১১/১৯. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৯০১ - সালাতে আল্লাহর প্রশংসা ও ফেরেশতাদের প্রতিযোগিতা
তাকবীরের পর অন্য প্রকার দু‘আ
সালাতে আল্লাহর প্রশংসার ফজিলত ও বরকতময় দোয়া
সুনানে আন-নাসায়ী : ৯০১
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৯০১
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى قَالَ: حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ، وَقَتَادَةَ، وَحُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ أَنَّهُ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي بِنَا إِذْ جَاءَ رَجُلٌ فَدَخَلَ الْمَسْجِدَ وَقَدْ حَفَزَهُ النَّفَسُ فَقَالَ: اللَّهُ أَكْبَرُ. الْحَمْدُ لِلَّهِ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ، فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاتَهُ قَالَ: " أَيُّكُمِ الَّذِي تَكَلَّمَ بِكَلِمَاتٍ؟ فَأَرَمَّ الْقَوْمُ. قَالَ: «إِنَّهُ لَمْ يَقُلْ بَأْسًا». قَالَ: أَنَا يَا رَسُولُ اللَّهِ جِئْتُ وَقَدْ حَفَزَنِي النَّفَسُ فَقُلْتُهَا، قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَقَدْ رَأَيْتُ اثْنَيْ عَشَرَ مَلَكًا يَبْتَدِرُونَهَا أَيُّهُمْ يَرْفَعُهَا»
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন। হঠাৎ এক ব্যক্তি এসে মসজিদে প্রবেশ করল, সালাতের জন্যে দ্রুত আসার কারণে তার শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট হচ্ছিল। সে বলল- “আল্ল-হু আকবার আলহাম্দু লিল্লা-হি হামদান কাসীরান ত্বইয়িবাম্ মুবা-রকান ফীহি” (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্যে ও তাঁর জন্যে উত্তম ও প্রচুর প্রশংসা, তাঁর প্রশংসার মধ্যে বারাকাত আছে)।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত সমাপ্ত করে বললেন- তোমাদের মাঝে কে এ বাক্যগুলো উচ্চারণ করল? এতে উপস্থিত সকলে চুপ হয়ে গেল। তিনি (ﷺ) বললেন, সে কোন ক্ষতিকর কথা বলেনি। সে ব্যক্তি বলল- হে আল্লাহর রাসূল! আমি বলেছি। আমি এসে পড়লাম আর আমার তখন শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল তখন আমি তা বলেছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন- আমি বারোজন মালাক (ফেরেশতা)-কে দেখলাম, তাঁরা প্রতিযোগিতা করছে, কে তা তুলে নিবে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৯০১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো সালাতে আল্লাহর প্রশংসা করা। এক ব্যক্তি দ্রুত মসজিদে আসায় তার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। সালাতে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, “আল্লাহু আকবার, আলহামদু লিল্লাহি হামদান কাসীরান তইয়্যিবান মুবারাকান ফীহি।” অর্থাৎ আল্লাহর জন্য অনেক, পবিত্র ও বরকতময় প্রশংসা। সালাত শেষে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) জানতে চাইলেন, কথাগুলো কে বলেছে। লোকেরা প্রথমে চুপ থাকলেও তিনি জানালেন, এতে ক্ষতিকর কিছু বলা হয়নি। তখন সেই ব্যক্তি নিজের কথা স্বীকার করেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) জানান, তিনি বারোজন ফেরেশতাকে বাক্যগুলো তুলে নেওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করতে দেখেছেন। তাই হাদিসটি আল্লাহর প্রশংসার মর্যাদা এবং আন্তরিকভাবে বলা সুন্দর প্রশংসাবাক্যের বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা তুলে ধরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর পবিত্র ও বরকতময় প্রশংসাবাক্যের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে।
- কোনো ভালো কথা বলার পর প্রয়োজন হলে বিনয়ের সঙ্গে তার দায়িত্ব স্বীকার করা উচিত।
- সৎ উদ্দেশ্যে বলা প্রশংসাবাক্য ফেরেশতাদের আগ্রহের কারণ হতে পারে।
