১৮/২৬২. অধ্যায়ঃ

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/১৫৫৫ - শোনা কথা যাচাই ছাড়া বলা

কথাবার্তা বলা ও বর্ণনা করার সময় যাচাই-তদন্ত করে সাবধানে করার প্রতি উৎসাহ দান

মহান আল্লাহ বলেন,﴾وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ ﴿ [الاسراء: ٣٦]অর্থাৎ যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই সেই বিষয়ে অনুমান দ্বারা পরিচালিত হয়ো না। (সূরা ইসরা ৩৬ আয়াত)তিনি বলেছেন,﴾مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ﴿ [ق: ١٨]অর্থাৎ মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করুক না কেন, তা লিপিবদ্ধ করার জন্য তৎপর প্রহরী তার নিকটেই রয়েছে। [ক্বাফ ১৮ আয়াত)[এ মর্মে মহান আল্লাহর এ বাণীও অনেকে উল্লেখ করে থাকেন, ’‘হে ঈমানদারগণ! যদি কোন পাপাচারী তোমাদের নিকট কোন বার্তা আনয়ন করে, তাহলে তোমরা তা পরীক্ষা করে দেখ; যাতে অজ্ঞতাবশত: তোমরা কোন সম্প্রদায়কে আঘাত না কর এবং পরে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত না হও।’’ - সূরা হুজুরাত ৬ আয়াত)

শোনা কথা যাচাই ছাড়া বলা: মিথ্যা থেকে বাঁচার শিক্ষা

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১/১৫৫৫

إْعْلَمْ أنَّ الْكَذب، وَإنْ آَانَ أصْلُهُ مُحرَّما،ً فيَجُوزُ في بعْض الأحْوالِ بشرُوطٍ قد أوْضَحْتُهَا في آتاب: «الأذْآارِ» ومُخْتَصَرُ ذلك أنَّ الكلامَ وسيلةٌ إلى المقاصدِ، فَكُلُّ مَقْصُودٍ محْمُودٍ يُمْكِن تحْصيلُهُ بغَيْر الْكَذِبِ يَحْرُمُ الْكذِبُفيه، وإنْ لَمْ يُمكِنْ تحصيله إلاَّ بالكذبِ جاز الْكذِبُ.ثُمَّ إن آانَ تَحْصِيلُ ذلك المقْصُودِ مُباحاً آَانَ الْكَذِبُ مُباحاً، وإنْ آانَ واجِباً، آان الكَذِبُ واجِباً، فإذا اخْتَفي مُسْلمٌ مِن ظالمٍ يريد قَتلَه، أوْ أخْذَ مالِه، وأخَفي مالَه، وسُئِل إنسانٌ عنه، وجب الكَذبُ بإخفائِه، وآذا لو آانَ عِندهُ وديعة، وأراد ظالِمٌ أخذَها، وجب الْكَذِبُبإخفائها، والأحْوطُ في هذا آُلِّه أنْ يُوَرِّي، ومعْنَى التَّوْرِيةِ : أن يقْصِد بِعبارَتِه مَقْصُوداً صَحيحاً ليْسَ هوآاذِباً بالنِّسّبةِ إلَيْهِ، وإنْ آانَ آاذِباً في ظاهِرِ اللفظِ، وبِالنِّسْبةِ إلى ما يفهَمهُ المُخَاطَبُ ولَوْ تَركَ التَّوْرِيةَوَأطْلَق عِبارةَ الكذِبِ، فليْس بِحرَامٍ في هذا الحَالِ.واسْتَدلَّ الْعُلَماءُ بجَوازِ الكَذِب في هذا الحَال بحدِيث أمِّ آُلْثومٍ رضي اللَّه عنْهَا أنَّها سَمِعَتْ رسول اللَْه صَلّىااللهُ عَلَيْهِ وسَلَّم يقولُ : «لَيْس الكَذَّابُ الَّذي يُصلحُ بيْنَ النَّاسِ، فينمِي خَيْراً أو يقولُ خَيْراً» متفقٌ عليه. زاد مسلم في رواية : » قالت : أمُّ آُلْثُومٍ : ولَم أسْمعْهُ يُرْخِّصُ في شَيءٍ مِمَّا يقُولُ النَّاسُ إلاَّ في ثلاثٍ : تَعْني: الحَرْبَ، والإصْلاحَ بيْن النَّاسِ، وحديثَ الرَّجُلَ امْرَأَتَهُ، وحديث المرْأَةِ زوْجَهَا.وَعَنْ أَبي هُرَيرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ: أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ: «كَفَى بِالمَرْءِ كَذِباً أَنْ يُحَدِّثَ بِكُلِّ مَا سَمِعَ». رواه مسلم

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (ﷺ) বলেছেন, ’’মানুষের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা কিছু শোনে [বিনা বিচারে] তা-ই বর্ণনা করে।’’ (মুসলিম) [১]

মুসলিম ৫, আবূ দাউদ ৪৯৯২

অনুবাদের উৎস

সংকলক:
মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্‌-নাবাবী (রহ.)
প্রকাশক:
তাওহীদ পাবলিকেশন্স
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/১৫৫৫-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের মূল বিষয় হলো খবর যাচাই না করে বলা থেকে বেঁচে থাকা। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, মানুষের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা কিছু শোনে, তাই বর্ণনা করে। অর্থাৎ প্রত্যেক শোনা কথা সত্য নয়। মানুষ কখনও ভুল শুনে, কখনও অসম্পূর্ণ কথা শুনে, আবার কখনও মিথ্যা খবরও শুনে। যদি কেউ সবকিছু যাচাই ছাড়া ছড়িয়ে দেয়, তাহলে সে নিজেও মিথ্যার অংশ হয়ে যায়। এই শিক্ষা আজকের জীবনে খুব দরকারি। মুখে বলা, মেসেজ পাঠানো, পোস্ট শেয়ার করা—সব ক্ষেত্রেই একই সাবধানতা দরকার। হাদিসটি আমাদের থামতে, যাচাই করতে এবং অপ্রয়োজনীয় কথা না ছড়াতে শেখায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সব শোনা কথা বলা ঠিক নয়।
  • খবর বলার আগে সত্যতা যাচাই করা দরকার।
  • যাচাই ছাড়া কথা ছড়ালে মানুষ মিথ্যার অংশ হতে পারে।
  • কম কথা বলা অনেক সময় নিরাপদ ও ভালো।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন