৭/২৮. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৬৬৮ - আজান ও ইকামাতের বাক্য বলার নিয়ম
ইক্বামাত কিভাবে দিতে হয়?
আজান ও ইকামাত কতবার বলতে হয়: ইবন উমর (রাঃ)-এর বর্ণনা
সুনানে আন-নাসায়ী : ৬৬৮
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৬৬৮
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ تَمِيمٍ قَالَ: حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، عَنْ شُعْبَةَ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا جَعْفَرٍ مُؤَذِّنَ مَسْجِدِ الْعُرْيَانِ، عَنْ أَبِي الْمُثَنَّى، مُؤَذِّنِ مَسْجِدِ الْجَامِعِ قَالَ: سَأَلْتُ ابْنَ عُمَرَ، عَنِ الْأَذَانِ فَقَالَ: «كَانَ الْأَذَانُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَثْنَى مَثْنَى، وَالْإِقَامَةُ مَرَّةً مَرَّةً إِلَّا أَنَّكَ إِذَا قُلْتَ: قَدْ قَامَتِ الصَّلَاةُ قَالَهَا مَرَّتَيْنِ، فَإِذَا سَمِعْنَا قَدْ قَامَتِ الصَّلَاةُ تَوَضَّأْنَا، ثُمَّ خَرَجْنَا إِلَى الصَّلَاةِ "
আবুল মুসান্না (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
জামি' মসজিদের মুয়াজ্জিন আবুল মুসান্না (রহঃ) হতে বর্ণিত। আমি 'আবদুল্লাহ ইবনু 'উমর (রাঃ)-কে আযান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যামানায় আযানের শব্দগুলো দু'বার এবং ইক্বামাতের শব্দগুলো এক একবার বলা হত। কিন্তু তুমি যখন "ক্বক্বা- মাতিস্ সালা-হ" বলবে, তখন দু'বার বলবে। কারণ নবী (ﷺ)-এর মুয়াজ্জিন দু' দু'বার বলতেন। আমরা যখন “ক্বক্বা- মাতিস্ সালা-হ” বলার আওয়াজ শুনতাম তখন ওজু করতাম এবং সালাতের জন্যে বের হতাম।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৬৬৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আজান ও ইকামাতের বাক্য কতবার বলা হতো, তার একটি নির্দিষ্ট বর্ণনা এসেছে। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) জানান, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সময়ে আজানের বাক্যগুলো দুবার করে বলা হতো। ইকামাতের বাক্যগুলো একবার করে বলা হতো, তবে “কদ কামাতিস সালাহ” দুবার বলা হতো। তিনি আরও বলেন, সাহাবিরা যখন এই বাক্য শুনতেন, তখন ওজু করতেন এবং সালাতের জন্য বের হতেন। হাদিসটি আজান ও ইকামাতের পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করে। আজান ছিল সালাতের ঘোষণা, আর ইকামাত ছিল সালাত শুরু হওয়ার কাছাকাছি সময়ের সংকেত। বর্ণনায় সাহাবিদের প্রস্তুতির কথাও আছে। তবে এই একটি বর্ণনার বাইরে অন্য বর্ণনার তুলনা বা মতভেদ এখানে আলোচনা করা হয়নি। তাই ব্যাখ্যাটি এই হাদিসের নিজস্ব শব্দ ও ধারাবাহিকতার মধ্যেই রাখা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আজানের বাক্য দুবার করে বলার বর্ণনা এসেছে।
- ইকামাতের বাক্য একবার, তবে ‘কদ কামাতিস সালাহ’ দুবার বলা হয়েছে।
- ইকামাত শুনে সাহাবিরা ওজু করে সালাতে বের হতেন।
- আজান ও ইকামাতের কাজ ও সময় এক নয়।
