১১/২১. অধ্যায়ঃ

সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৯০৪ - সূরা কাওসার ও জান্নাতের নহর

‘বিসমিল্লা-হির রহমা-নির রহীম’ পাঠ করা

সূরা কাওসার, জান্নাতের নহর ও উম্মতের জন্য সতর্কতা

সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৯০৪

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ الْمُخْتَارِ بْنُ فُلْفُلٍ، عَنْ أَنَسِ بْنُ مَالِكٍ قَالَ: بَيْنَمَا ذَاتَ يَوْمٍ بَيْنَ أَظْهُرِنَا يُرِيدُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذْ أَغْفَى إِغْفَاءَةً، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ مُتَبَسِّمًا فَقُلْنَا لَهُ: مَا أَضْحَكَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: " نَزَلَتْ عَلَيَّ آنِفًا سُورَةٌ: {بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} [الفاتحة: 1] {إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ. فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ. إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ الْأَبْتَرُ} [الكوثر: 2] ". ثُمَّ قَالَ: «هَلْ تَدْرُونَ مَا الْكَوْثَرَ؟» قُلْنَا: اللَّهِ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ: " فَإِنَّهُ نَهْرٌ وَعَدَنِيهِ رَبِّي فِي الْجَنَّةِ، آنِيَتُهُ أَكْثَرُ مِنْ عَدَدِ الْكَوَاكِبِ، تَرِدُهُ عَلَيَّ أُمَّتِي فَيُخْتَلَجُ الْعَبْدُ مِنْهُمْ، فَأَقُولُ: يَا رَبِّ إِنَّهُ مِنْ أُمَّتِي، فَيَقُولُ لِي: إِنَّكَ لَا تَدْرِي مَا أَحْدَثَ بَعْدَكَ "

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একদিন তিনি আমাদের মাঝে ছিলেন অর্থাৎ নাবী (ﷺ)। হঠাৎ ওহীর অবস্থা প্রকাশ পেল। তারপর তিনি (ﷺ) পবিত্র হাসি দিতে দিতে মাথা উঠালেন। আমরা তাঁকে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কেন হাসলেন? তিনি (ﷺ) বললেন, এখন আমার ওপর একটি সূরা (কাওসার) অবতীর্ণ হলো- “বিসমিল্লা-হির রহমা-নির রহীম। ১. ইন্না- আ'ত্বয়না- কাল কাওসার, ২. ফাসল্লি লিরব্বিকা ওয়ানহার, ৩. ইন্না শা-নিআকা হুওয়াল আবতার।” (পরম করুণাময় অসীম দয়াময় আল্লাহর নামে। ১. [হে নাবী] আমি তোমাকে অশেষ কল্যাণ দান করেছি [যার মধ্যে হাওযে কাওসারও অন্তর্ভুক্ত) ২. অতএব তোমার প্রতিপালককে স্মরণ করার জন্যে তুমি সালাত আদায় কর এবং [তাঁরই উদ্দেশে] তুমি কুরবানী কর ৩. [তোমার নাম-চিহ্ন কোনদিন মুছবে না বরং তোমার নিন্দাকারীরাই নাম-চিহ্নহীন-নির্মূল [অসহায়]। )তারপর তিনি বলেন, তোমরা জান কি 'কাওসার' কি? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ)-ই ভালো জানেন। তিনি বললেন, এটা একটি নাহ্। আমার রব! আমাকে তা জান্নাতে দান করবেন বলে ওয়াদা করেছেন। তার পেয়ালাসমূহ তারকার সংখ্যা অপেক্ষা বেশী আমার উম্মাত তার কাছে আমার নিকট আসবে। তারপর তাদের মধ্য হতে কাউকে হটিয়ে দেয়া হবে। তখন আমি বলব, হে আল্লাহ! সে তো আমার উম্মাতের অন্তর্ভুক্ত। তখন তিনি আমাকে বলবেন, নিশ্চয় আপনি জানেন না, সে আপনার পরে (শরীয়তের পরিপন্থী) কি নতুন বিষয় আবিষ্কার করেছিল।

সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৯০৪-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের মূল বিষয় সূরা কাওসার ও জান্নাতের কাওসার নামের নহর। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর ওপর সূরাটি নাজিল হওয়ার পর তিনি হাসিমুখে সাহাবিদের তা পাঠ করে শোনান। সূরায় আল্লাহ তাঁকে কাওসার দানের কথা বলেছেন এবং রবের জন্য সালাত ও কুরবানি করার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ব্যাখ্যা করেন, কাওসার জান্নাতের একটি নহর, যা তাঁর রব তাঁকে দেওয়ার ওয়াদা করেছেন। এর পাত্রের সংখ্যা তারকার চেয়েও বেশি। তাঁর উম্মতের লোকেরা সেখানে আসবে, কিন্তু তাদের মধ্য থেকে কাউকে সরিয়ে দেওয়া হবে। তখন জানানো হবে, নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর পরে সে নতুন বিষয় চালু করেছিল। তাই হাদিসে একদিকে কাওসারের সুসংবাদ আছে, অন্যদিকে নবীর শিক্ষা থেকে সরে গিয়ে নতুন বিষয় তৈরির ব্যাপারে সতর্কতা রয়েছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কাওসার জান্নাতে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে দেওয়ার প্রতিশ্রুত একটি নহর।
  • সূরা কাওসারে আল্লাহর জন্য সালাত আদায় ও কুরবানির নির্দেশ রয়েছে।
  • নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর পরে শরিয়তবিরোধী নতুন বিষয় চালু করা থেকে সতর্ক থাকতে হবে।
  • আখিরাতের সফলতার জন্য নবীর শিক্ষা অনুসরণ করা জরুরি।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন