১৭/২৫০. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১২/১৪৮৪ - গোপন-প্রকাশ্য সব ভুলের ক্ষমার দোয়া
দো‘আর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য এবং নবী (ﷺ)-এর কতিপয় দো‘আর নমুনা
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,﴾وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ ٦٠ ﴿ (غافر: ٦٠“তোমাদের প্রতিপালক বলেন, তোমরা আমাকে ডাক আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।” (সূরা গাফের ৬০ আয়াত)তিনি বলেন,﴾ ادْعُوا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً ۚ إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ ٥٥ ﴿ (الاعراف: ٥٤“তোমরা কাকুতি-মিনতি সহকারে ও সংগোপনে তোমাদের প্রতিপালককে ডাক, নিশ্চয় তিনি সীমালংঘন কারীদেরকে পছন্দ করেন না।” (সূরা আ‘রাফ ৫৫ অয়াত)তিনি আরও বলেন,وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ ۖ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ (البقرة: ١٨٦“আর আমার দাসগণ যখন আমার সম্বন্ধে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, তখন তুমি বল, আমি তো কাছেই আছি। যখন কোন প্রার্থনাকারী আমাকে ডাকে, আমি তার ডাকে সাড়া দিই।” (সূরা বাক্বারাহ১৮৬ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেছেন,﴾ أَمَّنْ يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ السُّوءَ﴿ [النمل: ٦٢]“অথবা (উপাস্য) তিনি, যিনি আর্তের আহবানে সাড়া দেন যখন সে তাঁকে ডাকে এবং বিপদ-আপদ দূরীভূত করেন।” (সূরা নামল ৬২ আয়াত)
সব ধরনের ভুলের জন্য মাগফিরাতের দোয়া
রিয়াদুস সালেহীন : ১২/১৪৮৪
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১২/১৪৮৪
وَعَنْ أَبي مُوسَى رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ: أَنَّه كَانَ يَدْعُو بِهَذَا الدُّعَاءِ: «اَللهم اغْفِرْ لِي خَطِيئَتِي وَجَهْلِي، وَإِسرَافِي فِي أَمْرِي، وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنّي، اَللهم اغْفِرْ لِي جِدِّي وَهَزْلِي؛ وَخَطَئِي وَعَمْدِي؛ وَكُلُّ ذَلِكَ عِنْدِي، اَللهم اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ، وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ، وَمَا أَنتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي، أَنْتَ المُقَدِّمُ، وَأَنْتَ المُؤَخِّرُ، وَأَنْتَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ». متفق عَلَيْهِ
আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) এই দোয়া পড়তেন, ’আল্লা-হুম্মাগফির লী খাত্বীআতী অজাহলী অইসরা-ফী ফী আমরী, অমা আন্তা আ’লামু বিহী মিন্নী। আল্লা-হুম্মাগফির লী জিদ্দী অহাযলী অখাত্বাঈ অআম্দী, অকুল্লু যা-লিকা ইন্দী। আল্লা-হুম্মাগফিরলী মা ক্বাদ্দামতু অমা আখ্খারতু অমা আসরারতু অমা আ’লানতু অমা আন্তা আ’লামু বিহী মিন্নী, আন্তাল মুক্বাদ্দিমু অ আন্তাল মুআখ্খিরু অআন্তা আলা কুলি শাইয়িন ক্বাদীর।’ অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি আমার পাপ, মুর্খামি, কর্মে সীমালঙ্ঘনকে এবং যা তুমি আমার চেয়ে অধিক জান, তা আমার জন্য ক্ষমা করে দাও।আল্লাহ গো! তুমি আমার অযথার্থ ও যথার্থ, অনিচ্ছাকৃত ও ইচ্ছাকৃত-ভাবে করা পাপসমূহকে মার্জনা করে দাও। আর এই প্রত্যেকটি পাপ আমার আছে। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে মার্জনা কর, যে অপরাধ আমি পূর্বে করেছি এবং যা পরে করেছি, যা গোপনে করেছি এবং যা প্রকাশ্যে করেছি এবং যা তুমি অধিক জান। তুমিই অগ্র-সরকারী ও তুমিই পশ্চাদপদকারী এবং তুমি প্রতিটি বস্তুর উপর ক্ষমতাবান। (বুখারী ও মুসলিম) [১]
সহীহুল বুখারী ৬৩৯৮, ৬৩৯৯, মুসলিম ২৭১৯, আহমাদ ১৯২৩৯
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১২/১৪৮৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয়: মাগফিরাতের দোয়া। নবী (صلى الله عليه وسلم) এমন একটি দোয়া পড়তেন, যেখানে নিজের পাপ, অজ্ঞতা, কাজে বাড়াবাড়ি এবং আল্লাহ বেশি জানেন—এমন সব ভুলের ক্ষমা চাওয়া হয়েছে। দোয়ায় আরও আছে, গম্ভীরভাবে হোক বা হাসি-ঠাট্টায়, ভুলে হোক বা ইচ্ছায়—যা কিছু হয়েছে, সবকিছুর জন্য মাফ চাওয়া। আবার পূর্বের, পরের, গোপন ও প্রকাশ্য অপরাধের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তাই এটি গোপন পাপের ক্ষমার দোয়া, প্রকাশ্য ভুলের ক্ষমার দোয়া এবং নিজের অজানা ভুলের জন্য দোয়া হিসেবে খুব অর্থপূর্ণ। হাদিসটি শেখায়, মানুষ নিজের সব ভুল জানে না; আল্লাহ জানেন, তাই তাঁর কাছেই মাফ চাইতে হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জানা-অজানা ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হয়।
- গোপন ও প্রকাশ্য কাজ—দুটোর হিসাব আল্লাহ জানেন।
- দোয়ার ভাষায় বিনয় ও নিজের সীমাবদ্ধতা প্রকাশ পায়।
