১/১৬. অধ্যায়ঃ

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১০/১৬৯ - কিয়ামতের সমাবেশ ও দ্বীনে নতুন রীতির ভয়

সুন্নাহ পালনের গুরুত্ব ও তার কিছু আদব প্রসঙ্গে

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾وَمَآ ءَاتَىٰكُمُ ٱلرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَىٰكُمۡ عَنۡهُ فَٱنتَهُواْۚ ﴿ [الحشر: ٧]অর্থাৎ “আর রাসূল তোমাদেরকে যা দেন তা তোমরা গ্রহণ কর এবং যা হতে তোমাদেরকে নিষেধ করেন তা হতে বিরত থাক।” (সূরা হাশ্‌র ৭ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ وَمَا يَنطِقُ عَنِ ٱلۡهَوَىٰٓ ٣ إِنۡ هُوَ إِلَّا وَحۡيٞ يُوحَىٰ ٤ ﴿ [النجم: ٣، ٤]অর্থাৎ “সে মনগড়া কথাও বলে না। তা তো অহী, যা তার প্রতি প্রত্যাদেশ হয়।” (সূরা নাজ্‌ম ৩-৪ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ قُلۡ إِن كُنتُمۡ تُحِبُّونَ ٱللَّهَ فَٱتَّبِعُونِي يُحۡبِبۡكُمُ ٱللَّهُ وَيَغۡفِرۡ لَكُمۡ ذُنُوبَكُمۡۚ ﴿ [ال عمران: ٣١]অর্থাৎ “বল, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমার অনুসরণ কর। ফলে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করবেন।” (সূরা আলে ইমরান ৩১ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেছেন,﴾ لَّقَدۡ كَانَ لَكُمۡ فِي رَسُولِ ٱللَّهِ أُسۡوَةٌ حَسَنَةٞ لِّمَن كَانَ يَرۡجُواْ ٱللَّهَ وَٱلۡيَوۡمَ ٱلۡأٓخِرَ ﴿ [الاحزاب: ٢١]অর্থাৎ “তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালকে ভয় করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে তাদের জন্য রাসূলুল্লাহর (চরিত্রের) মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে।” (সূরা আহযাব ২১ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤۡمِنُونَ حَتَّىٰ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيۡنَهُمۡ ثُمَّ لَا يَجِدُواْ فِيٓ أَنفُسِهِمۡ حَرَجٗا مِّمَّا قَضَيۡتَ وَيُسَلِّمُواْ تَسۡلِيمٗا ٦٥ ﴿ [النساء: ٦٥]অর্থাৎ “কিন্তু না, তোমার প্রতিপালকের শপথ! তারা বিশ্বাসী (মু‘মিন) হতে পারবে না; যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের নিজেদের বিবাদ-বিসম্বাদের বিচারভার তোমার উপর অর্পণ না করে, অতঃপর তোমার সিদ্ধান্ত সম্বন্ধে তাদের মনে কোন দ্বিধা না থাকে এবং সর্বান্তঃকরণে তা মেনে নেয়।” (সূরা নিসা ৬৫ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾فَإِن تَنَٰزَعۡتُمۡ فِي شَيۡءٖ فَرُدُّوهُ إِلَى ٱللَّهِ وَٱلرَّسُولِ﴿ [النساء: ٥٩]قَالَ العلماء : معناه إِلَى الكتاب والسُنّة،অর্থাৎ “আর যদি কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ ঘটে, তাহলে সে বিষয়কে আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও।” (ঐ ৫৯ আয়াত)আলেমগণ বলেন, এর অর্থ হলঃ কিতাব ও সুন্নাহর দিকে ফিরিয়ে দাও।তিনি আরো বলেন,﴾ مَّن يُطِعِ ٱلرَّسُولَ فَقَدۡ أَطَاعَ ٱللَّهَۖ وَمَن تَوَلَّىٰ فَمَآ أَرۡسَلۡنَٰكَ عَلَيۡهِمۡ حَفِيظٗا ٨٠ ﴿ [النساء: ٨٠]অর্থাৎ “যে রাসূলের আনুগত্য করল, সে আসলে আল্লাহরই আনুগত্য করল।” (ঐ ৮০ আয়াত)তিনি অন্যত্রে বলেছেন,﴾ وَإِنَّكَ لَتَهۡدِيٓ إِلَىٰ صِرَٰطٖ مُّسۡتَقِيمٖ ٥٢ صِرَٰطِ ٱللَّهِ ﴿ [الشورا: ٥٢، ٥٣]অর্থাৎ “আর নিশ্চয়ই তুমি সরল পথ প্রদর্শন কর---সেই আল্লাহর পথ----।” (সূরা শুরা ৫২ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ فَلۡيَحۡذَرِ ٱلَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنۡ أَمۡرِهِۦٓ أَن تُصِيبَهُمۡ فِتۡنَةٌ أَوۡ يُصِيبَهُمۡ عَذَابٌ أَلِيمٌ ﴿ [النور: ٦٣]অর্থাৎ “সুতরাং যারা তার আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় অথবা কঠিন শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করবে।” (সূরা নূর ৬৩ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ وَٱذۡكُرۡنَ مَا يُتۡلَىٰ فِي بُيُوتِكُنَّ مِنۡ ءَايَٰتِ ٱللَّهِ وَٱلۡحِكۡمَةِۚ ﴿ [الاحزاب: ٣٤]অর্থাৎ “আল্লাহর আয়াত ও জ্ঞানের কথা যা তোমাদের গৃহে পঠিত হয়, তা তোমরা স্মরণ রাখ।” (সূরা আহযাব ৩৪ আয়াত)

