১৭/২৫০. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২৯/১৫০১ - রহমত, মাগফিরাত ও জান্নাতের দোয়া
দো‘আর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য এবং নবী (ﷺ)-এর কতিপয় দো‘আর নমুনা
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,﴾وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ ٦٠ ﴿ (غافر: ٦٠“তোমাদের প্রতিপালক বলেন, তোমরা আমাকে ডাক আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।” (সূরা গাফের ৬০ আয়াত)তিনি বলেন,﴾ ادْعُوا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً ۚ إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ ٥٥ ﴿ (الاعراف: ٥٤“তোমরা কাকুতি-মিনতি সহকারে ও সংগোপনে তোমাদের প্রতিপালককে ডাক, নিশ্চয় তিনি সীমালংঘন কারীদেরকে পছন্দ করেন না।” (সূরা আ‘রাফ ৫৫ অয়াত)তিনি আরও বলেন,وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ ۖ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ (البقرة: ١٨٦“আর আমার দাসগণ যখন আমার সম্বন্ধে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, তখন তুমি বল, আমি তো কাছেই আছি। যখন কোন প্রার্থনাকারী আমাকে ডাকে, আমি তার ডাকে সাড়া দিই।” (সূরা বাক্বারাহ১৮৬ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেছেন,﴾ أَمَّنْ يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ السُّوءَ﴿ [النمل: ٦٢]“অথবা (উপাস্য) তিনি, যিনি আর্তের আহবানে সাড়া দেন যখন সে তাঁকে ডাকে এবং বিপদ-আপদ দূরীভূত করেন।” (সূরা নামল ৬২ আয়াত)
রহমত ও মাগফিরাতের দোয়া: জান্নাতের সাফল্য চাওয়ার শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ২৯/১৫০১
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ২৯/১৫০১
وَعَنِ ابْنِ مَسعُود رضي الله عنه، قَالَ: كَانَ مِنْ دُعَاءِ رَسُوْلِ اللهﷺ: اَللهم إِنِّيْ أَسْأَلُكَ مُوْجِبَاتِ رَحْمَتِكَ، وَعَزَائِمَ مَغْفِرَتِكَ، وَالسَّلَامَةَ مِنْ كُلِّ إِثْمٍ، وَالْغَنِيْمَةَ مِنْ كُلِّ بِرٍّ، وَالفَوْزَ بِالْجَنَّةِ، وَالنَّجَاةَ مِنَ النَّارِ
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ)-এর একটি দো’আ ছিল: “আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা মুজিবাতি রহমতিকা, ওয়া ’আযাইমা মাগফিরাতিকা, ওয়াস সালামাতা মিন কুলি ইসমিন ওয়াল গনীমাতা মিন কুলি বিররিন, ওয়াল ফাওযা বিল জান্নাতি ওয়ান নাজাতা মিনান নার” (হে আল্লাহ! তোমার কাছে আমি তোমার রহমত নির্ধারণকারী বিষয় প্রার্থনা করছি, তোমার মাগফিরাতের কার্যকারণসমূহ প্রার্থনা করছি, আর (প্রার্থনা করছি) প্রতিটি গুনাহ হতে দূরে থাকা ও প্রতিটি নেকী লাভ করা এবং জান্নাতের সাফল্য ও জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি) [১]
আমি (আলবানী) বলছিঃ হাকিম এরূপই বলেছেন অথচ এর সনদের মধ্যে এমন ব্যক্তি রয়েছেন যার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছিল। বিস্তারিত জানতে দেখুন “য‘ঈফা” (২৯০৮)। তিনি “য‘ঈফা” হাদীসটিকে খুবই দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। এর বর্ণনাকারী খালাফ ইবনু খালীফাহ্ হেফযের দিক থেকে বিতর্কিত ব্যক্তি। কেউ কেউ তাকে মিথ্যা বর্ণনা করার দোষে দোষী করেছেন। হাফিয যাহাবী তাকে “আয্যু‘য়াফা” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আর ইবনু ওয়াইনাহ্ বলেছেনঃ তিনি মিথ্যা বলেন। হাফিয ইবনু হাজার “আত্তাক্বরীব” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি সত্যবাদী তবে শেষ বয়সে মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছিল। দু‘আটির শুধুমাত্র প্রথম (اللهم إني أسألك موجبات رحمتك وعزائم مغفرتك) এ অংশের সাথে মিল রয়েছে অবশিষ্ট অংশের মিল নেই এরূপ সহীহ্ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। দেখুন “সহীহাহ্” (৩২২৮)
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২৯/১৫০১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم-এর একটি গভীর অর্থপূর্ণ দোয়া এসেছে। দোয়াটিতে বান্দা আল্লাহর কাছে রহমত লাভের কারণ, মাগফিরাতের শক্ত উপায়, সব গুনাহ থেকে নিরাপত্তা এবং সব নেক কাজের অংশ পাওয়ার আবেদন করে। এর শেষে জান্নাতের সাফল্য ও জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি চাওয়া হয়েছে। তাই এই দোয়া শুধু একটি বাক্য নয়; এটি একজন মুমিনের পুরো জীবনের লক্ষ্যকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে দেয়। এখানে দোয়ার মূল বার্তা হলো, মানুষ নিজের শক্তির উপর নির্ভর না করে আল্লাহর রহমত ও ক্ষমার দিকে ফিরে যাবে। গুনাহ থেকে বাঁচা, নেকী লাভ করা এবং আখিরাতের সফলতা—এসবই আল্লাহর কাছে চাইতে হবে। এই দোয়া শেখায়, দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ একসাথে চাওয়া ইসলামের সুন্দর আদব।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দোয়ায় আল্লাহর রহমত, ক্ষমা ও নিরাপত্তা একসাথে চাওয়া উচিত।
- গুনাহ থেকে বাঁচা এবং নেক কাজের সুযোগ পাওয়া আল্লাহর কাছে চাইবার বিষয়।
- জান্নাতের সাফল্য ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি মুমিনের বড় লক্ষ্য।
- নবী صلى الله عليه وسلم-এর শেখানো দোয়া অর্থ বুঝে পড়লে হৃদয়ে বেশি প্রভাব পড়ে।
