১০/২৫. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৮১১ - প্রথম কাতারের রহমত ও কাতারের ঐক্য
ইমাম কিভাবে কাতার সোজা করবেন?
প্রথম কাতারের ফজিলত ও সোজা কাতারের গুরুত্ব
সুনানে আন-নাসায়ী : ৮১১
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৮১১
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْأَحْوَصِ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْسَجَةَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَخَلَّلُ الصُّفُوفَ مِنْ نَاحِيَةٍ إِلَى نَاحِيَةٍ يَمْسَحُ مَنَاكِبَنَا وَصُدُورَنَا وَيَقُولُ: «لَا تَخْتَلِفُوا فَتَخْتَلِفَ قُلُوبُكُمْ». وَكَانَ يَقُولُ: «إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الصُّفُوفِ الْمُتَقَدِّمَةِ»
বারা ইব্ন আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কাতারের একদিক থেকে অন্যদিকে ঢুকে আমাদের কাঁধ এবং বক্ষ স্পর্শ করে বলতেন, তোমরা কাতারে এলোমেলো হয়ে দাঁড়াবে না। তাহলে তোমাদের হৃদয়ের অনৈক্য সৃষ্টি হবে। তিনি বলতেন, আল্লাহ প্রথম কাতারের প্রতি দয়া করেন এবং তাঁর ফেরেশতাগণও প্রথম কাতারের জন্যে দয়া কামনা করেন।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৮১১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাতার ঠিক করার পদ্ধতি এবং প্রথম কাতারের মর্যাদা একসঙ্গে এসেছে। তিনি কাতারের এক পাশ থেকে অন্য পাশে যেতেন এবং সাহাবিদের কাঁধ ও বুক স্পর্শ করে অবস্থান ঠিক করতেন। তিনি বলতেন, কাতারে এলোমেলো হয়ে দাঁড়িও না; তা হলে হৃদয়ে অনৈক্য সৃষ্টি হবে। এরপর তিনি জানান, আল্লাহ প্রথম দিকের কাতারগুলোর প্রতি রহমত করেন এবং ফেরেশতাগণ তাদের জন্য দোয়া করেন। তাই “প্রথম কাতারের ফজিলত” শুধু সামনে দাঁড়ানোর আকাঙ্ক্ষা নয়; এর সঙ্গে কাতারের শৃঙ্খলাও যুক্ত। বর্ণনায় কাঁধ ও বুক ঠিক করা, এলোমেলো না হওয়া এবং অন্তরের ঐক্যের সতর্কতা রয়েছে। হাদিসে যতটুকু বলা হয়েছে, ততটুকুই ধরে বলা যায়—সুশৃঙ্খল অগ্রবর্তী কাতার রহমত ও ফেরেশতাদের দোয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) কাঁধ ও বুক স্পর্শ করে কাতার ঠিক করতেন।
- এলোমেলো কাতার হৃদয়ের অনৈক্যের কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
- প্রথম দিকের কাতারের প্রতি আল্লাহর রহমতের কথা বলা হয়েছে।
- ফেরেশতাগণ অগ্রবর্তী কাতারের জন্য দোয়া করেন।
