৬/২০. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৫৩২ - ইশার প্রকৃত সময় ও সহজতা
‘ইশার সলাত দেরী করে আদায় করা মুস্তাহাব
ইশার সময়: কষ্ট না হলে দেরিতে আদায়ের শিক্ষা
সুনানে আন-নাসায়ী : ৫৩২
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৫৩২
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ الْمَكِّيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَعَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: أَخَّرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْعِشَاء ذَاتَ لَيْلَةٍ حَتَّى ذَهَبَ مِنَ اللَّيْلِ، فَقَامَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَنَادَى: الصَّلَاةَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، رَقَدَ النِّسَاءُ وَالْوِلْدَانُ، فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْمَاءُ يَقْطُرُ مِنْ رَأْسِهِ وَهُوَ يَقُولُ: «إِنَّهُ الْوَقْتُ، لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي»
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একবার রাতে নাবী (ﷺ) ইশার সালাতে বিলম্ব করলেন। রাতের এক অংশ চলে গেলে 'উমর (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সালাতে আসুন। মহিলা ও ছেলে মেয়েরা সকলে ঘুমিয়ে পড়েছে। তিনি এমতাবস্থায় বের হলেন যে, তাঁর মাথা হতে পানির ফোঁটা পড়ছিল এবং তিনি বলছিলেন, যদি আমি আমার উম্মাতের পক্ষে কষ্টকর হবে বলে মনে না করতাম তাহলে এটাই ইশার ওয়াক্ত গণ্য হত।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৫৩২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, এক রাতে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ইশার সালাতে বিলম্ব করেন। রাতের এক অংশ চলে গেলে উমর (রাঃ) বলেন, মহিলা ও শিশুরা ঘুমিয়ে পড়েছে। এরপর নবীজি বের হন। তাঁর মাথা থেকে পানি ঝরছিল। তিনি বলেন, যদি উম্মতের পক্ষে কষ্টকর হবে মনে না করতেন, তাহলে এটাই ইশার সময় গণ্য হতো। এখানে ইশার সালাত বিলম্বে আদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক এসেছে। কিন্তু হাদিসের ভাষায় সবচেয়ে বড় বিষয় হলো কষ্টের বিবেচনা। অর্থাৎ ইবাদতের উত্তম দিক থাকলেও মানুষের সামর্থ্য ও অবস্থাকে উপেক্ষা করা হয়নি। তাই ইশা নামাজের সময় নিয়ে কথা বললে এই হাদিস ভারসাম্য শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইশা কিছুটা দেরিতে আদায়ের কথা এই হাদিসে এসেছে।
- মহিলা ও শিশুদের ঘুমিয়ে পড়ার বিষয় বিবেচনায় এসেছে।
- নবীজি উম্মতের জন্য কষ্টকর কিছু চাপিয়ে দেননি।
- ইবাদতের সময় ঠিক রাখতে গিয়ে মানুষের সামর্থ্যও দেখা দরকার।
