১০/৬০. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৮৬৬ - ইকামত শুরু হলে ফরজের অগ্রাধিকার
ইক্বামাতের সময় যে সলাত মাকরূহ
ইকামতের পর ফরজ জামাতে যোগ দেওয়ার নিয়ম
সুনানে আন-নাসায়ী : ৮৬৬
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৮৬৬
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَكَمِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ قَالَا: حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ وَرْقَاءَ بْنِ عُمَرَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلَاةُ فَلَا صَلَاةَ إِلَّا الْمَكْتُوبَةُ»
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-এর সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন ইক্বামাত বলা হয় তখন ফরজ সালাত ছাড়া আর কোন সালাত নেই।
[১] ফজরের দু’ রাকআত সুন্নত সালাত আদায় করার অনেক ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। এ ছাড়া এ সালাত আদায় করার যথেষ্ট তাকিদও রয়েছে। তাই এ সুন্নত সালাত আদায় করে যদি ফজরের ফরজ সালাতের এক রাকআত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে মসজিদের দরজার কাছে কিংবা খুঁটির পেছনে এ সালাত আদায় করে জামা’আতে শরীক হওয়ার বিধান রয়েছে। -অনুবাদক
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৮৬৬-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনাতেও নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর একই নির্দেশ এসেছে: ইকামত বলা হলে ফরজ সালাত ছাড়া আর কোনো সালাত নেই। মূল বিষয় হলো ইকামতের পর ফরজ জামাতের অগ্রাধিকার। একজন মুসল্লি তখন আলাদা নফল বা সুন্নত শুরু না করে ইমামের সঙ্গে ফরজ সালাতে যোগ দেবেন—হাদিসের ভাষা এই দিকেই নির্দেশ করে। এটি আগের বর্ণনার সমর্থনকারী আরেকটি সূত্র। তাই ব্যাখ্যায় নতুন কোনো ঘটনা বা শর্ত যোগ করা হয়নি। “ইকামত হয়ে গেলে কী করবেন”, “জামাত দাঁড়িয়ে গেলে সুন্নত”, “ফরজ নামাজের ইকামত”—এসব বিষয়ে যারা খোঁজ করেন, তাদের জন্য হাদিসটি সরাসরি উত্তর দেয়। ইবাদতের আগ্রহের পাশাপাশি সঠিক সময় ও সঠিক অগ্রাধিকার মানাও সালাতের আদবের অংশ। ফলে ইকামতের শব্দ শোনার পর মুসল্লির করণীয় নিয়ে দ্বিধার জায়গা কমে যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইকামতের পর ফরজ জামাতই প্রধান অগ্রাধিকার।
- আলাদা সালাত শুরু না করে কাতারে দাঁড়াতে হবে।
- একই নির্দেশ একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
- সালাতে আগ্রহের সঙ্গে সময়ের শৃঙ্খলাও মানতে হবে।