কিয়ামতের সমাবেশ: নবীর পর দ্বীনে নতুন পথ থেকে সতর্কতা

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১০/১৬৯

عن ابن عباس، رضي الله عنهما، قال: قام فينا رسول الله ﷺ بموعظة فقال: «يا أيها الناس إنكم محشورون إلى الله تعالى حفاة عراة غرلاً (كما بدأنا أول خلق نعيده وعداً علينا إنا كنا فاعلين) (الأنبياء: 103) ألا وإن أول الخلائق يكسى يوم القيامة إبراهيم، ﷺ، ألا وإنه سيجاء برجال من أمتي، فيؤخذ بهم ذات الشمال؛ فأقول: يارب أصحابي؛ فيقال: إنك لا تدري ما أحدثوا بعدك، فأقول كما قال العبد الصالح: (وكنت عليهم شهيداً ما دمت فيهم) إلى قوله: ( العزيز الحكيم) ) (المائدة : 117،118) فيقال لي : إنهم لم يزالوا مرتدين على أعقابهم منذ فارقتهم» (متفق عليه).

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

ইবনু আব্বাস (রাঃ) একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নসীহত করার জন্য আমাদের মাঝে দাঁড়ালেন। অতঃপর তিনি বললেন, ’’হে লোক সকল! তোমাদেরকে আল্লাহর নিকট উলঙ্গ পা, উলঙ্গ দেহ ও খতনাবিহীন অবস্থায় একত্রিত করা হবে।(আল্লাহ বলেন,) ’যেমন আমি প্রথম সৃষ্টি করেছি আমি পুনর্বার তাকে সেই অবস্থায় ফিরাবো। এটা আমার প্রতিজ্ঞা, যা আমি পুরা করব।’ সূরা আম্বিয়া ১০৪ আয়াত)জেনে রাখো! কেয়ামতের দিন সৃষ্টির মধ্যে সর্বপ্রথম ইব্রাহীম (আঃ)-কে বস্ত্র পরিধান করানো হবে। আরো শুনে রাখ! সে দিন আমার উম্মতের কিছু লোককে নিয়ে আসা হবে অতঃপর তাদেরকে বাম দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। তারপর আমি বলব, ’হে প্রভু! এরা তো আমার সঙ্গী।’ কিন্তু আমাকে বলা হবে, ’এরা আপনার (মৃত্যুর) পর (দ্বীনে) কী কী নতুন নতুন রীতি আবিষ্কার করেছিল, তা আপনি জানেন না।’(এ কথা শুনে) আমি বলব--যেমন নেক বান্দা (ঈসা (আঃ)) বলেছিলেন, ’’যতদিন আমি তাদের মধ্যে ছিলাম, ততদিন আমি ছিলাম তাদের ক্রিয়াকলাপের সাক্ষী। কিন্তু যখন তুমি আমাকে তুলে নিলে, তখন তুমিই তো ছিলে তাদের ক্রিয়াকলাপের পর্যবেক্ষক। আর তুমি সর্ববস্তুর উপর সাক্ষী। তুমি যদি তাদেরকে শাস্তি দাও, তবে তারা তোমারই বান্দা। আর যদি তাদেরকে ক্ষমা কর, তবে তুমি তো পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।’ (সূরা মায়েদা ১১৭ আয়াত)অতঃপর আমাকে বলা হবে যে, ’নিঃসন্দেহে আপনার ছেড়ে আসার পর এরা (ইসলাম থেকে) পিছনে ফিরে গিয়েছিল।’[১]

মুসলিম ২৮৬০, ৩৩৪৯, ৩৪৪৭, ৪৬২৫, ৪৬২৬, ৪৭৪০, ৬৫২৪, ৬৫২৫, ৬৫২৬, তিরমিযী ২৪২৩, ৩১৬৭, ৩৩৩২, নাসায়ী ২০৮১, ২০৮২, ২০৮৭, আহমাদ ১৯১৬, ১৯৫১, ২০২৮, ২০৯৭, ২২৮১, ২৩২৩

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১০/১৬৯-এর সারসংক্ষেপ

মূল বিষয়: কিয়ামত। এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, সবাই আল্লাহর কাছে উলঙ্গ পা, উলঙ্গ দেহ ও খতনাবিহীন অবস্থায় একত্র হবে। তিনি বলেন, কিয়ামতের দিন প্রথমে ইবরাহীম (আ.)-কে পোশাক পরানো হবে। এরপর তাঁর উম্মতের কিছু লোককে আনা হবে এবং বাম দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। তিনি বলবেন, এরা তো আমার সঙ্গী। কিন্তু তাঁকে জানানো হবে, তাঁর পর তারা দ্বীনে নতুন নতুন বিষয় করেছে এবং পেছনে ফিরে গেছে। তখন তিনি ঈসা (আ.)-এর কথার মতো জবাব দেবেন। এই হাদিসে কিয়ামতের ভয়, রাসূলের পথ ধরে থাকার গুরুত্ব এবং নবীর পর দ্বীনে নতুন রীতি আনার বিপদ স্পষ্টভাবে এসেছে। তাই নিজের আমলকে নবীর শেখানো পথের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা জরুরি।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কিয়ামতের দিন সবাইকে আল্লাহর সামনে একত্র করা হবে।
  • নবীর পর দ্বীনে নতুন রীতি আনা ভয়ংকর বিষয়।
  • রাসূলের পথ থেকে ফিরে যাওয়া বড় ক্ষতির কারণ।
  • কিয়ামতের হিসাবের কথা মনে রাখা মানুষকে সতর্ক রাখে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন