১৮/২৫৪. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৫/১৫২৩ - ভালো ও মন্দ কথার ফল
গীবত (পরনিন্দা) নিষিদ্ধ এবং বাক্ সংযমের নির্দেশ ও গুরুত্ব
মহান আল্লাহ বলেছেন,﴾ وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَغْتَبْ بَعْضُكُمْ بَعْضًا ۚ أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَحِيمٌ ﴿ (الحجرات: ١٢অর্থাৎ তোমরা একে অপরের পশ্চাতে নিন্দা (গীবত) করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভ্রাতার মাংস ভক্ষণ করতে চাইবে? বস্তুতঃ তোমরা তো এটাকে ঘৃণাই কর। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। আল্লাহ তাওবা গ্রহণকারী, পরম দয়ালু।(সূরা হুজুরাত ১২ আয়াত)তিনি বলেছেন,﴾وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ ۚ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَٰئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا﴿ (الاسراء: ٣٦অর্থাৎ যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই সেই বিষয়ে অনুমান দ্বারা পরিচালিত হইয়ো না। নিশ্চয় কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয় ওদের প্রত্যেকের নিকট কৈফিয়ত তলব করা হবে।(সূরা বনী ইসরাইল ৩৬ আয়াত)তিনি আরও বলেছেন,﴾ مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ﴿(ق: ١٨অর্থাৎ মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে (তা লিপিবদ্ধ করার জন্য) তৎপর প্রহরী তার নিকটেই রয়েছে।(সূরা ক্বাফ ১৮ আয়াত)জেনে রাখুন যে, যে কথায় উপকার আছে বলে স্পষ্ট হয়, সে কথা ছাড়া অন্য সব (অসঙ্গত) কথা হতে নিজ জিহ্বাকে সংযত রাখা প্রত্যেক ভারপ্রাপ্ত মুসলিম ব্যক্তির উচিত। যেখানে কথা বলা ও চুপ থাকা দুটোই সমান, সেখানে চুপ থাকাটাই সুন্নত। কেননা, বৈধ কথাবার্তাও অনেক সময় হারাম অথবা মাকরূহ পর্যায়ে পৌঁছে দেয়। অধিকাংশ এরূপই ঘটে থাকে। আর (বিপদ ও পাপ থেকে) নিরাপত্তার সমতুল্য কোন বস্তু নেই।
ভালো কথা মর্যাদা বাড়ায়, মন্দ কথা জাহান্নামের কারণ হতে পারে
রিয়াদুস সালেহীন : ৫/১৫২৩
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৫/১৫২৩
وَعَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ: «إِنَّ العَبْدَ لَيَتَكَلَّمُ بِالكَلِمَةِ مِنْ رِضْوَانِ الله تَعَالَى مَا يُلْقِي لَهَا بَالاً يَرْفَعُهُ اللهُ بِهَا دَرَجَاتٍ، وَإِنَّ العَبْدَ لَيَتَكَلَّمُ بِالكَلَمَةِ مِنْ سَخَطِ اللهِ تَعَالَى لاَ يُلْقِي لَهَا بَالاً يَهْوِيْ بِهَا فِي جَهَنَّمَ». رواه البخاري
উক্ত রাবী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, “বান্দা আল্লাহ তা’আলার সন্তোষজনক এমন কথা অন্যমনস্ক হয়ে বলে ফেলে, যার ফলে আল্লাহ তার মর্যাদা উন্নীত করে দেন। আবার কখনো বান্দা অন্যমনস্ক হয়ে আল্লাহর অসন্তোষজনক এমন কথা বলে ফেলে, যার ফলে সে জাহান্নামে গিয়ে পতিত হয়।” (বুখারী) [১]
সহীহুল বুখারী ৬৪৭৭, ৬৪৭৮, মুসলিম ২৯৮৮, তিরমিযী ২৩১৪, আহমাদ ৭১৭৪, ৭৮৯৮, ৮২০৬, ৮৪৪৪, ৮৭০৩, ৮৯৬৭, ১০৫১৪, মুওয়াত্তা মালিক ১৮৯৪
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৫/১৫২৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم কথার দুই দিক দেখিয়েছেন। কখনো বান্দা আল্লাহ তা’আলার সন্তোষজনক এমন কথা বলে, যার প্রতি সে খুব বেশি মনোযোগও দেয় না; কিন্তু আল্লাহ সেই কথার কারণে তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। আবার কখনো মানুষ আল্লাহর অসন্তোষজনক এমন কথা বলে ফেলে, যার গুরুত্ব সে বুঝতে পারে না; কিন্তু সেটি তাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যেতে পারে। তাই কথার মূল্য খুব বড়। মুখের একটি বাক্য দোয়া, সত্য কথা, ন্যায়ের পক্ষে কথা বা ভালো উপদেশ হতে পারে। আবার একই জিহ্বা দিয়ে গীবত, অপবাদ, তাচ্ছিল্য বা মন্দ কথা বের হতে পারে। হাদিসটি আমাদের শেখায়, কথা বলার আগে ভাবা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির দিকে নজর রাখা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর সন্তোষজনক কথা মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।
- আল্লাহর অসন্তোষজনক কথা ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হতে পারে।
- কথাকে ছোট মনে করে অবহেলা করা উচিত নয়।
