১০/৩৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৬৬৩ - ইকামতের পর নফল সালাতের সতর্কতা
ইকামাত হয়ে গেলে ফরজ ব্যতীত অন্য কোন সালাত নেই।
ইকামতের পর নফল নামাজ নয়: ফজরের চার রাকাত নয়
সহীহ বুখারী : ৬৬৩
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৬৬৩
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَالِكٍ ابْنِ بُحَيْنَةَ، قَالَ مَرَّ النَّبِيُّ ﷺ بِرَجُلٍ. قَالَ وَحَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا بَهْزُ بْنُ أَسَدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ أَخْبَرَنِي سَعْدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ سَمِعْتُ حَفْصَ بْنَ عَاصِمٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَجُلاً، مِنَ الأَزْدِ يُقَالُ لَهُ مَالِكٌ ابْنُ بُحَيْنَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ رَأَى رَجُلاً وَقَدْ أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ، فَلَمَّا انْصَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لاَثَ بِهِ النَّاسُ، وَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " الصُّبْحَ أَرْبَعًا، الصُّبْحَ أَرْبَعًا».تَابَعَهُ غُنْدَرٌ وَمُعَاذٌ عَنْ شُعْبَةَ فِي مَالِكٍ. وَقَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ عَنْ سَعْدٍ عَنْ حَفْصٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ابْنِ بُحَيْنَةَ. وَقَالَ حَمَّادٌ أَخْبَرَنَا سَعْدٌ عَنْ حَفْصٍ عَنْ مَالِكٍ.
আবদুল্লাহ্ ইব্নু বুহাইনাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে গেলেন। অন্য সূত্রে ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন, ‘আবদুর রহমান (রহঃ)… হাফ্স ইব্নু আসিম (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মালিক ইব্নু বুহাইনাহ নামক আয্দ গোত্রীয় এক ব্যক্তিকে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ব্যক্তিকে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতে দেখলেন। তখন ইক্বামাত হয়ে গেছে। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যখন সালাত শেষ করলেন, লোকেরা সে লোকটিকে ঘিরে ফেলল। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাকে বললেনঃ ফজর কি চার রাক‘আত? ফজর কি চার রাক‘আত? [১]গুনদার ও মু‘আয (রহঃ) শু‘বা (রহঃ) সূত্রে হাদীসটি বর্ণিত বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু ইব্নু ইসহাক (রহঃ) সাদ (রহঃ)-এর মাধ্যমে সে হাফ্স (রহঃ) হতে হাদীসটি বর্ণনা করতে গিয়ে ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু বুহাইনাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত বলে উল্লেখ করেছেন। (এ বর্ণনাটিই সঠিক) তবে হাম্মাদ (রহঃ) সাদ (রহঃ)-এর মাধ্যমে তিনি হাফ্স (রহঃ) হতে হাদীসটি বর্ণনা করতে গিয়ে মালিক ইব্নু বুহাইনাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত বলে উল্লেখ করেছেন।
[১] ইক্বামাত হয়ে গেলে কোন নফল সালাত আদায় করা যাবে না। এ সংক্রান্ত হাদীস বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয় অনেকে ইক্বামাত হয়ে যাবার পরও নফল সালাত আদায় করতে থাকেন। বিশেষ করে ফজরের সালাত চলাকালীন সময়ে অনেককেই দেখা যায় সুন্নাত দু’ রাকা‘আত সালাত আদায় করতে। ফজরের জামা‘আত চলতে থাকলে ঐ জামা‘আতে শামিল না হয়ে তাড়াহুড়ো করে সুন্নাত পড়ে জামা‘আতে শামিল হওয়া হাদীসের বিরোধিতা করার শামিল। প্রমাণ নিম্নের হাদীসগুলোঃ ‘আবদুল্লাহ ইব্নু সারজাস বলেন, এক ব্যক্তি এল। তখন (রসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ফজরের সালাতে ছিলেন। ফলে লোকটি দু’ রাক‘আত আদায় করে জামা‘আতে প্রবেশ করল। (রসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সালাত শেষ করে তাকে বললেন, ওহো অমুক! সালাত কোনটি! যেটি আমাদের সঙ্গে আদায় করলে সেটি না যেটি তুমি একা আদায় করলে? (নাসায়ী, মাবসূত ১ম খণ্ড ১০১ পৃষ্ঠা লাহোরী ছাপা) নবী (ﷺ) বলেছেন, যখন ফারয সালাতের তাকবীর দেয়া হয়ে যায় তখন ফারয সালাত ব্যতীত অন্য কোন (নফল বা সুন্নাত) সালাত হবে না। (মুসলিম, মিশকাত ৯৬ পৃষ্ঠা) হানাফী ইমাম মুহাম্মাদ বলেন, সুন্নাত না আদায় করে জামা‘আতেই ঢুকতে হবে। (মাবসূত ১ম খণ্ড ১৬৭ পৃষ্ঠা) ফজরের সুন্নাত সালাত ছুটে গেলে ফারয সালাত আদায়ের পর পরই পড়ে নিবে অথবা কোন জরুরী প্রয়োজন থাকলে এ দু’ রাক‘আত সালাত সূর্যোদয়ের পরেও পড়তে পারবেন। (তিরমিযী ১ম খণ্ড)
সহীহ বুখারী হাদিস ৬৬৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দেখা যায়, এক ব্যক্তি দুই রাকাত সালাত আদায় করছিলেন, অথচ তখন সালাতের ইকামত হয়ে গেছে। সালাত শেষে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাকে বললেন, “ফজর কি চার রাকাত?” কথাটি সংক্ষিপ্ত, কিন্তু এর শিক্ষা স্পষ্ট। যখন ফরজ সালাতের ইকামত হয়ে যায়, তখন নিজের আলাদা নফল বা সুন্নত চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সতর্কতার দাবি রাখে। এখানে বিশেষভাবে ফজর সালাতের ঘটনা এসেছে, তাই ব্যাখ্যাও সেই ঘটনাতেই সীমিত রাখা উচিত। মূল বিষয় হলো জামাআতের শৃঙ্খলা, ইকামতের মর্যাদা এবং ফরজ সালাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া। যারা “ইকামতের পর সুন্নত নামাজ” বা “ফজরের সুন্নত ইকামতের পর” খোঁজেন, তাদের জন্য হাদিসটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইকামত হয়ে গেলে ফরজ জামাআতের প্রতি মনোযোগ দিতে হবে।
- ফজর সালাতকে অতিরিক্ত রাকাতে পরিণত করার মতো কাজ এড়ানো উচিত।
- জামাআতের শৃঙ্খলা রক্ষা করা সালাতের আদবের অংশ।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সংক্ষিপ্ত কথায় ভুল সংশোধন করতেন।
