১৭/২৫০. অধ্যায়ঃ

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২৮/১৫০০ - সব কল্যাণ চাওয়া ও সব অকল্যাণ থেকে আশ্রয়ের দোয়া

দো‘আর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য এবং নবী (ﷺ)-এর কতিপয় দো‘আর নমুনা

আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,﴾وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ ٦٠ ﴿ (غافر: ٦٠“তোমাদের প্রতিপালক বলেন, তোমরা আমাকে ডাক আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।” (সূরা গাফের ৬০ আয়াত)তিনি বলেন,﴾ ادْعُوا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً ۚ إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ ٥٥ ﴿ (الاعراف: ٥٤“তোমরা কাকুতি-মিনতি সহকারে ও সংগোপনে তোমাদের প্রতিপালককে ডাক, নিশ্চয় তিনি সীমালংঘন কারীদেরকে পছন্দ করেন না।” (সূরা আ‘রাফ ৫৫ অয়াত)তিনি আরও বলেন,وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ ۖ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ (البقرة: ١٨٦“আর আমার দাসগণ যখন আমার সম্বন্ধে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, তখন তুমি বল, আমি তো কাছেই আছি। যখন কোন প্রার্থনাকারী আমাকে ডাকে, আমি তার ডাকে সাড়া দিই।” (সূরা বাক্বারাহ১৮৬ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেছেন,﴾ أَمَّنْ يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ السُّوءَ﴿ [النمل: ٦٢]“অথবা (উপাস্য) তিনি, যিনি আর্তের আহবানে সাড়া দেন যখন সে তাঁকে ডাকে এবং বিপদ-আপদ দূরীভূত করেন।” (সূরা নামল ৬২ আয়াত)

সব কল্যাণ চাওয়ার সমষ্টিগত দোয়া

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ২৮/১৫০০

وَعَنْ أَبِيْ أُمَامَة رضي الله عنه قَالَ: دَعَا رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ بِدُعَاءٍ كَثِيْرٍ، لَمْ نَحْفَظْ مِنْهُ شَيْئاً، قُلْنَا يَا رَسُوْلَ اللهِ دَعَوْتَ بِدُعَاءٍ كَثِيرٍْ لَمْ نَحْفَظْ مِنْهُ شَيْئاً، فَقَالَ: «أَلَا أَدُلُّكُمْ عَلىٰ مَا يَجْمَعُ ذَلِكَ كُلَّهُ ؟ تَقُوْلُ: «اَللهم إِنِّيْ أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِمَا سَأَلَكَ مِنْهُ نَبِيُّكَ مُحَمَّدٌ، َوأَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا اسْتَعَاذَ مِنْهُ نَبِيُّكَ مُحمَّدٌ، وَأَنْتَ المُسْتَعَانُ، وَعَلَيْكَ الْبَلَاغُ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ» رواهُ الترمذيُّ وقَالَ: حديثٌ حَسَنٌ.

আবূ উমামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অগণিত দো’আ করেছিলেন, তার কোনটি আমরা স্মরণ রাখতে পারলাম না। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আপনি অধিক সংখ্যক দো’আ করেছেন, তার কিছুই আমরা মনে রাখতে পারিনি।তিনি বললেন: তোমাদেরকে আমি কি এরূপ একটি দো’আ শিখিয়ে দেব না, যা সব দো’আকে সংযুক্ত করবে? তোমরা বল: “আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিন খাইরি মা সাআলাকা মিনহু নাবিয়্যুকা মুহাম্মাদুন (ﷺ), ওয়া আ’উযু বিকা মিন শাররি মাস্তা’আযাকা মিনহু নাবিয়্যুকা মুহাম্মাদুন (ﷺ), ওয়া আনতাল মুসতা’আনু ওয়া আলাইকাল বালাগ, ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা, ইল্লা বিল্লাহ” (হে আল্লাহ! তোমার নিকট সেই সকল কল্যাণ কামনা করছি, যা তোমার নবী মুহাম্মদ (ﷺ) তোমার নিকট প্রার্থনা করেছেন। আর তোমার নিকট সেই সকল অকল্যাণ হতে আশ্রয় কামনা করছি যে সকল অকল্যাণ হতে তোমার নবী মুহাম্মদ (ﷺ) আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। তুমিই সাহায্যকারী। তোমার নিকট সব পৌঁছে যাবে এবং তোমার সাহায্য ছাড়া গুনাহ থেকে বিরত থাকার ও পুণ্য করার ক্ষমতা কারো নেই।(তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন) [১]

এ হাদীসটি দুর্বল। লাইস ইবনু আবী সুলাইমের মস্তিষ্ক বিকৃত ঘটার কারণে। দেখুন “য‘ঈফা” (৩৩৫৬), “য‘ঈফু তিরমিযী” (৩৫২১) ও “য‘ঈফু আদাবিল মুফরাদ” (৬৭৯)।

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২৮/১৫০০-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের মূল বিষয়: সমষ্টিগত দোয়া। আবূ উমামাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) অনেক দোয়া করেছিলেন, কিন্তু তারা সেগুলো মনে রাখতে পারেননি। তখন তাঁরা নবীজিকে বিষয়টি বললে তিনি এমন একটি দোয়া শেখান, যা সেই সব দোয়ার অর্থকে একত্র করে। দোয়ায় আল্লাহর কাছে সেই সব কল্যাণ চাওয়া হয়েছে, যা নবী মুহাম্মদ (صلى الله عليه وسلم) চেয়েছেন। আবার সেই সব অকল্যাণ থেকে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে, যেগুলো থেকে নবীজি আশ্রয় চেয়েছেন। শেষে আল্লাহর সাহায্য এবং ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ কথাও এসেছে। তাই এটি সব কল্যাণের দোয়া এবং সব অকল্যাণ থেকে আশ্রয়ের দোয়া হিসেবে খুব ব্যাপক।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • নবীজি যে কল্যাণ চেয়েছেন, তা আল্লাহর কাছে চাওয়ার শিক্ষা আছে।
  • নবীজি যে অকল্যাণ থেকে আশ্রয় চেয়েছেন, তা থেকে আশ্রয় চাওয়া হয়।
  • সব শক্তি ও সাহায্য আল্লাহর পক্ষ থেকে—দোয়ায় এটি স্পষ্ট।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন