১৮/২৫৪. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৬/১৫২৪ - কথার প্রভাব ও আল্লাহর সন্তুষ্টি
গীবত (পরনিন্দা) নিষিদ্ধ এবং বাক্ সংযমের নির্দেশ ও গুরুত্ব
মহান আল্লাহ বলেছেন,﴾ وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَغْتَبْ بَعْضُكُمْ بَعْضًا ۚ أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَحِيمٌ ﴿ (الحجرات: ١٢অর্থাৎ তোমরা একে অপরের পশ্চাতে নিন্দা (গীবত) করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভ্রাতার মাংস ভক্ষণ করতে চাইবে? বস্তুতঃ তোমরা তো এটাকে ঘৃণাই কর। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। আল্লাহ তাওবা গ্রহণকারী, পরম দয়ালু।(সূরা হুজুরাত ১২ আয়াত)তিনি বলেছেন,﴾وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ ۚ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَٰئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا﴿ (الاسراء: ٣٦অর্থাৎ যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই সেই বিষয়ে অনুমান দ্বারা পরিচালিত হইয়ো না। নিশ্চয় কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয় ওদের প্রত্যেকের নিকট কৈফিয়ত তলব করা হবে।(সূরা বনী ইসরাইল ৩৬ আয়াত)তিনি আরও বলেছেন,﴾ مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ﴿(ق: ١٨অর্থাৎ মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে (তা লিপিবদ্ধ করার জন্য) তৎপর প্রহরী তার নিকটেই রয়েছে।(সূরা ক্বাফ ১৮ আয়াত)জেনে রাখুন যে, যে কথায় উপকার আছে বলে স্পষ্ট হয়, সে কথা ছাড়া অন্য সব (অসঙ্গত) কথা হতে নিজ জিহ্বাকে সংযত রাখা প্রত্যেক ভারপ্রাপ্ত মুসলিম ব্যক্তির উচিত। যেখানে কথা বলা ও চুপ থাকা দুটোই সমান, সেখানে চুপ থাকাটাই সুন্নত। কেননা, বৈধ কথাবার্তাও অনেক সময় হারাম অথবা মাকরূহ পর্যায়ে পৌঁছে দেয়। অধিকাংশ এরূপই ঘটে থাকে। আর (বিপদ ও পাপ থেকে) নিরাপত্তার সমতুল্য কোন বস্তু নেই।
একটি কথার প্রভাব: আল্লাহর সন্তুষ্টি বা অসন্তুষ্টির কারণ
রিয়াদুস সালেহীন : ৬/১৫২৪
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৬/১৫২৪
وَعَنْ أَبي عَبدِ الرَّحْمَانِ بِلاَلِ بنِ الحَارِثِ المُزَنِيِّ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ ﷺ قَالَ: «إِنَّ الرَّجُلَ لَيَتَكَلَّمُ بِالكَلِمَةِ مِنْ رِضْوَانِ اللهِ تَعَالَى مَا كَانَ يَظُنُّ أَنْ تَبْلُغَ مَا بَلَغَتْ يَكْتُبُ اللهُ لَهُ بِهَا رِضْوَانَهُ إِلَى يَومِ يَلْقَاهُ، وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَتَكَلَّمُ بِالكَلِمَةِ مِنْ سَخَطِ اللهِ مَا كَانَ يَظُنُّ أَنْ تَبْلُغَ مَا بَلَغَتْ يَكْتُبُ الله لَهُ بِهَا سَخَطَهُ إِلَى يَوْمِ يَلْقَاهُ». رواه مالك في المُوَطَّأ، والترمذي، وقال: «حديث حسن صحيح
আবূ আব্দুর রহমান বিলাল ইবনে হারেস মুযানী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, “মানুষ আল্লাহ তা’আলার সন্তোষমূলক এমন কথা বলে, আর সে কল্পনাও করে না যে, তা কোথায় গিয়ে পৌঁছবে, আল্লাহ তার দরুন তাঁর সাক্ষাতের দিন পর্যন্ত তার জন্য সন্তুষ্টি লিখে দেন। পক্ষান্তরে মানুষ আল্লাহ তা’আলার অসন্তোষমূলক এমন কথা বলে, আর সে কল্পনাও করে না যে, তা কোথায় গিয়ে পৌঁছবে, আল্লাহ তার দরুন তাঁর সাক্ষাতের দিন পর্যন্ত তার জন্য অসন্তুষ্টি লিখে দেন।” (মুআত্তা মালেক, তিরমিযী, হাসান সহীহ) [১]
তিরমিযী ২৩১৯ আহমাদ ১৫৪২৫, মুওয়াত্তা মালিক ১৮৪৮
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৬/১৫২৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, মানুষ কখনো আল্লাহর সন্তোষমূলক এমন কথা বলে, যার প্রভাব কোথায় পৌঁছবে সে নিজেও জানে না। সেই কথার কারণে আল্লাহ তার জন্য সন্তুষ্টি লিখে দেন। আবার মানুষ কখনো আল্লাহর অসন্তোষমূলক এমন কথা বলে, যার ফল কত দূর যাবে সে ভাবেও না। সেই কথার কারণে আল্লাহ তার জন্য অসন্তুষ্টি লিখে দেন। এখানে মূল শিক্ষা হলো, কথার প্রভাব শুধু মুহূর্তের মধ্যে শেষ হয়ে যায় না। কোনো কথা অন্যের মনে সাহস দিতে পারে, সত্যকে সাহায্য করতে পারে, ভালো পথে ডাকতে পারে। আবার কোনো কথা অন্যের সম্মান নষ্ট করতে পারে, ভুল ছড়াতে পারে বা অন্যায়কে বাড়াতে পারে। তাই জিহ্বা সংযম এবং ভালো কথা বেছে নেওয়া একজন মুমিনের দৈনন্দিন দায়িত্ব।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ভালো কথার প্রভাব মানুষের ধারণার চেয়েও বড় হতে পারে।
- মন্দ কথার ফলও অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পারে।
- কথা বলার আগে আল্লাহর সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টির কথা ভাবা উচিত।
