১০/৩৮. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৮৩০ - ইমামকে অনুসরণ ও আমীন বলার নিয়ম
ইমামের আগে কোন কাজ করা
ইমামকে অনুসরণ করে জামাআতে সালাত আদায়ের নিয়ম
সুনানে আন-নাসায়ী : ৮৩০
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৮৩০
أَخْبَرَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ هِشَامٍ قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ يُونُسَ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ حِطَّانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: صَلَّى بِنَا أَبُو مُوسَى، فَلَمَّا كَانَ فِي الْقَعْدَةِ دَخَلَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ فَقَالَ: أُقِرَّتِ الصَّلَاةُ بِالْبِرِّ وَالزَّكَاةِ، فَلَمَّا سَلَّمَ أَبُو مُوسَى أَقْبَلَ عَلَى الْقَوْمِ فَقَالَ: أَيُّكُمُ الْقَائِلُ هَذِهِ الْكَلِمَةَ؟ فَأَرَمَّ الْقَوْمُ. قَالَ: يَا حِطَّانُ، لَعَلَّكَ قُلْتَهَا. قَالَ: لَا وَقَدْ خَشِيتُ أَنْ تَبْكَعَنِي بِهَا فَقَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُعَلِّمُنَا صَلَاتَنَا وَسُنَّتَنَا فَقَالَ: " إِنَّمَا الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ، فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا، وَإِذَا قَالَ: ﴾غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ﴿ [الفاتحة: 7] فَقُولُوا: آمِينَ. يُجِبْكُمُ اللَّهُ، وَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا، وَإِذَا رَفَعَ فَقَالَ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ. فَقُولُوا: رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ يَسْمَعِ اللَّهُ لَكُمْ، وَإِذَا سَجَدَ فَاسْجُدُوا، وَإِذَا رَفَعَ فَارْفَعُوا؛ فَإِنَّ الْإِمَامَ يَسْجُدُ قَبْلَكُمْ وَيَرْفَعُ قَبْلَكُمْ». قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فَتِلْكَ بِتِلْكَ»
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
হিত্ত্বান ইবনু 'আবদুল্লাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু মূসা (রাঃ) আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন যখন তিনি বৈঠকে ছিলেন, এমন সময় এক ব্যক্তি প্রবেশ করে বলল, “সালাত নেকী এবং যাকাত-এর সাথে মিলিত হয়েছে," আবূ মূসা (রাঃ) যখন সালাম ফিরালেন তখন তিনি লোকেদের দিকে ফিরে বললেন, তোমাদের মধ্যে কে এ কথা বলেছে? তখন লোক নীরব হয়ে গেল; তিনি বললেন, হে হিত্ত্বান! হয়ত তুমি এটা বলে থাকবে। তিনি বলেন, না আমি ভয় করেছিলাম, আপনি এর জন্যে আমাকে দোষারোপ করবেন। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সালাতেও তার নিয়ম-কানুন শিক্ষা দিয়েছেন।তিনি বলেছেন, ইমাম এজন্যে যে, তার অনুসরণ করা হবে। যখন তিনি তাকবির বলেন, তোমরাও তাকবির বলবে, আর যখন তিনি "গয়রিল মাগযূবি 'আলায়হিম ওয়ালায় যোল্লীন" বলেন, তখন তোমরা "আ-মীন” বলবে। তাহলে আল্লাহ তোমাদের দোয়া গ্রহণ করবেন। আর যখন তিনি রুকূ' করবেন তখন তোমরাও রুকূ' করবে। আর যখন তিনি মাথা উঠিয়ে "সামি' আল্ল-হু লিমান হামিদাহ" বলবেন, তখন তোমরা বলবে "রববানা- লাকাল হাম্দ" আল্লাহ তোমাদের কথা শুনবেন। আর যখন ইমাম সাজদাহ্ করেন, তোমরাও সাজদাহ্ করবে, যখন সাজদাহ্ থেকে মাথা উঠাবে তোমরাও মাথা উঠাবে। কারণ ইমাম তোমাদের আগে সাজদাহ্ করবেন এবং তোমাদের আগে মাথা উঠাবেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: এটা তার সমান হয়ে যাবে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৮৩০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জামাআতের সালাতে ইমামকে অনুসরণ করার কয়েকটি ধাপ শেখানো হয়েছে। ইমাম তাকবির বললে মুক্তাদিরা তাকবির বলবে। তিনি সূরা ফাতিহার শেষ অংশ পড়লে মুসল্লিরা আমীন বলবে। তিনি রুকু করলে তারা রুকু করবে। ইমাম রুকু থেকে উঠে ‘সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বললে মুক্তাদিরা ‘রব্বানা লাকাল হাম্দ’ বলবে। তিনি সিজদায় গেলে তারাও সিজদা করবে এবং তিনি মাথা তোলার পর তারাও মাথা তুলবে। মূল কথা হলো, মুক্তাদি ইমামের আগে কাজ করবে না; ইমামের কাজের পরে তা করবে। বর্ণনায় আমীন ও হামদের জবাবের সঙ্গে আল্লাহর পক্ষ থেকে সাড়া পাওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এভাবে জামাআতের সালাত একই নেতৃত্বে, একই ধারায় এবং শৃঙ্খলার সঙ্গে আদায় হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইমাম তাকবির বলার পর মুক্তাদিরা তাকবির বলবে।
- সূরা ফাতিহা শেষে মুক্তাদিদের আমীন বলতে বলা হয়েছে।
- রুকু ও সিজদায় ইমামের পরে যেতে হবে।
- ইমামের ‘সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ’-এর জবাবে ‘রব্বানা লাকাল হাম্দ’ বলতে হয়।
