১০/৩৯. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৮৩১ - দীর্ঘ কিরাআতে মুসল্লিকে কষ্ট না দেওয়া
ইমামের সলাত থেকে বের হয়ে মাসজিদের কোণে মুসল্লীর পৃথক সলাত আদায় করা
দীর্ঘ কিরাআত করে মুসল্লিকে কষ্ট দেওয়ার হাদিস
সুনানে আন-নাসায়ী : ৮৩১
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৮৩১
أَخْبَرَنَا وَاصِلُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ وَأَبِي صَالِحٍ، عَنْ جَابِرٍ قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ وَقَدْ أُقِيمَتِ الصَّلَاةُ، فَدَخَلَ الْمَسْجِدَ فَصَلَّى خَلْفَ مُعَاذٍ فَطَوَّلَ بِهِمْ، فَانْصَرَفَ الرَّجُلُ فَصَلَّى فِي نَاحِيَةِ الْمَسْجِدِ ثُمَّ انْطَلَقَ، فَلَمَّا قَضَى مُعَاذٌ الصَّلَاةَ قِيلَ لَهُ: إِنَّ فُلَانًا فَعَلَ كَذَا وَكَذَا، فَقَالَ مُعَاذٌ: لَئِنْ أَصْبَحْتُ لَأَذْكُرَنَّ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَتَى مُعَاذٌ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ، فَأَرْسَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَيْهِ فَقَالَ: «مَا حَمَلَكَ عَلَى الَّذِي صَنَعْتَ؟» فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، عَمِلْتُ عَلَى نَاضِحِي مِنَ النَّهَارِ، فَجِئْتُ وَقَدْ أُقِيمَتِ الصَّلَاةُ، فَدَخَلْتُ الْمَسْجِدَ، فَدَخَلْتُ مَعَهُ فِي الصَّلَاةِ، فَقَرَأَ سُورَةَ كَذَا وَكَذَا فَطَوَّلَ، فَانْصَرَفْتُ فَصَلَّيْتُ فِي نَاحِيَةِ الْمَسْجِدِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَفَتَّانٌ يَا مُعَاذُ؟ أَفَتَّانٌ يَا مُعَاذُ؟ أَفَتَّانٌ يَا مُعَاذُ؟»
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
সালাতের ইক্বামাত বলার পরে এক আনসারী ব্যক্তি আসলো। সে মসজিদে প্রবেশ করে মু'আয (রাঃ)-এর পিছনে সালাতে দাঁড়াল। তিনি ক্বিরাআত দীর্ঘ করলেন। লোকটি তখন সালাত থেকে বের হয়ে মসজিদের এক কোণে সালাত আদায় করে চলে গেল। মু'আয (রাঃ) যখন সালাত শেষ করলেন তাঁকে বলা হল, অমুক ব্যক্তি এরূপ এরূপ করেছে। মু'আয (রাঃ) বললেন, আমি ভোরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এ সম্পর্কে অবশ্যই জানাব।মু'আয (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট গিয়ে ঘটনা ব্যক্ত করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকটির নিকট লোক পাঠিয়ে তাকে ডেকে আনলেন এবং তাকে প্রশ্ন করলেন, তুমি যা করেছ তা করতে তোমাকে কিসে উৎসাহিত করেছে? সে লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি দিনের বেলায় আমার উটের কাজে ব্যস্ত ছিলাম। এরপর আমি আসলাম এবং পূর্বেই সালাতের ইক্বামাত বলা হয়েছিল। আমি মসজিদে প্রবেশ করে তাঁর সাথে সালাতে শারীক হলাম। কিন্তু তিনি সালাতে অমুক অমুক সূরা শুরু করে সালাত দীর্ঘ করে দিলেন। এজন্যে আমি সালাত থেকে বের হয়ে মসজিদের এক কোণে সালাত আদায় করি।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, হে মু'আয! তুমি কি (লোকেদের) ফিত্নাহ্ ও কষ্টের মধ্যে ফেলবে? হে মু'আয! তুমি কি (লোকেদের) ফিত্নাহ্ ও কষ্টের মধ্যে ফেলবে? হে মু'আয! তুমি কি ফিত্নাহ্ সৃষ্টিকারী?
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৮৩১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো ইমামের দীর্ঘ কিরাআতের কারণে মুসল্লিদের কষ্টে না ফেলা। একজন আনসারি ব্যক্তি দিনের বেলা উটের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি মসজিদে এসে মু‘আয (রাঃ)-এর পেছনে সালাতে যোগ দেন। মু‘আয (রাঃ) দীর্ঘ কিরাআত শুরু করলে লোকটি জামাআত থেকে আলাদা হয়ে মসজিদের এক পাশে সালাত আদায় করেন। পরে বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে পৌঁছায়। লোকটি নিজের কাজের চাপ ও ক্লান্তির কথা জানায়। তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) মু‘আয (রাঃ)-কে বারবার প্রশ্ন করেন, তিনি কি মানুষকে ফিতনা ও কষ্টের মধ্যে ফেলতে চান। এতে বোঝা যায়, ইমামের ব্যক্তিগতভাবে দীর্ঘ কিরাআত করার ক্ষমতা থাকলেও জামাআতে শ্রমজীবী, ক্লান্ত বা ব্যস্ত মানুষ থাকতে পারেন। তাই তাদের অবস্থা না দেখে সালাত দীর্ঘ করা উচিত নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইমামকে কর্মজীবী ও ক্লান্ত মুসল্লিদের অবস্থাও বিবেচনা করতে হবে।
- অতিরিক্ত দীর্ঘ কিরাআত মানুষকে জামাআতে কষ্টে ফেলতে পারে।
- কোনো ঘটনার বিচার করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কারণ শোনা দরকার।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) মানুষকে সালাত থেকে বিরক্ত করে তোলার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন।
