১৮/৩২৬. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/১৭৪১ - মুসলিমকে কাফের বলার ভয়াবহতা
কোন মুসলিমকে ‘কাফের’ বলে ডাকা হারাম
মুসলিমকে কাফের বলা: জবান সংযমের বড় শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ১/১৭৪১
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১/১৭৪১
عَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: «إِذَا قَالَ الرَّجُلُ لأَخِيهِ : يَا كَافِرُ، فَقَدْ بَاءَ بِهَا أَحَدُهُمَا، فَإِنْ كَانَ كَمَا قَالَ وَإلاَّ رَجَعَتْ عَلَيْهِ». متفق عليه
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’যখন কেউ তার মুসলিম ভাইকে ’কাফের’ বলে, তখন তাদের উভয়ের মধ্যে একজনের উপর তা বর্তায়, যা বলেছে তা যদি সঠিক হয়, তাহলে তো ভাল। নচেৎ [যে বলেছে] তার উপর ঐ কথা ফিরে যায় [অর্থাৎ সে ’কাফের’ হয়]।’’(বুখারী ও মুসলিম)[১]
সহীহুল বুখারী ৬১০৪, মুসলিম ৬০, তিরমিযী ২৬৩৭, আবূ দাউদ ৪৬৮৭, আহমাদ ৪৬৭৩, ৪৭৩১, ৫০১৫, ৫০৫৭, ৫২৩৭, ৫৭৯০, ৫৮৭৮, ৫৮৯৭, ৬২৪৪, মুওয়াত্তা মালিক ১৮৪৪
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/১৭৪১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) খুব স্পষ্টভাবে জবানের একটি বড় বিপদ থেকে সতর্ক করেছেন। কোনো মুসলিম ভাইকে হালকাভাবে ‘কাফের’ বলা সাধারণ কথা নয়। হাদিসের ভাষা অনুযায়ী, এ কথা বলার পর বিষয়টি দুজনের একজনের উপর বর্তায়। যদি কথাটি সত্য হয়, তাহলে বাস্তবতা তাই। কিন্তু যদি তা সত্য না হয়, তাহলে সেই কথা যে বলেছে তার উপর ফিরে যায়। তাই তাকফির বা কাউকে কাফের বলা নিয়ে মুমিনকে খুব সতর্ক থাকতে হবে। রাগ, ঝগড়া, ভুল বোঝাবুঝি বা ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণে এমন ভয়ংকর শব্দ ব্যবহার করা উচিত নয়। এই হাদিস আমাদের শেখায়, কথা বলার আগে যাচাই, ভয় ও দায়িত্ববোধ থাকা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কাউকে কাফের বলা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।
- ভুলভাবে এমন কথা বললে তা বক্তার দিকেই ফিরে যেতে পারে।
- মুসলিম ভাইয়ের ব্যাপারে জবান সংযত রাখা জরুরি।
- রাগের সময় কঠিন ধর্মীয় শব্দ ব্যবহার থেকে বাঁচতে হবে।
