১/২. অধ্যায়ঃ

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৪/১৭ - তওবার দরজা খোলা

তওবার বিবরণ

উলামা সম্প্রদায়ের উক্তি এই যে, প্রত্যেক পাপ থেকে তওবা করা (চিরতরে প্রত্যাবর্তন করা) ওয়াজেব (অবশ্য-কর্তব্য)। যদি গোনাহর সম্পর্ক আল্লাহর (অবাধ্যতার) সঙ্গে থাকে এবং কোন মানুষের অধিকারের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না থাকে, তাহলে এ ধরনের তওবা কবুলের জন্য তিনটি শর্ত রয়েছে।১। পাপ সম্পূর্ণরূপে বর্জন করতে হবে।২। পাপে লিপ্ত হওয়ার জন্য অনুতপ্ত ও লজ্জিত হতে হবে।৩। ঐ পাপ আগামীতে দ্বিতীয়বার না করার দৃঢ় সঙ্কল্প করতে হবে। সুতরাং যদি এর মধ্যে একটি শর্তও লুপ্ত হয়, তাহলে সেই তওবা বিশুদ্ধ হবে না।পক্ষান্তরে যদি সেই পাপ মানুষের অধিকার সম্পর্কিত হয়, তাহলে তা গ্রহণীয় হওয়ার জন্য চারটি শর্ত আছে। উপরোক্ত তিনটি এবং চতুর্থ শর্ত হল, হকদারদের হক ফিরিয়ে দিতে হবে। যদি অবৈধ পন্থায় কারো মাল বা অন্য কিছু নিয়ে থাকে, তাহলে তা ফিরিয়ে দিতে হবে। আর যদি কারো উপর মিথ্যা অপবাদ দেয় অথবা অনুরূপ কোনো দোষ করে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে শাস্তি নিতে নিজেকে পেশ করতে হবে অথবা তার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে। যদি কারো গীবত করে থাকে, তাহলে তার কাছে তা বৈধ করে নেবে।সমস্ত পাপ থেকে তওবাহ করা ওয়াজেব। আংশিক পাপ থেকে তওবাহ করলে সেই তওবাহ হকপন্থী আলেমগণের নিকট গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হবে এবং অবশিষ্ট পাপ রয়ে যাবে। তওবা ওয়াজেব হওয়ার ব্যাপারে কুরআন ও হাদীসে প্রচুর প্রমাণ রয়েছে এবং এ ব্যাপারে উম্মতের ঐকমত্যও বিদ্যমান।আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,﴾ وَتُوبُوٓاْ إِلَى ٱللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ ٱلۡمُؤۡمِنُونَ لَعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُونَ ﴿ [النور: ٣١]অর্থাৎ “হে ঈমানদারগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর কাছে তওবা (প্রত্যাবর্তন) কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।” (সূরা নূর ৩১ আয়াত)﴾ وَأَنِ ٱسۡتَغۡفِرُواْ رَبَّكُمۡ ثُمَّ تُوبُوٓاْ إِلَيۡهِ ﴿ [هود: ٣]অর্থাৎ “তোমরা নিজেদের প্রতিপালকের নিকট (পাপের জন্য) ক্ষমা প্রার্থনা কর, অতঃপর তাঁর কাছে তওবা (প্রত্যাবর্তন) কর।” (সূরা হূদ ৩ আয়াত)তিনি আরো বলেছেন,﴾ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ تُوبُوٓاْ إِلَى ٱللَّهِ تَوۡبَةٗ نَّصُوحًا ﴿ [التحريم: ٨]অর্থাৎ “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর নিকট তওবা কর বিশুদ্ধ তওবা।” (সূরা তাহরীম ৮ আয়াত)

তওবার সুযোগ: দিন-রাত আল্লাহর দিকে ফিরে আসা

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৪/১৭

وعن أبي مُوسى عَبْدِ اللَّهِ بنِ قَيْسٍ الأَشْعَرِيِّ، رضِي االله عنه، عن النَّبِيَّ صَلّى االلهُ عَلَيْهِ وسَلَّم قال: «إِن االله تعالى يبْسُطُ يدهُ بِاللَّيْلِ ليتُوب مُسيءُ النَّهَارِ وَيبْسُطُ يَدهُ بالنَّهَارِ ليَتُوبَ مُسِيءُ اللَّيْلِ حتَّى تَطْلُعَالشَّمْسُ مِن مغْرِبِها» رواه مسلم

আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (ﷺ) বলেছেন, ’’নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা নিজ হাত রাতে প্রসারিত করেন; যেন দিনে পাপকারী (রাতে) তওবা করে এবং দিনে তাঁর হাত প্রসারিত করেন; যেন রাতে পাপকারী (দিনে) তওবা করে। যে পর্যন্ত পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয় না হবে, সে পর্যন্ত এই রীতি চালু থাকবে।’[১]

মুসলিম ২৭৫৯, আহমাদ ১৯০৩৫, ১৯১২২

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৪/১৭-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে তওবার দরজা খোলা থাকার কথা এসেছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, আল্লাহ রাতে তাঁর হাত প্রসারিত করেন যেন দিনের পাপকারী তওবা করে, আর দিনে হাত প্রসারিত করেন যেন রাতের পাপকারী তওবা করে। এই সুযোগ পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয় না হওয়া পর্যন্ত থাকবে। হাদিসের ভাষা বান্দাকে ভয় নয়, আশাও দেয়। দিনে ভুল করলে রাত আছে, রাতে ভুল করলে দিন আছে—অর্থাৎ আল্লাহর দিকে ফিরে আসার সুযোগ আছে। তবে সুযোগ আছে বলে দেরি করা ঠিক নয়। কারণ হাদিসে একটি সীমার কথাও আছে। তাই তওবা আজই করা উচিত, বারবার আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত এবং ভুল থেকে সরে আসার চেষ্টা করা উচিত।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • দিনের পাপকারী রাতে তওবা করার সুযোগ পায়।
  • রাতের পাপকারী দিনে তওবা করার সুযোগ পায়।
  • তওবার সুযোগের একটি শেষ সীমা আছে।
  • ভুলের পর দেরি না করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা দরকার।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন