৯/২১০. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৮/১১৬১ - জুমার প্রস্তুতি ও খুতবা শোনার আদব
জুমার দিনের মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব
জুমার জন্য গোসল করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, সকাল সকাল মসজিদে যাওয়া, এ দিনে দো‘আ করা, নবী (ﷺ)-এর উপর দরূদ পড়া ও এ দিনের কোন এক সময়ে দো‘আ কবুল হওয়ার বিবরণ এবং জুমার পর বেশী বেশী মহান আল্লাহর যিকির করা মুস্তাহাবমহান আল্লাহ বলেছেন,قَالَ الله تَعَالَى: ﴾فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانْتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِنْ فَضْلِ اللَّهِ وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ﴿ (الجمعة: ١٠অর্থাৎ অতঃপর নামায সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান কর ও আল্লাহকে অধিক-রূপে স্মরণ কর; যাতে তোমরা সফলকাম হও। (সূরা জুমআ ১০ আয়াত)
জুমার দিনের গোসল, সুগন্ধি ও খুতবা শোনার আদব
রিয়াদুস সালেহীন : ৮/১১৬১
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৮/১১৬১
وَعَنْ سَلمَانَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ: «لاَ يَغْتَسِلُ رَجُلٌ يَومَ الجُمُعَةِ، وَيَتَطَهَّرُ مَا اسْتَطَاعَ مِن طُهْرٍ، وَيَدَّهِنُ مِنْ دُهْنِهِ، أَوْ يَمَسُّ مِنْ طِيبِ بَيْتِهِ، ثُمَّ يَخْرُجُ فَلاَ يُفَرِّقُ بَيْنَ اثنَيْنِ، ثُمَّ يُصَلِّي مَا كُتِبَ لَهُ، ثُمَّ يُنْصِتُ إِذَا تَكَلَّمَ الإمَامُ، إِلاَّ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الجُمُعَةِ الأُخْرَى». رواه البخاري
সালমান (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, “যে কোন ব্যক্তি জুমার দিন গোসল ও সাধ্যমত পবিত্রতা অর্জন করে, নিজস্ব তেল গায়ে লাগায় অথবা নিজ ঘরের সুগন্ধি (আতর) ব্যবহার করে, অতঃপর (মসজিদে) গিয়ে দু’জনের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি না করেই (যেখানে স্থান পায়, বসে যায়) এবং তার ভাগ্যে যত রাকআত নামায জোটে, আদায় করে। তারপর ইমাম খুতবা আরম্ভ করলে নীরব থাকে, সে ব্যক্তির সংশ্লিষ্ট জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত কৃত সমুদয় (ছগীরা) গুনাহ-রাশিকে মাফ করে দেওয়া হয়।” (বুখারী)[১]
সহীহুল বুখারী ৮৮৩, ৯১০, নাসায়ী ১৪০৩, আহমাদ ২৩১৯৮, ২৩২০৬, ২৩২১৩, দারেমী ১৫৪১
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্-নাবাবী (রহ.)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৮/১১৬১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জুমার দিনের কয়েকটি সুন্দর আদব একসাথে এসেছে। মূল বিষয় হলো জুমার প্রস্তুতি। একজন মুসলিম জুমার দিন গোসল করবে, সাধ্যমতো পবিত্রতা অর্জন করবে, নিজের তেল বা ঘরের সুগন্ধি ব্যবহার করবে। এরপর মসজিদে গিয়ে কারও মাঝে ফাঁক তৈরি করবে না; যেখানে জায়গা পায় শান্তভাবে বসবে। তারপর যত রাকআত নামাজ তার জন্য নির্ধারিত হয়, তা আদায় করবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ইমাম খুতবা শুরু করলে নীরব থাকা। হাদিসে বলা হয়েছে, এভাবে জুমার সম্মান রক্ষা করলে এক জুমা থেকে পরের জুমা পর্যন্ত ছোট গুনাহ মাফের আশা করা যায়। তাই ‘জুমার দিনের আমল’, ‘জুমার গোসল’ ও ‘খুতবা শোনার আদব’—এসব বিষয় এই হাদিসের মূল শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জুমার দিন পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতা গুরুত্বের সাথে পালন করা উচিত।
- মসজিদে গিয়ে দুজনের মাঝে জোর করে জায়গা করা আদবের বিরুদ্ধ।
- ইমাম খুতবা শুরু করলে চুপ থেকে মনোযোগ দিয়ে শোনা দরকার।
- নামাজ, পবিত্রতা ও খুতবার আদব গুনাহ মাফের কারণ হতে পারে।
