৯/২১৭. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৬/১২২৮ - রমযানের আগমনের ফজিলত
রমযানের রোযা ফরয, তার ফযীলত ও আনুষঙ্গিক জ্ঞাতব্য বিষয়াবলী
মহান আল্লাহ বলেন,﴾يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَأَيَّامًا مَعْدُودَاتٍ ۚ فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ۚ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ ۖ فَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ لَهُ ۚ وَأَنْ تَصُومُوا خَيْرٌ لَكُمْ ۖ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَشَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَىٰ وَالْفُرْقَانِ ۚ فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ ۖ وَمَنْ كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ۗ يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَىٰ مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ﴿ (البقرة: ١٨٣، ١٨٥অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! তোমাদের জন্য সিয়ামের (রোযার) বিধান দেওয়া হল, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীগণকে দেওয়া হয়েছিল, যাতে তোমরা সংযম-শীল হতে পার। (রোযা) নির্দিষ্ট কয়েক দিনের জন্য। তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে বা সফর অবস্থায় থাকলে অন্য দিনে এ সংখ্যা পূরণ করে নেবে। আর যারা রোযা রাখার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও রোযা রাখতে চায় না (যারা রোযা রাখতে অক্ষম) তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকিনকে খাদ্য দান করবে।পরন্তু যে ব্যক্তি খুশীর সাথে সৎকর্ম করে, তা তার জন্য কল্যাণকর হয়। আর যদি তোমরা রোযা রাখ, তাহলে তা তোমাদের জন্য বিশেষ কল্যাণ-প্রসূ; যদি তোমরা উপলব্ধি করতে পার। রমযান মাস, এতে মানুষের দিশারী এবং সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারী-রূপে কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে। অতএব তোমাদের মধ্যে যে কেউ এ মাস পাবে, সে যেন এ মাসে অবশ্যই রোযা পালন করে। আর যে অসুস্থ অথবা মুসাফির থাকে, তাকে অন্য দিনে এ সংখ্যা পূরণ করতে হবে। (সূরা বাকারাহ ১৮৩- ১৮৫ আয়াত)
রমযান এলে জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়
রিয়াদুস সালেহীন : ৬/১২২৮
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৬/১২২৮
وَعَنْه رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ ﷺ، قَالَ: «إِذَا جَاءَ رَمَضَانُ، فُتِحَتْ أَبْوَاب الجَنَّةِ، وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ النَّارِ، وَصُفِّدَتِ الشَّيَاطِينُ». متفقٌ عَلَيْهِ
উক্ত রাবী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, “মাহে রমজানের আগমন ঘটলে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদেরকে শৃঙ্খলিত করা হয়।” (বুখারী ও মুসলিম)[১]
সহীহুল বুখারী ১৮৯৮, ১৮৯৯, ৩২৭৭, মুসলিম ১০৭৯, তিরমিযী ৬৮২, নাসায়ী ২০৯৭, ২১০৬, ইবনু মাজাহ ১৬৪২, আহমাদ ৭১০৮, ৭৭২৩, ৭৮৫৭, ৮৪৬৯, ৮৬৯২, ৮৭৬৫, ৮৯৫১, ৯২১৩, মুওয়াত্তা মালিক ৬৯১, দারেমী ১৭৭৫
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৬/১২২৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রমযান মাসের আগমনের বিশেষ অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, রমযান এলে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদের শৃঙ্খলিত করা হয়। এই কথাগুলো রমযানের মূল্য বুঝতে সাহায্য করে। এটি এমন সময়, যখন বান্দার সামনে নেক আমলের দরজা বেশি খোলা থাকে এবং গুনাহ থেকে ফিরে আসার আহ্বান জোরালো হয়। হাদিসটি আমাদের শেখায়, রমযানকে সাধারণ মাসের মতো না নেওয়া। রোযা, তিলাওয়াত, দান, দোয়া ও ভালো আচরণের মাধ্যমে এই মাসকে কাজে লাগানো মুমিনের জন্য বড় সুযোগ। তাই এই মাসে ভালো কাজের সুযোগ নষ্ট না করে নিজের আমল গুছিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। রমযানের আগমন তাই মুমিনের জন্য ফিরে আসার ডাক হিসেবে ধরা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রমযান বিশেষ রহমত ও ইবাদতের সময়।
- জান্নাতের দরজা খোলা হওয়া রমযানের সম্মান বোঝায়।
- জাহান্নামের দরজা বন্ধ হওয়া গুনাহ থেকে ফেরার আহ্বান মনে করায়।
- শয়তান শৃঙ্খলিত হওয়া সৎকর্মে এগোনোর সুযোগ।
