১৮/২৫৪. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৮/১৫২৬ - বেশি কথা ও অন্তরের কঠোরতা
গীবত (পরনিন্দা) নিষিদ্ধ এবং বাক্ সংযমের নির্দেশ ও গুরুত্ব
মহান আল্লাহ বলেছেন,﴾ وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَغْتَبْ بَعْضُكُمْ بَعْضًا ۚ أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَحِيمٌ ﴿ (الحجرات: ١٢অর্থাৎ তোমরা একে অপরের পশ্চাতে নিন্দা (গীবত) করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভ্রাতার মাংস ভক্ষণ করতে চাইবে? বস্তুতঃ তোমরা তো এটাকে ঘৃণাই কর। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। আল্লাহ তাওবা গ্রহণকারী, পরম দয়ালু।(সূরা হুজুরাত ১২ আয়াত)তিনি বলেছেন,﴾وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ ۚ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَٰئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا﴿ (الاسراء: ٣٦অর্থাৎ যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই সেই বিষয়ে অনুমান দ্বারা পরিচালিত হইয়ো না। নিশ্চয় কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয় ওদের প্রত্যেকের নিকট কৈফিয়ত তলব করা হবে।(সূরা বনী ইসরাইল ৩৬ আয়াত)তিনি আরও বলেছেন,﴾ مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ﴿(ق: ١٨অর্থাৎ মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে (তা লিপিবদ্ধ করার জন্য) তৎপর প্রহরী তার নিকটেই রয়েছে।(সূরা ক্বাফ ১৮ আয়াত)জেনে রাখুন যে, যে কথায় উপকার আছে বলে স্পষ্ট হয়, সে কথা ছাড়া অন্য সব (অসঙ্গত) কথা হতে নিজ জিহ্বাকে সংযত রাখা প্রত্যেক ভারপ্রাপ্ত মুসলিম ব্যক্তির উচিত। যেখানে কথা বলা ও চুপ থাকা দুটোই সমান, সেখানে চুপ থাকাটাই সুন্নত। কেননা, বৈধ কথাবার্তাও অনেক সময় হারাম অথবা মাকরূহ পর্যায়ে পৌঁছে দেয়। অধিকাংশ এরূপই ঘটে থাকে। আর (বিপদ ও পাপ থেকে) নিরাপত্তার সমতুল্য কোন বস্তু নেই।
যিকিরহীন বেশি কথা অন্তর কঠোর করে: বাক্ সংযমের শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ৮/১৫২৬
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৮/১৫২৬
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ: «لَا تُكْثِرُوْا الْكَلَامَ بِغَيْرِ ذِكْرِ اللهِ، فَإِنَّ كَثْرَةَ الْكَلَامِ بِغَيْرِ ذِكْرِ اللَّه تَعَالىٰ قَسْوَةٌ لِلْقَلْبِ، وَإِنَّ أبْعَدَ النَّاسِ مِنَ اللهِ القَلْبُ القَاسِي». رواه الترمذي.
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহর যিকির ভিন্ন অধিক কথা বলো না। কেননা আল্লাহ তা’আলার যিকির শূন্য অধিক কথা বার্তা অন্তরকে শক্ত করে ফেলে আর শক্ত অন্তরের লোক আল্লাহ থেকে সবচাইতে দূরে। (তিরমিযি) [১]
আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি এরূপই বলেছেন। অথচ এর সনদে ইবরাহীম ইবনু আব্দিল্লাহ্ ইবনে হাতেব রয়েছেন তিনি মাজহূল হাল। তাকে ইবনু হিব্বান তার নীতি অনুযায়ী নির্ভরযোগ্য আখ্যা দিয়েছেন আর শাইখ আহমাদ শাকের এর দ্বারা অভ্যাসগতভাবে বিভ্রান্ত হয়ে হাদীসটিকে সহীহ্ আখ্যা দিয়েছেন। আর হাদীসটিকে ইমাম মালেক ঈসা (আঃ) হতে পৌঁছেছে এ কথা বলে বর্ণনা করেছেন। সে ব্যাপারে আমি “য‘ঈফা” গ্রন্থে (নং ৯২০) বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৮/১৫২৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, আল্লাহর যিকির ছাড়া বেশি কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ যিকিরশূন্য বেশি কথাবার্তা অন্তরকে শক্ত করে ফেলে। আর শক্ত অন্তরের লোক আল্লাহ থেকে সবচেয়ে দূরে বলা হয়েছে। এখানে বেশি কথা বলতে সব কথাকে বোঝানো হয়নি; বরং এমন কথাকে বোঝানো হয়েছে যেখানে আল্লাহর স্মরণ নেই, উপকার নেই এবং মানুষ শুধু অযথা কথায় সময় কাটায়। জিহ্বা হেফাজতের একটি দিক হলো মন্দ কথা থেকে বাঁচা, আর আরেকটি দিক হলো অপ্রয়োজনীয় কথাও কমানো। যিকির, ভালো কথা, উপদেশ, সত্য কথা—এসব অন্তরকে নরম রাখার পথে সাহায্য করে। তাই এই হাদিস আমাদের শেখায়, কথার পরিমাণ ও কথার মান—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর যিকির ছাড়া অযথা বেশি কথা বলা থেকে বাঁচা উচিত।
- অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা অন্তর কঠোর করার কারণ হতে পারে।
- ভালো কথা ও যিকির অন্তরকে আল্লাহমুখী রাখতে সাহায্য করে।
