১৮/২৫৪. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১০/১৫২৮ - পরিত্রাণের তিন শিক্ষা
গীবত (পরনিন্দা) নিষিদ্ধ এবং বাক্ সংযমের নির্দেশ ও গুরুত্ব
মহান আল্লাহ বলেছেন,﴾ وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَغْتَبْ بَعْضُكُمْ بَعْضًا ۚ أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَحِيمٌ ﴿ (الحجرات: ١٢অর্থাৎ তোমরা একে অপরের পশ্চাতে নিন্দা (গীবত) করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভ্রাতার মাংস ভক্ষণ করতে চাইবে? বস্তুতঃ তোমরা তো এটাকে ঘৃণাই কর। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। আল্লাহ তাওবা গ্রহণকারী, পরম দয়ালু।(সূরা হুজুরাত ১২ আয়াত)তিনি বলেছেন,﴾وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ ۚ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَٰئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا﴿ (الاسراء: ٣٦অর্থাৎ যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই সেই বিষয়ে অনুমান দ্বারা পরিচালিত হইয়ো না। নিশ্চয় কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয় ওদের প্রত্যেকের নিকট কৈফিয়ত তলব করা হবে।(সূরা বনী ইসরাইল ৩৬ আয়াত)তিনি আরও বলেছেন,﴾ مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ﴿(ق: ١٨অর্থাৎ মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে (তা লিপিবদ্ধ করার জন্য) তৎপর প্রহরী তার নিকটেই রয়েছে।(সূরা ক্বাফ ১৮ আয়াত)জেনে রাখুন যে, যে কথায় উপকার আছে বলে স্পষ্ট হয়, সে কথা ছাড়া অন্য সব (অসঙ্গত) কথা হতে নিজ জিহ্বাকে সংযত রাখা প্রত্যেক ভারপ্রাপ্ত মুসলিম ব্যক্তির উচিত। যেখানে কথা বলা ও চুপ থাকা দুটোই সমান, সেখানে চুপ থাকাটাই সুন্নত। কেননা, বৈধ কথাবার্তাও অনেক সময় হারাম অথবা মাকরূহ পর্যায়ে পৌঁছে দেয়। অধিকাংশ এরূপই ঘটে থাকে। আর (বিপদ ও পাপ থেকে) নিরাপত্তার সমতুল্য কোন বস্তু নেই।
পরিত্রাণের পথ: জিহ্বা নিয়ন্ত্রণ, ঘরে থাকা ও পাপের জন্য কান্না
রিয়াদুস সালেহীন : ১০/১৫২৮
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১০/১৫২৮
وَعَنْ عُقبَةَ بنِ عَامرٍ رضي الله عنه قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ ﷺ مَا النَّجَاةُ ؟ قَالَ: «أَمْسِكْ عَلَيْكَ لِسَانَكَ، وَلْيَسَعْكَ بَيْتُكَ، وابْكِ عَلَى خَطِيئَتِكَ». رواه الترمذي، وقال: حديث حسن
উক্ববাহ ইবনে আমের (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি নিবেদন করলাম, ’হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! কিসে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব?’ তিনি বললেন, “তুমি নিজ রসনাকে নিয়ন্ত্রণে রাখ। তোমার ঘর তোমার জন্য প্রশস্ত হোক। (অর্থাৎ অবসর সময়ে নিজ গৃহে অবস্থান কর।) আর নিজ পাপের জন্য ক্রন্দন কর।” (তিরমিযী হাসান) [১]
তিরমিযী ২৪০৬
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১০/১৫২৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একজন সাহাবি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে জিজ্ঞেস করেন, কিসে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব? নবী صلى الله عليه وسلم তিনটি সহজ কিন্তু গভীর নির্দেশ দেন। প্রথম নির্দেশ: নিজের রসনাকে নিয়ন্ত্রণে রাখো। অর্থাৎ জিহ্বা দিয়ে এমন কথা বলো না, যা পাপ, ঝগড়া, গীবত বা ক্ষতির কারণ হয়। দ্বিতীয় নির্দেশ: তোমার ঘর তোমার জন্য প্রশস্ত হোক। অনুবাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অবসর সময়ে নিজের ঘরে থাকা বোঝানো হয়েছে, যাতে অযথা মেলামেশা ও ক্ষতিকর কথাবার্তা কমে। তৃতীয় নির্দেশ: নিজের পাপের জন্য ক্রন্দন করো। অর্থাৎ পাপকে হালকা মনে না করে অনুতপ্ত হও। এই হাদিসে জিহ্বা সংযম, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং তওবার মন—তিনটি বিষয় একসঙ্গে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পরিত্রাণের জন্য জিহ্বা নিয়ন্ত্রণ খুব জরুরি।
- অযথা মেলামেশা ও কথাবার্তা কমানো নিরাপত্তার কারণ হতে পারে।
- নিজ পাপের জন্য অনুতপ্ত হওয়া মুমিনের গুণ।
