৭/৩৪. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৬৭৪ - দৃঢ় বিশ্বাসে আজানের বাক্য বলার ফজিলত
আযানের উত্তর দেয়ার সাওয়াব প্রসঙ্গে
দৃঢ় বিশ্বাসে আজানের জবাব: জান্নাতের সুসংবাদ
সুনানে আন-নাসায়ী : ৬৭৪
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৬৭৪
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، أَنَّ بُكَيْرَ بْنَ الْأَشَجِّ حَدَّثَهُ، أَنَّ عَلِيَّ بْنَ خَالِدٍ الْدُؤَلِيَّ حَدَّثَهُ، أَنَّ النَّضْرَ بْنَ سُفْيَانَ حَدَّثَهُ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ: كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَامَ بِلَالٌ يُنَادِي، فَلَمَّا سَكَتَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ قَالَ مِثْلَ هَذَا يَقِينًا دَخَلَ الْجَنَّةَ»
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকটে ছিলাম। এমন সময় বিলাল (রাঃ) আজান দেয়ার জন্যে দাঁড়ালেন। তিনি আজান শেষ করলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে তা বলবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৬৭৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আজানের জবাবের সঙ্গে অন্তরের দৃঢ় বিশ্বাসকে যুক্ত করা হয়েছে। সাহাবিরা রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে ছিলেন। বিলাল (রাঃ) আজান দিলেন। আজান শেষ হলে নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এ ধরনের বাক্য বলবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এখানে শুধু মুখে শব্দ উচ্চারণ নয়, বরং “ইয়াকিন” বা নিশ্চিত বিশ্বাসের কথা বিশেষভাবে এসেছে। আজানের বাক্যগুলো আল্লাহর মহত্ত্ব, তাওহিদ, নবুওয়াতের সাক্ষ্য, সালাত ও সফলতার আহ্বান বহন করে। তাই এগুলো বিশ্বাসের সঙ্গে বলা মানে অন্তর ও মুখের মিল রাখা। হাদিসে জান্নাতের সুসংবাদ স্পষ্ট, তবে এটিকে অন্য সব দায়িত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো যান্ত্রিক বাক্য হিসেবে দেখা উচিত নয়। বর্ণনার ভাষা অনুযায়ী, মূল জোর হলো সত্য বিশ্বাসের সঙ্গে বলা। ব্যাখ্যায় এর বাইরে অতিরিক্ত শর্ত বা নির্দিষ্ট সংখ্যা যোগ করা হয়নি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আজানের বাক্য বিশ্বাসের সঙ্গে বলা গুরুত্বপূর্ণ।
- শুধু মুখের উচ্চারণ নয়, অন্তরের ইয়াকিনও হাদিসে উল্লেখিত।
- আজানের জবাবের সঙ্গে জান্নাতের সুসংবাদ এসেছে।
- হাদিসকে যান্ত্রিক উচ্চারণের নিশ্চয়তা হিসেবে না দেখে বিশ্বাসসহ আমল হিসেবে বুঝতে হবে।
