১৬/২৪৪. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৪/১৪১৯ - দশবার তাহলীল পাঠের সওয়াব
যিকির তথা আল্লাহকে স্মরণ করার ফযীলত ও তার প্রতি উৎসাহ দান
মহান আল্লাহ বলেছেন,﴾وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ﴿ [العنكبوت: ٤٥]“অবশ্যই আল্লাহর স্মরণ সর্বশ্রেষ্ঠ।”(সূরা আনকাবূত ৪৫ আয়াত)আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,﴾فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ﴿ [البقرة: ١٥٢]“তোমরা আমাকে স্মরণ কর; আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করব।”(সূরা বাকারা ১৫২ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেন,﴾وَاذْكُرْ رَبَّكَ فِي نَفْسِكَ تَضَرُّعًا وَخِيفَةً وَدُونَ الْجَهْرِ مِنَ الْقَوْلِ بِالْغُدُوِّ وَالْآصَالِ وَلَا تَكُنْ مِنَ الْغَافِلِينَ﴿ [الاعراف: ٢٠٥]“তোমার প্রতিপালককে মনে মনে সবিনয় ও সশঙ্কচিত্তে অনুচ্চস্বরে প্রত্যুষে ও সন্ধ্যায় স্মরণ কর এবং তুমি উদাসীনদের দলভুক্ত হয়ো না।”(সূরা আ‘রাফ ২০৫ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেন,﴾وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ﴿ [الجمعة: ١٠]“আল্লাহকে অধিক-রূপে স্মরণ কর; যাতে তোমরা সফলকাম হও।”(সূরা জুমআ ১০ আয়াত)তিনি আরও বলেছেন,﴾إِنَّ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ﴿ إِلَى قَوْله تَعَالَى: ﴾وَالذَّاكِرَاتِ أَعَدَّ اللَّهُ لَهُمْ مَغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا﴿ [الاحزاب: ٣٥]“নিশ্চয়ই আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) পুরুষ ও আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) নারী, ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী, অনুগত পুরুষ ও অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও সত্যবাদী নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও ধৈর্যশীল নারী, বিনীত পুরুষ ও বিনীত নারী, দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী, রোযা পালনকারী পুরুষ ও রোযা পালনকারী নারী, যৌনাঙ্গ হিফাযতকারী (সংযমী) পুরুষ ও যৌনাঙ্গ হিফাযতকারী (সংযমী) নারী,আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী নারী---এদের জন্য আল্লাহ ক্ষমা ও মহা প্রতিদান রেখেছেন।”(সূরা আহযাব ৩৫ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেছেন,﴾يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا اللَّهَ ذِكْرًا كَثِيرًا ٤١ وَسَبِّحُوهُ بُكْرَةً وَأَصِيلًا ٤٢ ﴿ [الاحزاب: ٤١، ٤٢]“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর এবং সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর।”(সূরা আহযাব ৪১-৪২ আয়াত)এ মর্মে আরও অনেক বিদিত আয়াত রয়েছে।
দিনে দশবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু পড়ার ফজিলত
রিয়াদুস সালেহীন : ৪/১৪১৯
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৪/১৪১৯
وَعَنْ أَبي أَيُّوبَ الأَنصَارِيِّ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ، قَالَ: «مَنْ قَالَ لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ؛ وَلَهُ الحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، عَشْرَ مَرَّاتٍ . كَانَ كَمَنْ أَعْتَقَ أَرْبَعَةَ أَنْفُسٍ منْ وَلَدِ إسْمَاعِيلَ». متفقٌ عَلَيْهِ
আবূ আইয়ূব আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু অহ্দাহু লা শারীকা লাহ, লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু অহুয়া আলা কুলি শায়ইন ক্বাদীর’ দিনে দশবার পাঠ করবে, সে ব্যক্তি ইসমাইলের বংশধরের চারজন দাস মুক্ত করার সমান সওয়াব লাভ করবে।”(বুখারী-মুসলিম)
সহীহুল বুখারী ৬৪০৪, মুসলিম ২৬৯৩, তিরমিযী ৩৫৫৩, তিরমিযী ৩৫৫৩, আহমাদ ২৩০০৫, ২৩০০৭, ২৩০৩৪, ২৩০৫৬, ২৩০৭১
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৪/১৪১৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم বলেছেন, যে ব্যক্তি দিনে দশবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহ, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর পাঠ করবে, সে ইসমাইল (আঃ)-এর বংশধরের চারজন দাস মুক্ত করার সমান সওয়াব লাভ করবে। এই যিকিরে তাওহীদের পরিষ্কার ঘোষণা আছে। এতে বলা হয়, আল্লাহ এক, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই, প্রশংসা তাঁরই এবং তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। হাদিসটি অল্প সংখ্যায় পড়া একটি যিকিরের বড় মর্যাদা তুলে ধরে। ব্যস্ত মানুষের জন্যও দিনে দশবার এই যিকির পড়া সহজ হতে পারে। তবে মূল বিষয় হলো অর্থ বুঝে তাওহীদ ও আল্লাহর ক্ষমতা মনে রাখা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাহলীলের এই যিকিরে আল্লাহর একত্ব স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়।
- দিনে দশবার পাঠের জন্য বড় সওয়াবের কথা এসেছে।
- কম সংখ্যার যিকিরও অর্থপূর্ণ হলে বড় আমল হতে পারে।
- আল্লাহর মালিকানা, প্রশংসা ও ক্ষমতা স্মরণ করা ঈমানকে জাগ্রত করে।
