১৮/২৯১. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/১৬৩৮ - মুজাহিদের পরিবারের আমানত
বেগানা নারীর সঙ্গে নির্জনে একত্র বাস করার নিষেধাজ্ঞা
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍঅর্থাৎ তোমরা তাদের নিকট হতে কিছু চাইলে পর্দার অন্তরাল হতে চাও।(সূরা আহযাব ৫৩ আয়াত)
মুজাহিদের পরিবারের আমানত ও খেয়ানতের সতর্কতা
রিয়াদুস সালেহীন : ৩/১৬৩৮
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৩/১৬৩৮
وَعَنْ بُرَيدَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: «حُرْمَةُ نِسَاءِ المُجَاهِدِينَ عَلَى القَاعِدِينَ كَحُرْمَةِ أُمَّهَاتِهِمْ، مَا مِنْ رَجُلٍ مِنَ القَاعِدِيْنَ يَخْلُفُ رَجُلاً مِنَ المُجَاهِدِينَ فِي أَهْلِهِ، فَيَخُونُهُ فِيهِمْ إِلاَّ وُقِفَ لَهُ يَوْمَ القِيَامَةِ، فَيَأْخُذُ مِنْ حَسَنَاتِهِ مَا شَاءَ حَتَّى يَرْضى» ثُمَّ التَفَتَ إِلَيْنَا رَسُول اللهِ ﷺ فَقَالَ: «مَا ظَنُّكُمْ ؟». رواه مسلم
বুরাইদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’স্বগৃহে অবস্থানকারী লোকদের পক্ষে মুজাহিদদের স্ত্রীদের মর্যাদা তাদের নিজেদের মায়ের মর্যাদার মত। স্বগৃহে অবস্থানকারী লোকদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোন মুজাহিদ ব্যক্তির পরিবারের প্রতিনিধিত্ব [দেখা-শুনা] করে, অতঃপর তাদের ব্যাপারে সে তার খেয়ানত করে বসে, তবে কেয়ামতের দিন তাকে মুজাহিদের সম্মুখে দাঁড় করানো হবে এবং সে তার নেকীসমূহ থেকে সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত ইচ্ছামত নেকী নিয়ে নেবে।’’ অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের প্রতি মুখ ফিরিয়ে বললেন, ’’তোমাদের ধারণা কি? [সে কি তখন তার কাছ থেকে নেকী নিতে ছাড়বে?]’’(মুসলিম)[১]
মুসলিম ১৮৯৭, নাসায়ী ৩১৮৯, ৩১৯০, ৩১৯১, আবূ দাউদ ২৪৯৬, আহমাদ ২২৪৬৮, ২২৪৯৫
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্-নাবাবী (রহ.)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/১৬৩৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় আমানত ও খেয়ানত। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, ঘরে থাকা লোকদের জন্য মুজাহিদদের স্ত্রীদের মর্যাদা তাদের নিজেদের মায়ের মর্যাদার মতো। কেউ যদি কোনো মুজাহিদের পরিবারের দেখাশোনার দায়িত্ব নেয়, তারপর তাদের ব্যাপারে খেয়ানত করে, কিয়ামতের দিন তাকে সেই মুজাহিদের সামনে দাঁড় করানো হবে। মুজাহিদ তার নেকী থেকে ইচ্ছামতো নেবে, যতক্ষণ না সে সন্তুষ্ট হয়। এরপর নবী (صلى الله عليه وسلم) প্রশ্ন করলেন, তোমাদের ধারণা কী? অর্থাৎ সে কি তখন ছেড়ে দেবে? হাদিসটি আমানত, পরিবার-সম্মান ও বিশ্বাস রক্ষার কঠোর শিক্ষা দেয়। কারও অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে তার পরিবারে খেয়ানত করা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কারও পরিবারের দেখাশোনার দায়িত্ব নিলে তা আমানত হিসেবে নিতে হবে।
- মুজাহিদের স্ত্রীদের মর্যাদা সম্পর্কে কঠোর সতর্কতা এসেছে।
- অনুপস্থিত ব্যক্তির পরিবারের ব্যাপারে খেয়ানত বড় জবাবদিহির কারণ।
- বিশ্বাস রক্ষা করা মুমিনের চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
