৬/১৭. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৫২৬ - জিবরাইল (আঃ)-এর মাধ্যমে সালাতের সময়
‘ইশার প্রথম ওয়াক্ত প্রসঙ্গ
জিবরাইল (আঃ)-এর শেখানো নামাজের ওয়াক্ত
সুনানে আন-নাসায়ী : ৫২৬
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৫২৬
أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ قَالَ: أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ حُسَيْنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي وَهْبُ بْنُ كَيْسَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: «جَاءَ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ زَالَتِ الشَّمْسُ فَقَالَ: قُمْ يَا مُحَمَّدُ فَصَلِّ الظُّهْرَ حِينَ مَالَتِ الشَّمْسُ، ثُمَّ مَكَثَ حَتَّى إِذَا كَانَ فَيْءُ الرَّجُلِ مِثْلَهُ جَاءَهُ لِلْعَصْرِ فَقَالَ: قُمْ يَا مُحَمَّدُ فَصَلِّ الْعَصْرَ، ثُمَّ مَكَثَ حَتَّى إِذَا غَابَتِ الشَّمْسُ جَاءَهُ فَقَالَ: قُمْ فَصَلِّ الْمَغْرِبَ، فَقَامَ فَصَلَّاهَا حِينَ غَابَتِ الشَّمْسُ سَوَاءً، ثُمَّ مَكَثَ حَتَّى إِذَا ذَهَبَ الشَّفَقُ جَاءَهُ فَقَالَ: قُمْ فَصَلِّ الْعِشَاءَ فَقَامَ فَصَلَّاهَا، ثُمَّ جَاءَهُ حِينَ سَطَعَ الْفَجْرُ فِي الصُّبْحِ فَقَالَ: قُمْ يَا مُحَمَّدُ فَصَلِّ، فَقَامَ فَصَلَّى الصُّبْحَ، ثُمَّ جَاءَهُ مِنَ الْغَدِ حِينَ كَانَ فَيْءُ الرَّجُلِ مِثْلَهُ فَقَالَ: قُمْ يَا مُحَمَّدُ فَصَلِّ، فَصَلَّى الظُّهْرَ، ثُمَّ جَاءَهُ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ حِينَ كَانَ فَيْءُ الرَّجُلِ مِثْلَيْهِ فَقَالَ: قُمْ يَا مُحَمَّدُ فَصَلِّ، فَصَلَّى الْعَصْرَ، ثُمَّ جَاءَهُ لِلْمَغْرِبِ حِينَ غَابَتِ الشَّمْسُ وَقْتًا وَاحِدًا لَمْ يَزُلْ عَنْهُ فَقَالَ: قُمْ فَصَلِّ فَصَلَّى الْمَغْرِبَ، ثُمَّ جَاءَهُ لِلْعِشَاءِ حِينَ ذَهَبَ ثُلُثُ اللَّيْلِ الْأَوَّلُ فَقَالَ: قُمْ فَصَلِّ، فَصَلَّى الْعِشَاءَ، ثُمَّ جَاءَهُ لِلصُّبْحِ حِينَ أَسْفَرَ جِدًّا فَقَالَ: قُمْ فَصَلِّ، فَصَلَّى الصُّبْحَ، فَقَالَ: مَا بَيْنَ هَذَيْنِ وَقْتٌ كُلُّهُ "
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
সূর্য ঢলে পড়ার পর জিবরীল (আঃ) নাবী (ﷺ)-এর কাছে এসে বললেন, হে মুহাম্মাদ (ﷺ)! আপনি দাঁড়ান, সূর্য মাথার উপর হতে ঢলে পড়লে যুহরের সালাত আদায় করুন। তারপর এতটুকু বিলম্ব করলেন যে, মানুষের ছায়া যখন তার সমান হল তখন আসরের সালাতের জন্যে তাঁর নিকটে এসে বললেন, হে মুহাম্মাদ (ﷺ)! আসরের সালাত আদায় করুন। আবার বেশ দেরী করে সূর্য অস্ত যাওয়ার পরে এসে বললেন, মাগরিবের সালাত আদায় করুন। নাবী (ﷺ) দাঁড়ালেন এবং সূর্য অস্ত যাওয়ার সাথে সাথেই মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। পুনরায় অপেক্ষা করলেন এবং আকাশের লালিমা অদৃশ্য হয়ে গেলে, তিনি এসে বললেন, 'ইশার সালাত আদায় করুন। তারপর তিনি দাঁড়িয়ে 'ইশার সালাত আদায় করলেন। যখন স্পষ্টভাবে ভোর হল তখন এসে বললেন, হে মুহাম্মাদ (ﷺ)! ফজরের সালাত আদায় করুন। তিনি ফজরের সালাত আদায় করলেন।পরের দিন ছায়া মানুষের বরাবর হলে আবার এসে বললেন, হে মুহাম্মাদ (ﷺ)! আপনি দাঁড়ান এবং সালাত আদায় করুন। পরে তিনি যুহরের সালাত আদায় করলেন। মানুষের ছায়া যখন দ্বিগুণ হল জিবরীল (আঃ) আবার আসলেন এবং বললেন, উঠে সালাত আদায় করুন এবং তিনি আসরের সালাত আদায় করলেন। সূর্যাস্তের পরে আগের দিনের ন্যায় মাগরিবের জন্যে আবার আসলেন এবং বললেন, উঠে সালাত আদায় করুন। তারপর তিনি মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। রাতের এক-তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হয়ে গেলে 'ইশার জন্যে আবার এসে বললেন, দাঁড়ান। সালাত আদায় করুন। তারপর 'ইশা আদায় করলেন। ভোর স্পষ্ট হওয়ার পর ফজরের সালাতের জন্যে আবার আসলেন এবং বললেন, উঠুন, সালাত আদায় করুন এবং তিনি ফজরের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর বললেন, এ দু' দিনের সময়ের মধ্যবর্তী সময়ই সালাতের সময়।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৫২৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জিবরাইল (আঃ) রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এসে সালাতের সময় শেখান। প্রথম দিন তিনি সূর্য ঢলে পড়লে যুহর, মানুষের ছায়া সমান হলে আসর, সূর্য ডুবলে মাগরিব, লালিমা চলে গেলে ইশা এবং ভোর স্পষ্ট হলে ফজর আদায়ের নির্দেশ দেন। দ্বিতীয় দিন তিনি একই সালাতগুলো অন্য সীমায় আদায় করান। যুহর মানুষের ছায়া সমান হলে, আসর ছায়া দ্বিগুণ হলে, ইশা রাতের এক-তৃতীয়াংশ পার হলে এবং ফজর ভোর খুব স্পষ্ট হলে আদায় করা হয়। শেষে বলা হয়, এই দুই সময়ের মাঝের সময়ই সালাতের সময়। তাই নামাজের ওয়াক্ত শেখার জন্য এই হাদিস খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটি সময়মতো সালাতের গুরুত্বও মনে করিয়ে দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতের ওয়াক্ত জিবরাইল (আঃ)-এর মাধ্যমে শেখানো হয়েছে।
- প্রতিটি সালাতের শুরু ও শেষ সীমা আছে।
- মাগরিবের সময় সূর্যাস্তের সঙ্গে যুক্ত।
- ওয়াক্তের মধ্যে সালাত আদায় করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
