 'ইশার পরে কথা বলাকে অপছন্দ করতেন। আর ফজরের সালাত আদায় করে এমন সময় ফিরতেন যে, তখন যে কেউ তার পাশের লোককে চিনতে পারত। আর সালাতে ষাট আয়াত হতে একশত আয়াত পর্যন্ত পাঠ করতেন।

[১] নবী (ﷺ) -কে নিয়ে জিব্রাঈল (আঃ) সর্বপ্রথম যোহরের সালাত আদায় করেছিলেন। এ কারণে সাহাবীগণ এই সালাতকে প্রথম সালাত বলে অভিহিত করতেন।[২] এই হাদীস অনুযায়ী প্রায় সকল ফিকহবিদ ইশার পূর্বে নিদ্রা যাওয়া ও পরে কথা বলাকে মাকরূহ বলেন। তবে ক্লান্তি দূর করার জন্য এ সালাতের পূর্বে সামান্য বিশ্রাম করা বা পরে কোন সৎ অথবা জরুরী কথা বলা এর অন্তর্ভুক্ত নয়।

সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৫২৫-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আবু বরযা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হয়, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ফরজ সালাত কীভাবে আদায় করতেন। তিনি বলেন, সূর্য ঢলে পড়লে যুহর আদায় করতেন। আসর এমন সময় পড়তেন যে, কেউ মদিনার এক প্রান্তে নিজের জায়গায় ফিরতে পারত, অথচ সূর্য তখনও আলো দিত। ইশা সালাত বিলম্বে আদায় করা তিনি পছন্দ করতেন। তবে ইশার আগে ঘুমানো এবং ইশার পরে কথা বলা অপছন্দ করতেন। ফজর শেষে এমন সময় ফিরতেন যখন পাশে থাকা লোককে চেনা যেত। ফজরে ষাট থেকে একশত আয়াত পর্যন্ত পড়ার কথাও এসেছে। এই হাদিসে সালাতের সময়, ইশার আদব এবং ফজরের কিরাআত—সবই সহজভাবে এসেছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • যুহর সূর্য ঢলে পড়ার পর আদায় করার কথা এসেছে।
  • আসর এমন সময়ে আদায় করা উচিত যখন সূর্য এখনো উজ্জ্বল থাকে।
  • ইশার আগে ঘুমানো ও পরে কথা বলা অপছন্দনীয় বলা হয়েছে।
  • ফজরে তুলনামূলক দীর্ঘ কিরাআতের কথা এসেছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন